গুয়াহাটিতে বুমরাহকে বৈভবের জোড়া ছক্কা কি ৩৭ বছর আগের সচিন-কাদির দ্বৈরথকে ফিরিয়ে আনল? ১৫ বছরের কিশোরের ব্যাটে কিংবদন্তির ছায়া দেখছে ক্রিকেটবিশ্ব। পেশোয়ার থেকে বর্ষাপাড়া—ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি নিয়ে বিস্তারিত পড়ুন।

বৈভব ও সচিন
শেষ আপডেট: 8 April 2026 11:29
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গুয়াহাটির বর্ষাপাড়া স্টেডিয়াম। গতকাল রাতে বৃষ্টি থামতে-না-থামতেই এগারো ওভারের যুদ্ধ শুরু হল। মুম্বই ইন্ডিয়ান্স বনাম রাজস্থান রয়্যালস। যে ম্যাচের দ্বিতীয় ওভারেই এমন একটা মুহূর্ত এল, যা দেখে ঈষৎ পুরনো প্রজন্মের মাথায় উসকে উঠল ৩৭ বছর আগের স্মৃতি। সেই ক্রিকেট। একইভাবে মুখোমুখি দুই প্রজন্মের তারকা। একদিকে ভারতের উঠতি ব্যাটার সচিন রমেশ তেন্ডুলকর। উল্টোদিকে আব্দুল কাদির। পাকিস্তানের দুঁদে স্পিনার। ভেন্যু: পেশোয়ার। দুটো লড়াইয়ের কালভেদ, মাত্রাভেদ থাকলেও কোথাও গিয়ে সুতো দুটো কি এক বিন্দুতে মিলে যায়নি? উঠছে প্রশ্ন।
ছোট রান আপের আগে বল হাতে দাঁড়িয়ে জসপ্রীত বুমরাহ (Jasprit Bumrah) — এই মুহূর্তে বিশ্বের অন্যতম সেরা পেসার। অন্য দিকে ১৫ বছরের বৈভব সূর্যবংশী (Vaibhav Sooryavanshi)। যাঁর কাছে বয়সটা যেন স্রেফ জার্সি নম্বরের মতো, কোনও বাধা নয়। সচিন যেমন সেদিন রেয়াত না করে কাদিরকে ‘অভ্যর্থনা’ জানিয়েছিলেন, বৈভবও একই মন্ত্রে বেছে নিলেন মহাজনপন্থা। মারলেন ছক্কা। তাও একটা নয়, দু-দুটো। যে বোলারের সামনে টিকে থাকতে পোড়খাওয়া ব্যাটারদের নাভিশ্বাস ওঠে, তাঁকে এমন জামাইআদর জানালেন আনকোরা কিশোর, যা দেখে ক্রিকেটের ঈশ্বরের সঙ্গে তুলনা-প্রতিতুলনা প্রত্যাশিতভাবে শুরু হয়ে গিয়েছে।
The sheer audacity of Vaibhav Sooryavanshi 🫡
🎥 The 1️⃣5️⃣ year old welcomes Jasprit Bumrah with a maximum! 👏#TATAIPL | #KhelBindaas | #RRvMI | @rajasthanroyals pic.twitter.com/cI0zqCXz0X— IndianPremierLeague (@IPL) April 7, 2026
১৯৮৯ সালের ১৬ ডিসেম্বর। পেশোয়ার। ১৬ বছরের সচিন তেন্ডুলকর (Sachin Tendulkar) মুখোমুখি সে যুগের অন্যতম স্পিনার আব্দুল কাদিরের (Abdul Qadir)। ছিটেফোঁটা সম্মান না দেখিয়ে এক ওভারে চারখানা ছক্কা হাঁকিয়েছিলেন সচিন। ১৮ বলে ৫৩ রান। এই ইনিংস বুঝিয়ে দেয়—পুরনো প্রজন্ম অস্তমিত, নতুন এক রাজার রাজত্ব শুরু হতে চলেছে।
কাদির সেদিন ক্রিজের উল্টোদিকে দাঁড়ানো কিশোর সচিনকে ললিপপ দেননি। সমান দাপটে বোলিং করেছিলেন, ঠিক যেভাবে বিশ্বের বাকি সেরা ব্যাটারদের আটকে রাখতেন। আসলে পরোয়া করেননি সচিনই। গুয়াহাটিতে সেই গল্পেরই উন্নততর পুনরাবৃত্তি দেখল ক্রিকেটবিশ্ব।
প্রথম বলে বুমরাহ বোধ হয় ভুলে গেছিলেন সামনে কে দাঁড়িয়ে! লেন্থ ডেলিভারি। একটু বেশি হিটজোনে পড়ল। বৈভব লং অনের উপর দিয়ে উড়িয়ে দিলেন। স্টেডিয়াম গর্জে উঠল! দেখে বুমরাহ মুচকি হাসলেন।
তারপর পরিকল্পনা বদলালেন। স্লোয়ার বল—এবার কোমরের দিকে টার্গেট। ফাঁদ পেতে রাখলেন। কিন্তু বৈভব সেই জালে পড়ার বান্দা নয়! লেন্থ পড়ে ফেললেন আগেই। পিছনে সরে গিয়ে কব্জির মোচড়ে ডিপ স্কোয়ার লেগের উপর দিয়ে ফের ছক্কা। এবার বুমরাহের অভিব্যক্তি বদলে গেল। হাসি এবারও ছিল… কিন্তু সেটা নতুন এক প্রতিভাকে স্বীকৃতি জানানোর হাসি। অনিল কুম্বলে সঙ্গত কারণেই বললেন, ‘বৈভব বুমরাহকে সেট আপ করেছে। আমরা বুমরাহকে ব্যাটারদের সেট আপ করতে দেখেছি। কিন্তু এবার উল্টো হল।’
বৈভব কাল স্বভাবসিদ্ধ স্টাইলে ১৪ বলে ৩৯ রান করলেন। কিন্তু সংখ্যাটা আসল বিষয় নয়। যে বার্তাটা তিনি ছড়িয়ে দিলেন, সেটা হল—বয়স কোনও বাধা নয়, যখন প্রতিভা আকাশছোঁয়া! পাশাপাশি বিসিসিআইয়ের নির্বাচকমণ্ডলীর উদ্দেশেও রেখে দিলেন চর্চিত প্রশ্ন—আমায় আইপিএলের পর ইংল্যান্ড সিরিজে নেওয়া হবে না কেন?
৩৭ বছর আগে পেশোয়ারে সচিন যা করেছিলেন, গুয়াহাটিতে বৈভব তার প্রতিধ্বনি তুললেন। পার্থক্য শুধু একটা—তখন ‘ঝিরঝিরে ভিডিও’ ছিল। এবার পুরো দুনিয়া একই শোডাউন ‘হাই-ডেফিনিশনে’ দেখল।