চাপের খেলায় বড় ইনিংস, পরিষ্কার স্ট্রোকপ্লে আর লম্বা সময় ধরে ব্যাট করার ক্ষমতা—সব মিলিয়ে পাকিস্তান ক্রিকেট নতুন এক নাম নোটবুকে তুলে রাখল।

সমীর মিনহাস
শেষ আপডেট: 21 December 2025 15:11
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারত-পাকিস্তান ফাইনাল মানেই চাপ, উত্তেজনা আর বড় মঞ্চের পরীক্ষা। সেই পরীক্ষায় রবিবার দিব্যি পাশ করে গেলেন এক কিশোর। দুবাইয়ের আইসিসি অ্যাকাডেমি গ্রাউন্ডে অনূর্ধ্ব-১৯ এশিয়া কাপ ফাইনালে ভারতের বিরুদ্ধে ১১৩ বলে ১৭২ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলে ম্যাচের রং বদলে দিলেন সমীর মিনহাস (Sameer Minhas)। শুরুতে ধাক্কা খেয়েও পাকিস্তানকে রানের চূড়ায় বসালেন পাকিস্তানের নতুন নক্ষত্র।
ফাইনালের মঞ্চে একক দাপট
ভারতীয় অধিনায়ক আয়ুষ মাত্রে (Ayush Mhatre) টস জিতে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন। শুরুতে হামজা জাহুর (Hamza Zahoor) আউট হওয়ায় মনে করা হচ্ছিল পাক ব্রিগেড চাপে পড়তে পারে। কিন্তু ঠিক তখনই মঞ্চে সমীর। উসমান খানের (Usman Khan) সঙ্গে দ্বিতীয় উইকেটে ৯২ রানের জুটি গড়ে ইনিংস সামলান তিনি(Sameer Minhas)। মাত্র ২৯ বলেই অর্ধশতরান পূর্ণ। পাওয়ারপ্লে পেরোতেই লড়াই কার্যত পাকিস্তানের দিকে হেলে পড়ে।
উসমান ফিরলেও থামেননি সমীর। তৃতীয় উইকেটে আহমেদ হুসেনের (Ahmed Hussain) সঙ্গে যোগ করে আরও ১৩৭ রান। ৭১ বলে শতরান, ১০৫ বলে দেড়শো—এরপরেও গতি কমানোর কোনও ইঙ্গিত নেই। শেষ পর্যন্ত ১৭টি চার আর ৯টি ছয়ের সাহায্যে ১১৩ বলে ১৭২ রানের ইনিংস খেলেই নিরস্ত হন তিনি।
রেকর্ডের পাতায় নাম, ভাঙল পুরনো নজির
এই ইনিংস শুধু ম্যাচ ঘোরানো নয়, ইতিহাসও লিখে দিল। অনূর্ধ্ব-১৯ এশিয়া কাপ ফাইনালের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত রানের রেকর্ড গড়লেন সমীর মিনহাস। এতদিন এই রেকর্ড ছিল সামি আসলামের (Sami Aslam)—২০১২ সালে কুয়ালালামপুরে ভারতের বিরুদ্ধে হাঁকান ১৩৪ রান।
৪৩তম ওভারে দীপেশ দেবেন্দ্রনের (Deepesh Devendran) বলে আউট হওয়ার সময় পাকিস্তানের স্কোরবোর্ডে লেখা ৩০২/৪। অর্থাৎ, তাঁর ইনিংসের (Sameer Minhas Record) ভরে ইতিমধ্যে ফাইনালে ম্যাচের ভিত শক্ত করে ফেলেছে পাকিস্তান।
কে এই সমীর মিনহাস?
২০০৬ সালের ২ ডিসেম্বর মুলতানে জন্ম সমীর মিনহাসের (Sameer Minhas Record)। পাকিস্তানের বয়সভিত্তিক ক্রিকেটে ধাপে ধাপে উঠে এসেছেন—মুলতান অঞ্চল অনূর্ধ্ব-১৩, সাদার্ন পাঞ্জাব অনূর্ধ্ব-১৬, তারপর মুলতান অনূর্ধ্ব-১৯। সেখান থেকেই জাতীয় যুব দলে সুযোগ। চলতি এশিয়া কাপে মালয়েশিয়ার বিরুদ্ধে যুব ওয়ানডে অভিষেকেই নজর কাড়েন তিনি। ১৪৮ বলে অপরাজিত ১৭৭ রান—১১টি চার, ৮টি ছয়। সেটাই ছিল অনূর্ধ্ব-১৯ এশিয়া কাপের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত স্কোর। পরে সেই রেকর্ড ভাঙেন ভারতের অভিজ্ঞান কুণ্ডু (Abhigyan Kundu)।
মালয়েশিয়ার বিরুদ্ধে ওই ইনিংসে ২৯৩ রানের বিশাল জুটির অংশ ছিলেন সমীর—যা যুব ওয়ানডে ইতিহাসের অন্যতম বড় পার্টনারশিপ। পাকিস্তান ক্রিকেটে তাঁকে ইতিমধ্যেই টপ অর্ডারের ভবিষ্যৎ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
পরিবারে ক্রিকেট, ভবিষ্যতের ইঙ্গিত
সমীর মিনহাসের পরিবারেই ক্রিকেটীয় ঐতিহ্যের ধারা বহমান। তাঁর দাদা আরাফাত মিনহাস (Arafat Minhas) ইতিমধ্যে পাকিস্তানের হয়ে চারটি টি-২০ ম্যাচ খেলেছেন। ২০২৩ এশিয়ান গেমসে দেশের জার্সি গায়ে চড়ানো ছাড়াও পাকিস্তান সুপার লিগে করাচি কিংস ও মুলতান সুলতানসের হয়ে খেলেছেন তিনি।
ফাইনালের এই ইনিংসের পর সমীর মিনহাস আর শুধু বয়সভিত্তিক ক্রিকেটের নাম নন। চাপের খেলায় বড় ইনিংস, পরিষ্কার স্ট্রোকপ্লে আর লম্বা সময় ধরে ব্যাট করার ক্ষমতা—সব মিলিয়ে পাকিস্তান ক্রিকেট নতুন এক নাম নোটবুকে তুলে রাখল। পড়শি দেশের ক্রিকেট টিমের ভবিষ্যৎ যে উজ্জ্বল, এখানেই থামছে না, সেটাই আপাতত সবচেয়ে বড় ইঙ্গিত।