থেমেছেন বিরাট। অনেক অধরা স্বপ্ন আর সাফল্যের খোয়াব বুকে নিয়েই সরে যেতে হয়েছে। আইপিএল ট্রফি (IPL), তাও কেরিয়ারে প্রথমবার, পারল না সেই বেদনার উপশম ঘটাতে।

বিরাট কোহলি
শেষ আপডেট: 4 June 2025 13:07
দ্য ওয়াল ব্যুরো: তিনি কাঁদলেন। মুখ চেপে, হাঁটু মুড়ে।
তিনি হাসলেন। খেয়ালি শিশুর মতো। প্রাণখোলা, দিলদরিয়া।
তিনি ট্রফি উৎসবে মাতলেন। বাউন্ডুলে কিশোরের মতো। বাঁধভাঙা, কিঞ্চিৎ অসংযমী।
তবু ক্ষতে প্রলেপ পড়ল কই? কয়েক দিন আগেই বিদায় জানিয়েছেন টেস্টের ময়দানকে… নিজের প্রিয়তম লাল বলের ক্রিকেটকে (Virat Kohli Retirement)। যুক্তিও সাজিয়েছেন মনে মনে। খুব কাছের যারা, তাঁদের জানিয়েছেন: দুঃখ পেয়ে, অবাক হয়ে লাভ নেই। এটাই সরে যাওয়ার সময়। পাঁচ দিনের যুদ্ধ তাঁকে অনেক কিছু শিখিয়েছে, অনেক কিছু দিয়েছে। ময়দানে ব্যাগি ব্লু টুপি মাথায় নেমে তিনি নিজেকেও নিংড়ে দিয়েছেন। কিন্তু এবার থামা উচিত।
থেমেছেন বিরাট। অনেক অধরা স্বপ্ন আর সাফল্যের খোয়াব বুকে নিয়েই সরে যেতে হয়েছে। আইপিএল ট্রফি (IPL), তাও কেরিয়ারে প্রথমবার, পারল না সেই বেদনার উপশম ঘটাতে। সাংবাদিকরা ভেবেছিলেন, অশ্রুসজল বিরাট হয়তো আইপিএলকেই নিজের মহত্তম কীর্তি, প্রিয়তম সাফল্য হিসেবে দেগে দেবেন। অবরুদ্ধ আবেগ কিছুটা অতিরঞ্জিত হয়ে ছিটকে বেরবে মন্তব্য।
কিন্তু সবাইকে হতবাক করে ঠিক উলটো সুর গাইলেন। ‘এই ট্রফি কোনও দিন জিতবে—সেটা ভাবিনি’, ‘আমি নিজের যৌবন, কেরিয়ার উজাড় করে দিয়েছি’, ‘এই অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করা যায় না’—বলার পর বিরাট জুড়ে দিলেন, ‘এই মুহূর্ত আমার কেরিয়ারের সেরা সাফল্যের তালিকায় থাকবে। কিন্তু তা সত্ত্বেও একে টেস্ট ক্রিকেটের পাঁচ ধাপ নীচে রাখব। আমি ক্রিকেটের ওই ফর্ম্যাটকে এতটাই ভালবাসি, সম্মান করি।‘
বিরাট জানেন, যত দিন গড়াবে, আলোর রোশনাই, বিত্তের জাঁক আর বৈভবের ছটায় মোড়া আইপিএলের মতো ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্ট তার থাবা বিস্তার করবে। আরও কুঁকড়ে যাবে টেস্ট। তার মর্যাদা হারাবে। প্রশ্নের মুখেও পড়তে পারে গুরুত্ব। হয়তো এই আশঙ্কাতেই বিরাটের সতর্কবাণী, ‘আমি সমস্ত উঠতি খেলোয়াড়কে বলব, টেস্ট ক্রিকেটকে সম্মানের সঙ্গে খেলো। বিশ্বের যেখানেই যাবে, লোকে তোমার চোখের দিকে তাকাবে, হ্যান্ডশেক করবে আর বলবে: ‘শুভেচ্ছা, খুব ভাল খেলছ।‘ যদি তুমি দুনিয়াজোড়া সমাদর পেতে চাও, তাহলে টেস্ট বেছে নাও। এখানেও নিজের হৃদয় আর আত্মা উজাড় করো।‘
বিরাট কোহলির অনুভূতিকে সমর্থন জানিয়েছেন রিকি পন্টিংও। বলেছেন, ‘আমি হয়তো ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় বিশুদ্ধতাবাদী যে কিনা এখনও খেলার সঙ্গে যুক্ত। কোচিং করি বা কমেন্ট্রি—আমার প্রথম ভালবাসা ক্রিকেট—আর এটা সব সময় থাকবে।‘
বিরাট অকপট। ঠিক তাঁর স্ট্রেট ড্রাইভের মতো। তাই নিজের বক্তব্যকে সপাটে বলেই জানিয়েছেন, তিনি আপাতত আর কিছু ভাবতে নারাজ। ফিরে যাবেন বেঙ্গালুরু। যোগ দেবেন ট্রফি জয়ের বিজয় উৎসবে!