ইংল্যান্ডের ইউএসপি ‘হারানোর কিছু নেই’ গোছের চাপমুক্ত মানসিকতা। হারারেতে তাই লড়াইটা শুধু ব্যাট-বলের নয়, সমানভাবে ধৈর্য আর দৃঢ়তারও!

ভারত বনাম ইংল্যান্ড
শেষ আপডেট: 6 February 2026 12:48
দ্য ওয়াল ব্যুরো: হারারেতে মঞ্চ প্রস্তুত। যুব বিশ্বকাপের ফাইনাল ঘিরে চড়ছে উত্তেজনার পারদ। আজ, শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারি মুখোমুখি ভারত (India U19) ও ইংল্যান্ড (England U19)। একদিকে ইতিহাস গড়ার হাতছানি, অন্যদিকে পুরনো হিসেব চুকোনোর সুযোগ। প্রশ্ন একটাই—ফাইনালে পাল্লা ভারী কার?
রেকর্ডের দৌড়ে ভারত
ষষ্ঠ খেতাবের হাতছানি চূড়ান্ত যুদ্ধে টিম ইন্ডিয়া এন্ট্রি নিয়েছে অপ্রতিরোধ্য গতিতে। সেমিফাইনালে আফগানিস্তানের (Afghanistan U19) বিরুদ্ধে ৩১১ রান তাড়া করে জয়লাভ, যার সুবাদে ইতিহাস গড়েছে দল। যুব বিশ্বকাপের ইতিহাসে এত বড় রান তাড়া করে জয়ের নজির নেই। সে ম্যাচে সেঞ্চুরি হাঁকান অ্যারন জর্জ (Aaron George), শুরুটা ঝোড়ো মেজাজে করেন বৈভব সূর্যবংশী (Vaibhav Sooryavanshi) ও আয়ুষ মাত্রে (Ayush Mhatre)। অপ্রতিরোধ্য জয়ের সুবাদে ভারত পৌঁছে যায় ফাইনালে—অপরাজিত থেকে। এবার লক্ষ্য স্পষ্ট: ছোটদের বিশ্বকাপের ইতিহাসে রেকর্ড ষষ্ঠ খেতাব। এর আগে টিম ইন্ডিয়া চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ২০০০, ২০০৮, ২০১২, ২০১৮ ও ২০২২ সালে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, ২০২২ সালের ফাইনালেও প্রতিপক্ষ ছিল ইংল্যান্ড। সেবার চার উইকেটে জিতেছিল ভারত। পরিসংখ্যান বলছে, যুব ক্রিকেটে ধারাবাহিকতার দিক থেকে বৈভবদের ধারেকাছে কেউ নেই। শক্তিশালী ব্যাটিং লাইন আপ, চাপ সামলাতে পারা মিডল অর্ডার আর পরিস্থিতি বুঝে নিয়ন্ত্রিত বোলিং—সব মিলিয়ে এই দল সবদিক দিয়ে খেতাবজয়ের জন্য তৈরি।
ইংল্যান্ডের চ্যালেঞ্জ
ইংল্যান্ড অনূর্ধ্ব–১৯ টিম (England U19) ফাইনালে এসেছে সংঘর্ষ করে। সেমিফাইনালে হারিয়েছে শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়াকে (Australia U19)। ব্যাটিং-বোলিংয়ের ভারসাম্যই ইংরেজদের দলের বড় শক্তি! তবে ইতিহাস তাদের পক্ষে নয়। যুব পর্যায়ে ভারতের বিরুদ্ধে ৫৫টি ম্যাচে ইংল্যান্ড জিতেছে মাত্র ১৩টিতে। যুব বিশ্বকাপের মঞ্চে মুখোমুখি হয়েছে ৯ বার—সেখানে ভারতের জয় ৭টি, ইংল্যান্ডের মাত্র ২টি। যুব বিশ্বকাপে তারা একবারই চ্যাম্পিয়ন—১৯৯৮ সালে। তবু ফাইনাল মানে আলাদা ম্যাচ। ইংল্যান্ড জানে, ফেভারিট না হয়েও কীভাবে হিসেব উল্টে দিতে হয়। অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে জয় আত্মবিশ্বাস বাড়াবে। টিম ইন্ডিয়াকে হারাতে হলে ব্যাটিংয়ে নিখুঁত পরিকল্পনা আর বোলিংয়ে শুরু থেকেই আক্রমণ—দুটোই দরকার।
আজকের ফাইনাল শুধু কাপ জেতার লড়াই নয়, দুই যুব শক্তির দর্শনগত দ্বন্দ্বও বটে। ভারত চাইছে নিজেদের আধিপত্য আরও পাকা করতে। ইংল্যান্ডের টার্গেট, তারা যে শুধু অংশগ্রহণকারী নয়, চ্যালেঞ্জারও বটে—সেটা বুঝিয়ে দেওয়া। আয়ুষ-অভিজ্ঞানদের কাছে অভিজ্ঞতা আর পরিসংখ্যান বড় অস্ত্র। ইংল্যান্ডের ইউএসপি ‘হারানোর কিছু নেই’ গোছের চাপমুক্ত মানসিকতা। হারারেতে তাই লড়াইটা শুধু ব্যাট-বলের নয়, সমানভাবে ধৈর্য আর দৃঢ়তারও!