ভারত অপরাজিত দল হিসেবে মাঠে নামলেও পাকিস্তানের পরিকল্পিত শর্ট বল আর চাপের ক্রিকেট ফের দেখিয়ে দিল—এই দ্বৈরথে নাম, রেকর্ড বা প্রতিভার চেয়ে মুহূর্তের সংযমটাই সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।

ফের বিতর্কে হ্যান্ডশেক
শেষ আপডেট: 1 February 2026 15:17
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারত–পাকিস্তান মানেই আলাদা উত্তাপ। সিনিয়র ক্রিকেট হোক বা বয়সভিত্তিক মঞ্চ—এ দ্বৈরথে প্রতিটা মুহূর্তে বাড়তি নজর। অনূর্ধ্ব–১৯ বিশ্বকাপের (U19 World Cup 2026) সুপার সিক্স ম্যাচেও তার ব্যতিক্রম হল না। টসের সময় চোখে পড়ল পুরনো দৃশ্য—দুই দলের অধিনায়কের মধ্যে প্রথাগত হ্যান্ডশেক নেই। তারপর মাঠে নেমে ভারতের শুরু আশাব্যঞ্জক হলেও দ্রুত ধস নামল ব্যাটিং অর্ডারে।
হ্যান্ডশেক নেই, চালু প্রথা বদলাল না
রবিবার বুলাওয়েওর কুইন্স স্পোর্টস ক্লাবে (Queens Sports Club, Bulawayo) টসের সময় ভারতীয় অধিনায়ক আয়ুষ মাত্রে (Ayush Mhatre) এবং পাকিস্তান অধিনায়ক ফারহান ইউসুফ (Farhan Yousaf) একে অপরের সঙ্গে হাত মেলালেন না। এই ছবি নতুন নয়। ২০২৫ এশিয়া কাপে (Asia Cup 2025) টিম ইন্ডিয়ার টি–২০ অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব (Suryakumar Yadav) পাকিস্তান অধিনায়কের সঙ্গে হ্যান্ডশেক না করার পর থেকেই এই প্রবণতা নিয়মিত হয়ে উঠেছে। পরে এশিয়া কাপ রাইজিং স্টার্সে (Asia Cup Rising Stars 2025) ভারত ‘এ’ বনাম পাকিস্তান শাহিন্স ম্যাচেও একই দৃশ্য দেখা গিয়েছিল। অনূর্ধ্ব–১৯ বিশ্বকাপেও এ ধারা বজায় রইল, রাজনৈতিক টানাপড়েনের ছায়া ক্রিকেটের প্রোটোকলেও স্পষ্ট।
সমীকরণ কঠিন, ম্যাচ দু’দলের কাছেই ‘মাস্ট উইন’
আজকের ম্যাচের গুরুত্ব আকাশছোঁয়া। সুপার সিক্স গ্রুপ-২ থেকে ইতিমধ্যেই ইংল্যান্ড (England) সেমিফাইনালে উঠে গিয়েছে। বাকি একটি জায়গার জন্য লড়াই ভারত ও পাকিস্তানের। টিম ইন্ডিয়া তিন ম্যাচে তিন জয়ে নেট রান রেট ৩.৩৩৭ নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে। পাকিস্তান তিন ম্যাচে দু’খানা জয় নিয়ে তৃতীয়, নেট রান রেট ১.৪৮৪। পাকিস্তানের জিততে হলে শুধু জয় নয়, দরকার বড় ব্যবধানে জয়—যাতে ভারতের নেট রান রেট টপকে যাওয়া যায়। অন্য দিকে আয়ুষ-বৈভবদের কাছে অঙ্কটা সহজ—জিতলেই সেমিফাইনাল নিশ্চিত।
ফের ব্যর্থ বৈভব
শুরুর দিকে ওপেনার বৈভব সূর্যবংশী (Vaibhav Suryavanshi) ও অ্যারন জর্জ (Aaron George) কিছুটা আশার আলো দেখান। কিন্তু সেই আলো বেশিক্ষণ টেকেনি। বৈভব ২২ বলে ৩০ রান করে সাজঘরে ফেরেন—ইনিংসটা যতটা ঝলমলে হওয়ার কথা ছিল, ততটা নয়। আট নম্বর ওভারের তৃতীয় বলে বৈভবের হাতে আসে দু’দফা ‘লাইফলাইন’। অফ স্টাম্পের বাইরে শর্ট বল হুক করতে গিয়ে টপ এজ—স্কয়ার লেগে সহজ ক্যাচ ফেলেন হুজাইফা আহসান (Huzaifa Ahsan)। তার পরই অসতর্কতা, পিচ ছেড়ে এগিয়ে এসে প্রায় রান আউট! পাকিস্তান সে সুযোগও নষ্ট করে।
কিন্তু দু’বার জীবনদানেও ছবিটা বদলায়নি। পরের বলে আবার শর্ট ডেলিভারি। এবার পুল করতে গিয়ে বটম এজ, উইকেটকিপার ঝাঁপিয়ে ক্যাচ লুফে নেন। উইকেটশিকারী মহম্মদ সাইয়াম (Mohammad Sayyam)। এই আউট যেন পুরনো ক্ষত আরও এক খুঁড়ে দেয়। দুবাইয়ে অনূর্ধ্ব–১৯ এশিয়া কাপ ফাইনালে (U19 Asia Cup Final) পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ১০ বলে ২৬ করে একই রকম আগ্রাসনের খেসারত দিতে হয়েছিল বৈভবকে।
আয়ুষের শূন্য, হঠাৎ ধস
বৈভব ফেরার পর চাপ বাড়ে। অধিনায়ক আয়ুষ মাত্রে এলেন, কিন্তু টিকলেন না। সাইয়ামের নিখুঁত লেংথ ডেলিভারিতে ব্যাটের কানায় খোঁচা, ক্যাচ উইকেটকিপারের হাতে। নো–বল চেক হলেও শেষরক্ষা হয়নি—খাতা না খুলেই ফিরতে হল অধিনায়ককে। শুধু এক ইনিংস নয়, পাকিস্তানের বিরুদ্ধে আয়ুষের সামগ্রিক পরিসংখ্যানও চিন্তার। চারটি যুব ওয়ানডেতে মাত্র ৬০ রান, গড় ১৫। চলতি বিশ্বকাপে পাঁচ ম্যাচে ৯৯, গড় ১৯.৮০। নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে একটি ৫৩ ছাড়া বড় ইনিংস নেই।
এর মধ্যেই অ্যারন জর্জও (১৬) ফিরলেন, আউট করলেন আবদুল সুবহান (Abdul Subhan)। ভালো শুরু থেকে মুহূর্তে টিম ইন্ডিয়া শিবিরে মিনি–কল্যাপ্সে। তখনই দায়িত্ব তুলে নেন বিহান মালহোত্রা (Vihaan Malhotra) ও বেদান্ত ত্রিবেদী (Vedant Trivedi)—ইনিংস গড়ার, ম্যাচ বাঁচানোর। ভারত অপরাজিত দল হিসেবে মাঠে নামলেও পাকিস্তানের পরিকল্পিত শর্ট বল আর চাপের ক্রিকেট ফের দেখিয়ে দিল—এই দ্বৈরথে নাম, রেকর্ড বা প্রতিভার চেয়ে মুহূর্তের সংযমটাই সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।