আসল প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। সরকারি বক্তব্যের ইউ-টার্নে বিতর্ক আরও ঘনীভূত হল বলেই মনে করছেন ক্রিকেটমহলের অনেকেই।

বাংলাদেশ ক্রিকেট টিম
শেষ আপডেট: 11 February 2026 13:38
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কথার মারপ্যাঁচে হঠাৎই বদলে গেল অবস্থান। টি–২০ বিশ্বকাপ (T20 World Cup 2026) না খেলার সিদ্ধান্ত নাকি সরকারের নয়, ক্রিকেটার ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (Bangladesh Cricket Board, BCB)। এমনটাই দাবি করলেন বাংলাদেশের ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল (Asif Nazrul)। অথচ কিছুদিন আগেই তিনিই বলেছিলেন, ভারতের মাটিতে গ্রুপ পর্ব খেলতে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত সরকার নিয়েছে।
আগের অবস্থান কী ছিল?
বিতর্কের সূত্রপাত নিরাপত্তা ইস্যু নিয়ে। ভারতের মাটিতে বিশ্বকাপের ম্যাচ খেলতে না যাওয়ার সিদ্ধান্তের পর সংবাদমাধ্যমে আসিফ নজরুল স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন—এটা সরকারের সিদ্ধান্ত। ক্রিকেটারদের সঙ্গে বৈঠক হয়েছিল ঠিকই, কিন্তু মূল সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রশাসন। এমনটাই দাবি ওঠে বিভিন্ন রিপোর্টে। নজরুলের বক্তব্য, বৈঠকের উদ্দেশ্য ছিল ক্রিকেটারদের বোঝানো—কেন সরকার এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এমনকি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (International Cricket Council, ICC) কাছ থেকে ‘ন্যায়বিচার’ না পাওয়ার অভিযোগও তুলেছিলেন তিনি।
কেন হঠাৎ পাল্টি?
অথচ টুর্নামেন্ট যখন পুরোদমে চলছে, বাংলাদেশ স্বেচ্ছায় অনুপস্থিত, সেই আবহে এবার সুর বদল। সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারে নজরুল বলছেন, ‘বিশ্বকাপ না খেলার সিদ্ধান্তে অনুতাপের প্রশ্নই নেই। এই সিদ্ধান্ত ক্রিকেটার এবং বিসিবি যৌথভাবে নিয়েছে।’ তাঁর কথায়, দেশের নিরাপত্তা, জনগণের স্বার্থ ও জাতীয় মর্যাদারক্ষার জন্য এই ‘ত্যাগ’ স্বীকার করা হয়েছে।
এই মন্তব্য ঘিরেই প্রশ্ন উঠছে—তাহলে আগে সরকারের সিদ্ধান্তের কথা বলা হয়েছিল কেন? ক্রিকেটারদের ভূমিকা তখন আড়ালে রয়ে যায়? নাকি এবার বিপুল চাপের মুখে অবস্থান বদল?
আইসিসির ভূমিকা ও নতুন সমীকরণ
বিসিবি-র আইসিসির কাছে আবেদন ছিল, ভারতের বদলে শ্রীলঙ্কায় ম্যাচ সরিয়ে নেওয়া হোক। কিন্তু সূচিতে কোনও পরিবর্তন হয়নি। পাকিস্তানের ম্যাচ বয়কট ইস্যুর পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়। শেষমেশ আইসিসি জানায়, বাংলাদেশের বিরুদ্ধে কোনও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না। বরং, ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট আয়োজনের ক্ষেত্রে তাদের আয়োজক হিসেবে বিবেচনা করা হবে। নজরুল একেই ‘দারুণ সাফল্য’ বলে উল্লেখ করেছেন এবং বিসিবিকে জানিয়েছেন অভিনন্দন। কিন্তু আসল প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। সরকারি বক্তব্যের ইউ-টার্নে বিতর্ক আরও ঘনীভূত হল বলেই মনে করছেন ক্রিকেটমহলের অনেকেই।