আজ গুরুত্বপূর্ণ লড়াইয়ে বৈভব ব্যর্থ, আয়ুষও ইতিবাচক শুরুটা সেভাবে কাজে লাগাতে পারেননি। অ্যারন জর্জ লড়েছেন, কিন্তু শতরান এল না।

ভারত বনাম পাকিস্তান
শেষ আপডেট: 14 December 2025 14:23
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইন্ডিয়া-পাকিস্তান মানেই মাঠের পাশাপাশি ময়দানের বাইরে স্নায়ুর লড়াই। সিনিয়র ক্রিকেট হোক বা অনূর্ধ্ব-১৯ (asia cup u19)—নার্ভ, ধৈর্য আর সিদ্ধান্তের পরীক্ষা একসঙ্গে। দুবাইয়ে অনূর্ধ্ব-১৯ এশিয়া কাপে (U-19 Asia Cup) রবিবার সেই চেনা গল্পই দেখা গেল। শুরুতে আগ্রাসন, মাঝখানে ধস, শেষে একগুচ্ছ প্রশ্ন—কত বড় স্কোর আজ ‘যথেষ্ট’ হতে পারে?
টস জিতে পাকিস্তান (Pakistan U-19) ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয়। নতুন বলে শুরুটা ভারতের (India U-19) শুরুটা আশাব্যঞ্জক ছিল। অধিনায়ক আয়ুষ মাত্রে (Ayush Mhatre) গোড়া থেকেই আক্রমণাত্মক। দ্বিতীয় ওভারেই বাউন্ডারি আর ছক্কায় গতি তোলেন। তবে সেই আগ্রাসী আগুন বেশিক্ষণ জ্বলল না। মাত্র ৫ রানে ফিরে গেলেন বৈভব সূর্যবংশী (Vaibhav Suryavanshi)। আগের ওভারে জীবনদান। কিন্তু সুযোগটা কাজে লাগাতে ব্যর্থ। পাকিস্তানের (asia cup u19) প্রাথমিক সাফল্যেই খানিকটা থমকে যায় ভারত।
এরপর দায়িত্ব নেন আয়ুষ আর অ্যারন জর্জ (Aaron George)। দু’জনের জুটিতে স্কোরবোর্ড সচল থাকে। ১৫ ওভারেই একশো-র গণ্ডি পার। কিন্তু ঠিক তখনই বড় ধাক্কা। শর্ট বলে টপ এজ, ক্যাচ—আয়ুষের ইনিংস থামে ৩৮-এ। অধিনায়ক ফেরার সঙ্গে সঙ্গেই আবার চাপ।
এই পরিস্থিতিতে এক প্রান্ত আগলে রাখেন অ্যারন। শুরুতে মেপে, তারপর ধীরে ধীরে গিয়ার বদল। ৫৭ বলে অর্ধশতরান পূর্ণ। অন্য প্রান্তে উইকেট পড়লেও শান্ত থাকেন তিনি। বিহান মালহোত্রা (Vihaan Malhotra), বেদান্ত ত্রিবেদী (Vedant Trivedi)—কেউই বড় ইনিংস খেলতে পারেননি। মাঝের ওভারগুলোয় পাক স্পিনার নিকাব শফিক (Niqab Shafiq) আর পেসার আবদুল সুবহান (Abdul Subhan) রীতিমতো চেপে ধরেন।
১৯.৫ ওভারে ভারত যখন ১১৩/৪, ম্যাচ পুরোপুরি পাকিস্তানের (asia cup u19) দিকে হেলে পড়ে। সেখান থেকে অ্যারন আর অভিজ্ঞান কুণ্ডু (Abhigyan Kundu) হাল ধরেন। ইনিংস টানার চেষ্টায় পঞ্চম উইকেটে ৬০ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি। অ্যারন ক্রমশ সেঞ্চুরির দিকে। ৮০ পেরিয়েছেন, বাউন্ডারিও আসছে। মনে হচ্ছিল—বড় ইনিংস অবধারিত, স্রেফ সময়ের অপেক্ষা।
কিন্তু ক্রিকেট নিষ্ঠুর। ৮৫ রানে মিড অফে ক্যাচ আউট হয়ে শতরান মাঠে রেখেই সাজঘরে ফেরেন ইন ফর্ম ব্যাটার। সুবহানের বলে সেঞ্চুরি থেকে ১৫ রান দূরে থমতে হয়। সঙ্গে সঙ্গে ভেঙে পড়ে ভারতের মেরুদণ্ড (asia cup u19)। পরপর উইকেট। ৩২ ওভারে ১৭৬/৬। হাতে উইকেট থাকলেও গতি নেই, চাপ স্পষ্ট।
পিচ যে বোলারদের সহায়ক, সেটা শুরু থেকেই বোঝা গেছে। বল থেমে আসছে, নতুন বলে সামান্য মুভমেন্ট, মাঝের ওভারে স্পিনারদের সাফল্য। পাকিস্তানের বোলাররা সেই পরিস্থিতি দারুণভাবে কাজে লাগিয়েছে। ভারতীয় ব্যাটিংয়ে (ind vs pak) আজ প্রতিভার ঝলক ছিল, কিন্তু ধারাবাহিকতা নয়। এখন প্রশ্ন একটাই—এই স্কোর থেকে টিম ইন্ডিয়া কতদূর যেতে পারে? ২৫০ পেরোতে পারলে লড়াইয়ের জায়গা থাকবে। কিন্তু পাকিস্তানের ব্যাটিং-শক্তি মাথায় রাখলে, কাজটা কঠিন।
আজ গুরুত্বপূর্ণ লড়াইয়ে বৈভব ব্যর্থ, আয়ুষও ইতিবাচক শুরুটা সেভাবে কাজে লাগাতে পারেননি। অ্যারন জর্জ লড়েছেন, কিন্তু শতরান এল না। ফলে চাপ এখন পুরোপুরি বোলারদের উপর। আর এই ম্যাচে ভারত চ্যালেঞ্জিং টার্গেট দিতে পারবে কি না—তার উত্তর লুকিয়ে রয়েছে শেষ ওভারগুলোয়।