একটা পোস্ট থামিয়ে দিল হাজারো কথার কচকচি। গুজরাত টাইটান্সের সহকারী কোচ নাঈম আমিনকে উদ্দেশ করে বিরাট কোহলি লিখলেন: ‘প্র্যাকটিসে সাহায্যের জন্য ধন্যবাদ ভাই। তোমায় দেখতে পেয়ে সবসময়ই ভাল লাগে।’

আইপিএলের কোচের পাশে বিরাট
শেষ আপডেট: 8 August 2025 19:18
দ্য ওয়াল ব্যুরো: একদিনে জোড়া ছবি। প্রথমটা এক ভক্তের শেয়ার করা। তাই দেখে অনুরাগীদের হা-হুতাশ, কারও কারও বুকফাটা আর্তনাদ! সাদা দাড়ি কেন? বয়স যেন একধাক্কায় অনেকটাই বেড়ে গিয়েছে! তবে কি বিরাট কোহলি পাকাপাকিভাবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের পাট চুকোতে চলেছেন?
প্রশ্ন, জল্পনা, গুঞ্জন—কোনওটাই ঘণ্টাখানেকের বেশি স্থায়ী হল না। এবার নিজেই ছাড়লেন দু’নম্বর ছবি। ট্রেনিংয়ের ফাঁকে তোলা। ইনডোর সেশনে। মুখে সেই পরিচিত হাসি, হাতে সেই ট্রেডমার্ক ‘এমআরএফে’র স্টিকার লাগানো ব্যাট আর ছবির তলায় আশ্বাস-জাগানো ক্যাপশন। যার সারমর্ম: আমি কোথাও যাচ্ছি না। নতুন মরশুম নয়া উদ্যমে শুরুর প্রস্তুতি নিচ্ছি মাত্র!
একটা পোস্ট থামিয়ে দিল হাজারো কথার কচকচি। গুজরাত টাইটান্সের সহকারী কোচ নাঈম আমিনকে উদ্দেশ করে বিরাট কোহলি লিখলেন: ‘প্র্যাকটিসে সাহায্যের জন্য ধন্যবাদ ভাই। তোমায় দেখতে পেয়ে সবসময়ই ভাল লাগে।’ সামান্য ইনস্টাগ্রাম পোস্ট থেকে এটা পরিষ্কার স্পষ্ট, বিরাট এখনই থামছেন না। বরং প্রস্তুতি নিচ্ছেন নয়া উদ্যমে ফিরে আসার। তিন মাস পর ব্যাট হাতে তাঁর এই একখানা ছবি যেন নিঃশব্দে ঘোষণা করছে—শেষ হয়নি এখনও, জার্নি অনেকটা বাকি।
প্রসঙ্গত, নাঈম আমিন গুজরাত টাইটান্সের সহকারী কোচ। ইংল্যান্ডের ‘মাইটি উইলো’ নামে একটি অ্যাকাডেমির প্রতিষ্ঠাতা। অ্যাকাডেমির শাখা রয়েছে বার্কশায়ার, বাকিংহ্যামশায়ার এবং লন্ডনে। এক সময় খেলেছেন সারি কাউন্টি (২০০৮) এবং বাকিংহ্যামশায়ারের (২০০৭) হয়ে। ২০১১ সালে ছিলেন নরওয়ে জাতীয় দলের প্রধান কোচ। এছাড়া, ২০১৩ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত এমসিসি ফাউন্ডেশনের কোচিংয়ের দায়িত্ব সামলান। ছিলেন সানরাইজার্স হায়দরাবাদের সহকারী কোচ (২০১৮)।
আইপিএল শেষ হওয়ার পর থেকেই জনসমক্ষে বিরাটের দেখা মিলছিল না। হঠাৎ করেই যেন শীতঘুমে চলে গিয়েছিলেন। দু-একবার দেখা যায়নি, এমন নয়—উইম্বলডনে যান, সস্ত্রীক। তারপর লন্ডনে যুবরাজ সিংয়ের বিশেষ ইভেন্টে উদয় হন। কিন্তু সেখানে ব্যাট হাতে অনুশীলনের কোনও চিহ্ন ছিল না। সমর্থকেরা ধরে নেন: হয় শরীর-মনের বিশ্রামের জন্য জন্য বিরাট ছুটি নিয়েছেন, নয়তো এটাই বিদায়ের প্রস্তুতি। আর ঠিক তখনই দাড়ির ছবিটা ছড়িয়ে পড়ে। কোহলির মুখে বয়সের ছাপ দেখে অনেকেই ধরে নেন—এটাই বুঝি শেষের শুরু।
প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের টি২০ বিশ্বকাপ জেতার পরই আন্তর্জাতিক টি২০ থেকে সরে দাঁড়ান কোহলি। সেটা ছিল প্রত্যাশিত। কিন্তু পরের ধাক্কাটা আসে ১২ মে, ২০২৪—টেস্ট ক্রিকেট থেকে আচমকা বিদায়! লাল বলের ক্রিকেটের এই ফরম্যাটটাই ছিল বিরাটের সবচেয়ে প্রিয়। তাই এমন সিদ্ধান্ত ভেঙে দেয় অনেক অনুরাগীর হৃদয়।
অবসর নিয়ে এখনও কোহলির মুখে তেমন কিছু শোনা যায়নি। বরং, বছরের গোড়ায় এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, ‘আমার পরবর্তী লক্ষ্য বিশ্বকাপ খেলা!’ যা অনুষ্ঠিত হবে দক্ষিণ আফ্রিকায়। দু’বছর বাদে, ২০২৭ সালে।
তবে লক্ষ্য থাকলেই তো হবে না। দু’বছর বাদে কোহলি প্রায় ৩৯-এর কাছাকাছি পৌঁছবেন। আর তাই, বোর্ড এখন আর তাঁকে ‘অটোমেটিক চয়েস’ ভাবছে না। পিটিআই রিপোর্টে বোর্ডের এক সিনিয়র আধিকারিক বলেছেন, ‘বিরাট এবং রোহিত—কেউই এখন আর নিশ্চিত নন। দু’জনেই তখন চল্লিশের কাছাকাছি। তাই আমরা ওঁদের সঙ্গে সৎ, পেশাদার আলোচনা করব!’
পরিসংখ্যান বলছে, বিশ্বকাপের আগে ভারত খেলবে অন্তত ২৭টি একদিনের ম্যাচ—২০২৬ পর্যন্ত। প্রস্তুতিতে খেলতে হবে আরও কিছু ওডিআই। সেই প্রতিটি লড়াই কোহলির জন্য পরীক্ষা। ফিটনেস, ফর্ম এবং ধারাবাহিকতা—তিনটি বিষয় বজায় থাকলে চূড়ান্ত দলে জায়গা ধরে রাখা সম্ভব।