শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থাকেন ১০৯ রানে। তাঁর শতরানের ভর করেই ভারত তোলে ৩৫৩/৮। স্কোরবোর্ডে এই রান ওঠার পর ম্যাচের ফল অনেকটাই পরিষ্কার হয়ে যায়।

নায়ক বিহান
শেষ আপডেট: 28 January 2026 10:35
দ্য ওয়াল ব্যুরো: অনূর্ধ্ব–১৯ বিশ্বকাপে ভারতের দাপট অব্যাহত। সুপার সিক্স পর্বের প্রথম ম্যাচেই আয়োজক জিম্বাবোয়েকে কার্যত তছনছ করলেন বৈভব সূর্যবংশীরা। বুলাওয়েওর কুইন্স স্পোর্টস ক্লাবে (Queen’s Sports Club, Bulawayo) মঙ্গলবার ২০৪ রানের বিশাল জয়ে টিম ইন্ডিয়া আবার বুঝিয়ে দিল, টুর্নামেন্টে কেন তারা ফেভারিটদের তালিকায় শীর্ষে।
গতকালের জয়ের নায়ক বিহান মালহোত্রা (Vihaan Malhotra)। চাপের মুখে নামলেও এক মুহূর্তের জন্য বিচলিত হননি। ব্যাট হাতে খেললেন দায়িত্বশীল, ঠান্ডা মাথার ইনিংস। অপরাজিত ১০৯ রানের শতরানেই ম্যাচের গতিপথ একেবারে ভারতের দিকে ঘুরে যায়।
বিস্ফোরক শুরু, তারপর নিখুঁত নিয়ন্ত্রণ
টস জিতে ব্যাট করতে নেমে ভারতের শুরুটা ছিল দাপুটে। ওপেনার বৈভব সূর্যবংশী (Vaibhav Suryavanshi) নতুন বল হাতে জিম্বাবোয়ের বোলারদের উপর চড়াও হন। মাত্র ২৪ বলে অর্ধশতরান করে ম্যাচের শুরুতেই বার্তা দেন—এই রান তাড়া করা সহজ হবে না।
তবে মাঝের ওভারে কিছুটা হলেও ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা চালায় জিম্বাবোয়ে। তাতেন্দা চিমুগোরো (Tatenda Chimugoro) গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি উইকেট তুলে নিয়ে টিম ইন্ডিয়ার রানরেট খানিকটা বেঁধে দেন। ঠিক সেই সময়ই ইনিংসের ভার নিজের কাঁধে তুলে নেন বিহান। ১১তম ওভারে ১০১ রানে তিন উইকেট পড়ার পরে ক্রিজে এসে ধীরে ধীরে ইনিংস গোছাতে থাকেন। ব্যাটিংয়ে ছিল না বাড়তি ঝুঁকি। স্ট্রাইক রোটেশন, ফাঁকা জায়গা খোঁজা আর সুযোগ পেলেই বাউন্ডারি—হয়ে দাঁড়ায় মূল মন্ত্র।
বিহান–কুণ্ডুর জুটিতেই ম্যাচ কার্যত শেষ
বিহানের সঙ্গে চতুর্থ উইকেটে গুরুত্বপূর্ণ ১১৩ রানের জুটি গড়েন অভিজ্ঞান কুণ্ডু (Abhigyan Kundu)। যিনি খেলেন সহায়ক ভূমিকায়। অন্যদিকে বিহান ধীরে ধীরে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে নেন। কোনও তাড়াহুড়ো নয়, কোনও অহেতুক শট নয়—একেবারে পরিণত ইনিংস। শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থাকেন ১০৯ রানে। তাঁর শতরানের ভর করেই ভারত তোলে ৩৫৩/৮। স্কোরবোর্ডে এই রান ওঠার পর ম্যাচের ফল অনেকটাই পরিষ্কার হয়ে যায়।
বল হাতে সম্পূর্ণ আধিপত্য, ২০৪ রানের জয়
৩৫৪ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই ধাক্কা খায় জিম্বাবোয়ে। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট পড়তে থাকে। যদিও মিডল ওভারে কিছুটা লড়াইয়ের ইঙ্গিত দেন কিয়ান ব্লিগনট (Kian Blignaut) ও লিরয় চিওয়াউলা (Leeroy Chiwaula)। চতুর্থ উইকেটে তাঁদের ৬৯ রানের জুটি কিছু সময়ের জন্য ভারতকে আটকে দেয়। চিওয়াউলা করেন লড়াকু ৬২ রান, চিমুগোরো যোগ করেন ২৯। কিন্তু এই প্রতিরোধ ছিল ক্ষণস্থায়ী। জুটি ভাঙতেই আবার ম্যাচ পুরোপুরি ভারতের দখলে চলে আসে।
বল হাতে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেন অধিনায়ক আয়ুষ মাত্রে (Ayush Mhatre)। তিনটি উইকেট নেন তিনি। পেসার উদ্ভব মোহন (Udhav Mohan) সমানতালে তুলে নেন তিন উইকেট। আর এস. অম্বরিশ (R.S. Ambrish) নেন দু’টি। শেষ পর্যন্ত ৩৮ ওভারে ১৪৮ রানে গুটিয়ে যায় জিম্বাবোয়ে। ২০৪ রানের বিশাল ব্যবধানে জয় পায় ভারত।
এই জয়ের ফলে সুপার সিক্সে আত্মবিশ্বাস আরও বেড়েছে। পরের ম্যাচেই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানের (Pakistan U19) বিরুদ্ধে নামবে টিম ইন্ডিয়া—১ ফেব্রুয়ারি। বর্তমান ফর্ম বলছে, সেই ম্যাচেও অভিজ্ঞান-বিহান-বৈভবরা বাড়তি আত্মবিশ্বাসে সেরাটা উজাড় করে দেবেন।