সব মিলিয়ে বড় খবর দশ দিনের টানাপড়েনের পর ভারত–পাকিস্তান ম্যাচ হচ্ছে। বাণিজ্যিকভাবে যা টুর্নামেন্টের কেন্দ্রবিন্দু। কিন্তু পর্দার আড়ালে কে কাকে কতটা চাপে ফেলল, সেই বিতর্ক এখনই থামছে না।

নাজম শেঠি
শেষ আপডেট: 11 February 2026 11:16
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারত–ম্যাচ বয়কটের ডাক। ১৫ দিনের টানটান উত্তেজনা। তারপর আচমকা ইউ-টার্ন। ২০২৬ সালের টি-২০ বিশ্বকাপে (T20 World Cup 2026) ১৫ ফেব্রুয়ারি কলম্বোয় মহারণ হবে—পাকিস্তানের এমন ঘোষণায় আপাতত জট কাটলেও বিতর্ক থামেনি। উল্টে আগুনে ঘি ঢেলেছেন প্রাক্তন পিসিবি প্রধান নাজম শেঠি (Najam Sethi)। তাঁর দাবি, ‘পিছু হটেছে আইসিসি (ICC), পাকিস্তান নয়।’
‘আমরা শক্ত ছিলাম’
শেঠির বক্তব্য, পাকিস্তান সরকার চাপে মাথা নোয়ায়নি। বরং, আইসিসিই নরম হয়েছে। তাঁর মোদ্দা বক্তব্য, পিসিবি নাকি সব দিক খতিয়ে দেখেছিল। দেশ-বিদেশের আইনজীবীদের সঙ্গে পরামর্শ চলছিল। সম্ভাব্য শাস্তির ঝুঁকিও যাচাই করা হয়েছিল। ‘সবচেয়ে বেশি হলে একটা পয়েন্ট কাটা যেত, তার বেশি কিছু নয়!’ সম্ভাব্য শাস্তি নিয়ে জোর গলায় দাবি নাজমের। তিনি আরও জানান, আইসিসি বুঝেছিল বিষয়টা জটিল হয়ে উঠতে পারে। তাই তারা আলোচনায় নামে। আইসিসির ডেপুটি চেয়ারম্যান ইমরান খাজা (Imran Khawaja) এবং বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (Bangladesh Cricket Board) প্রতিনিধিরা আলোচনায় সক্রিয় ভূমিকা নেন বলেও বক্তব্য শেঠির।
বাংলাদেশ ইস্যু ও আইসিসির ঘোষণা
এই অচলাবস্থার কেন্দ্রে ছিল বাংলাদেশ। আগেই নিরাপত্তা-উদ্বেগের কথা তুলে তারা ভারত সফরে আপত্তি জানায়। আইসিসি শাস্তির হুঁশিয়ারিও দিয়েছিল বলে দাবি। শেষ পর্যন্ত বিশ্বক্রিকেটের নিয়ামক সংস্থা জানায়, বাংলাদেশ কোনও সাজা পাবে না। উলটে, ২০২৮–৩১ চক্রে তাদের একটি আইসিসি ইভেন্ট, সম্ভবত অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ (U19 World Cup), আয়োজনের সুযোগ দেওয়া হবে।
এই নিয়ে বর্তমান পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নকভি (Mohsin Naqvi) বলেন, ‘বাংলাদেশের সম্মান রক্ষা হয়েছে বলেই আমরা ম্যাচ খেলতে রাজি হয়েছি।’ যদিও পাকিস্তান কী পেল, আইসিসির বিবৃতিতে তা স্পষ্ট নয়।
টাকার খেলা: পিএসএল বনাম আইসিসি রাজস্ব
শেঠির আরও এক বড় দাবি—পাকিস্তান আর আইসিসির টাকার উপর নির্ভরশীল নয়। পাকিস্তান সুপার লিগ (Pakistan Super League) থেকে এখন বেশি আয় হয়। তাঁর মন্তব্য, ‘একসময় আইসিসির টাকায় চলতাম। এখন আর নয়।’ যদিও পিটিআই (PTI) সূত্রে খবর, ২০২৪–২৭ আর্থিক চক্রে পাকিস্তানের ভাগ প্রায় ১৪৪ মিলিয়ন ডলার। বছরে প্রায় ৩৮ মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত পাওয়ার কথা। পিএসএল থেকেও প্রায় ৪২ মিলিয়ন ডলার আয় হয় বলে উল্লেখ। অর্থাৎ, আইসিসিকে চটালে অর্থনৈতিক ঝুঁকির সম্ভাবনা পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যায় না। তবু শেঠির ইঙ্গিত, আলোচনায় পাকিস্তান কিছু ছাড় আদায় করেছে। এমনকি মার্চ মাসে আরও ‘কনসেশন’ সামনে আসতে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
সব মিলিয়ে বড় খবর দশ দিনের টানাপড়েনের পর ভারত–পাকিস্তান ম্যাচ হচ্ছে। বাণিজ্যিকভাবে যা টুর্নামেন্টের কেন্দ্রবিন্দু। কিন্তু পর্দার আড়ালে কে কাকে কতটা চাপে ফেলল, সেই বিতর্ক এখনই থামছে না। টি-২০ বিশ্বকাপের আগে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক দাবাখেলাটা আরও জমে উঠল।