সমস্তকিছু ছাপিয়ে সামনে এসেছে আকাশের ব্যক্তিগত সংগ্রামের আরও একটি কাহিনি। যা এতদিন না মিডিয়া না সমাজমাধ্যম—কেউই প্রকাশ্যে আনেনি।

আকাশ দীপ
শেষ আপডেট: 7 July 2025 10:50
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ‘এটা শুধু তোমার জন্য। যখনই বল হাতে নিয়েছি, তোমারই মুখ ভেসে উঠেছে…’
গতকাল এজবাস্টনে দুই ইনিংস মিলিয়ে দশ উইকেট তুলে ইংরেজদের দফারফা করলেন যিনি, সেই আকাশ দীপের গলাটা আবেগে কেঁপে কেঁপে উঠছিল। প্রিয় দিদি, যিনি গত দু’মাস ধরে ক্যানসারে আক্রান্ত, তাঁকেই নিজের মহাকাব্যিক পারফরম্যান্স উৎসর্গ করেছেন আকাশ। জসপ্রীত বুমরাহ খেললে এই টেস্টে যাঁর নামাই হত না। বুমরাহ পুরোপুরি সুস্থ থাকলে চলতি সিরিজে খেলতে পারতেন কি? এই প্রশ্নও উঠবে।
জবাবটা যে ‘না’ সেটা আকাশও বিলক্ষণ জানেন। তাই প্রথম ইনিংসে ভাল বল করেও সাংবাদিকদের বলে দেন, পরের টেস্ট নিয়ে ভাবছেন না। তার কারণ, খেলবেন কি না তার কোনও নিশ্চয়তা নেই। এজবাস্টনে যা পারফরম্যান্স দেখালেন উদ্যমী পেসার, তাতে শুধু লর্ডস টেস্ট কেন, বাকি সিরিজের জন্যও নিজের জায়গা পাকাপাকিভাবে ধরে রাখলেন, একথা নিশ্চিন্তে বলা যায়!
অথচ কে জানত বিহারের এক অখ্যাত গ্রামের ছেলে এত তাড়াতাড়ি এই জায়গায় এসে পৌঁছবে? আইপিএল আজকাল খেলোয়াড়দের লিটমাস টেস্ট। রঞ্জি, দলীপ ট্রফি যতই থাকুক না কেন, আইপিএলে রংচঙে বোলিং বা ব্যাটিং মানেই জাতীয় দলে খেলার সিংহদুয়ার কিছুটা হলেও খুলে যাবে। অথচ এই আইপিএলেই এ বছর চোটের জন্য খেলতে পারেননি। প্রস্তুতি ম্যাচেও যন্ত্রণার রেশ চলেছে, সেভাবে নিজেকে তৈরি করতে ব্যর্থ হয়েছেন। টেনিস বল ক্রিকেট থেকে যাঁর উত্থান, বিহারের ক্লাবের হয়ে এই ছোটমাপের প্রতিযোগিতায় জোরে বল করে সবার তাক লাগিয়ে সোজা দুবাই যাওয়ার ছাড়পত্র পান, তিনি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পা রেখেছেন অটুট পরিশ্রম আর অধ্যবসায়ের জোরে।
২০০৭ সালে ভারত যখন টি-২০ বিশ্বকাপ জিতল, আকাশ দীপ তাঁর পরিবার আর পড়শিদের বুঝিয়েসুঝিয়ে জেনারেটর আর জায়ান্ট স্ক্রিন লাগিয়ে খেলা দেখা ও দেখানোর ব্যবস্থা করেন। সেখান থেকে গত বছর ভারতের হয়ে টেস্ট অভিষেক। একইভাবে এবার ঘরের ছেলেকে সাদা জার্সিতে লাল বল হাতে আগুন ছোটাতে দেখতে বড় পর্দায় ম্যাচ দেখার বন্দোবস্ত সারেন সাসারামের প্রতিবেশী ও বন্ধুবান্ধব। এবার হাতে হাতে মোবাইল। ছোট স্ক্রিন। কিন্তু গ্রামের ছেলে আকাশের স্বপ্ন ও সাফল্য অনেকটা বড়!
কিন্তু সমস্তকিছু ছাপিয়ে সামনে এসেছে আকাশের ব্যক্তিগত সংগ্রামের আরও একটি কাহিনি। যা এতদিন না মিডিয়া না সমাজমাধ্যম—কেউই প্রকাশ্যে আনেনি। সবার সামনে তুলে ধরেছেন ম্যাচের নায়ক নিজে। দলকে জিতিয়ে আকাশ দীপ বলেন, ‘এই কথাটা আমি আজ পর্যন্ত কাউকে বলিনি। আমার দিদি গত দু’মাস ধরে ক্যানসার আক্রান্ত। এখন একটু ভাল আছেন। আমি জানি, উনি আমার এই পারফরম্যান্সে সবচাইতে খুশি হবেন। এই জয় ও এই সাফল্য আমি তাঁকেই উৎসর্গ করতে চাই। আমি দিদির মুখে হাসি দেখতে চেয়েছি!’
Family is everything!
Akash Deep dedicates this win to his sister battling cancer. 🙌#SonySportsNetwork #GroundTumharaJeetHamari #ENGvIND #NayaIndia #DhaakadIndia #TeamIndia #ExtraaaInnings pic.twitter.com/teMNeuYLMP— Sony Sports Network (@SonySportsNetwk) July 6, 2025
এরপর সরাসরি বার্তা দেন আকাশ। বলেন, ‘এটা শুধু তোমার জন্য। যখনই আমার হাতে বল এসেছে, শুধু তোমার কথা ভেবেছি। আমি তোমার মুখে আনন্দ দেখতে চাই। আমরা সবাই তোমার সঙ্গে আছি!’