গাল ফোলা সরফরাজের চিবুক এখন স্পষ্ট। কে বলবেন, তাঁর ভুঁড়ি ছিল। মাত্র দেড় মাসের মধ্যেই নিজেকে পাল্টে ফেলেছেন এই মিডলঅর্ডার ব্যাটার।

সরফরাজ খান
শেষ আপডেট: 19 May 2025 18:37
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মুম্বইয়ের (Mumbai) ব্যাটার সরফরাজ খানের (Sarfaraz Khan) প্রতিভা নিয়ে কোনও প্রশ্ন না উঠলেও তাঁর ওজন নিয়ে অনেক কথা হয়েছে। নাদুস-নুদুস ভুঁড়ির জন্য সরফরাজকে অনেক সমালোচনা (Criticisms Of Weight) শুনতে হয়েছে। অনেকেই বলেছেন আনফিট প্লেয়ার (Unfit), মাঠে দৌড়তে পারেন না।
ঘরোয়া ক্রিকেটে রানের ফুলঝুড়ি ছোটালেও জাতীয় দলে ডাক পেতে অনেকদিন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়েছেন সরফরাজকে। অনেকেই মনে করেন, এর পিছনেও ছিল তাঁর স্থূলতা বা অতিরিক্ত ওজন। সেই সরফরাজই এবার আবির্ভূত হয়েছেন নতুন রূপে। গাল ফোলা সরফরাজের চিবুক এখন স্পষ্ট। কে বলবেন, তাঁর ভুঁড়ি ছিল। মাত্র দেড় মাসের মধ্যেই নিজেকে পাল্টে ফেলেছেন এই মিডলঅর্ডার ব্যাটার।
আসলে জাতীয় দলের জার্সি গায়ে উঠলেও এখনও প্রথম একাদশে ২৭ বছরের এই ক্রিকেটারের জায়গা নিয়মিতে হয়নি। সম্প্রতি বিরাট কোহলি টেস্ট থেকে অবসর নেওয়ার পর দুই নম্বর স্থানে শূন্যতা তৈরি হয়েছে। আর বিরাটের ছেড়ে যাওয়া জায়গায় নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে মরিয়া ঘরোয়া ক্রিকেটের এই রান মেশিন। তাঁর জন্য বাদ দিতে হয়েছে প্রিয় বিরায়ানিও (Biriyani)। খাচ্ছেন শুধু সবুজ শাক-সবজি (Green Vegetables)। প্রতিদিন অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন ওজন কমাতে। ৩০০-৪০০ সুইং বলের বিরুদ্ধে অনুশীলন করেছেন।
সরফরাজ খান মুম্বইয়ের সবচেয়ে ধারাবাহিক ঘরোয়া ক্রিকেট পারফরমারদের একজন। তবে, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সুযোগ পাওয়ার ক্ষেত্রে তাঁকে দীর্ঘদিন অপেক্ষা করতে হয়েছে। একসময় তো হতাশও হয়ে পড়েছিলেন তিনি। সেই সময় তাঁর হয়ে ব্যাট ধরেছিলেন স্বয়ং সুনীল গাভাসকার। বলেছিলেন, জাতীয় দলে সুযোগ পেতে আর কত রান করতে হবে সরফরাজকে।
অবশেষে সুযোগ আসে। বেঙ্গালুরুতে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ১৫০ রানের ইনিংস খেলার পরেও অবশ্য ২৭ বছর বয়সি সরফরাজ অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে বর্ডার-গাভাসকার ট্রফিতে বেঞ্চে ছিলেন। দীর্ঘ ব্যাটিং করার এবং সুযোগের সর্বোচ্চ ব্যবহার করার দক্ষতা থাকা সত্ত্বেও সরফরাজকে ওজন সংক্রান্ত সমালোচনার শুনেই যেতে হয়েছে।
আগামী মাসে টিম ইন্ডিয়া যাবে ইংল্যান্ড সফরে। বোর্ড সূত্র জানা গিয়েছে নির্বাচকদের মাথায় রয়েছে সরফরাজের নাম। তার আগে দুই মাসেরও কম সময়ের মধ্যে ১০ কেজি ওজন (Weight Loss) কমিয়েছেন তিনি। মুম্বইয়ে জন্ম নেওয়া এই ব্যাটারকে ৩০ মে থেকে ইংল্যান্ড লায়ন্সের বিরুদ্ধে দু’টি ম্যাচের জন্য ভারত ‘এ’ দলে ডাকা হয়েছে।
হিন্দুস্তান টাইমসকে সরফরাজের বাবা নওশাদ খান জানিয়েছেন তাঁর ছেলের ওজন কমানোর যাত্রা এবং সামনের বড় সফরের প্রস্তুতির কথা। তিনি বলেছেন, "আমরা আমাদের খাদ্যাভ্যাস অনেকটাই নিয়ন্ত্রণ করেছি। আমরা রুটি, ভাত ইত্যাদি খাওয়া বন্ধ করে দিয়েছি। আমরা ১ থেকে দেড় মাস ধরে বাড়িতে রুটি বা ভাত খাইনি। আমরা ব্রোকলি, গাজর, শসার মতো সবুজ সবজির স্যালাড খাচ্ছি। এর পাশাপাশি, আমরা গ্রিলড ফিশ, গ্রিলড চিকেন, সেদ্ধ মুরগি, সেদ্ধ ডিম ইত্যাদি খাই। আমরা গ্রিন টি এবং গ্রিন কফিও খাচ্ছি।"
তিনি আরও বলেন, "আমরা অ্যাভোকাডোও খাই। স্প্রাউটও আছে। কিন্তু মূল কথা হল আমরা রুটি এবং ভাত খাওয়া বন্ধ করে দিয়েছি। আমরা চিনি খাওয়া বন্ধ করে দিয়েছি। আমরা ময়দা এবং বেকারির জিনিসপত্র খাওয়া বন্ধ করে দিয়েছি।"
খান পরিবারের সদস্যরা আর ভাত খান না, তাই সরফরাজ তাঁর প্রিয় 'বিরিয়ানি' ছেড়ে দিয়েছেন। ওজন কমাতে এবং সুস্থ থাকতে মুরগি এবং মাটন বিরিয়ানি খাওয়া বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এই ব্যাটার। সরফরাজের পিতা নওশাদ আরও জানিয়েছেন, পুরো পরিবার ওজন কমানোর যাত্রায় নেমেছে। তিনি জানান তাঁর পুত্র ডাক্তারের পরামর্শের পর কীভাবে ১২ কেজি ওজন কমিয়েছেন।
নওশাদ বলেছেন, "সরফরাজ দেড় মাসের মধ্যে প্রায় ১০ কেজি ওজন কমিয়ে ফেলেছে। সে আরও ওজন কমানোর জন্য কাজ করছে। আমি নিজেও ১২ কেজি ওজন কমিয়েছি কারণ আমার হাঁটুর সমস্যা ছিল। তাই, আমিও এতে উপকৃত হয়েছি। ডাক্তার আমাকে বলেছিলেন যে, আমাকে হাঁটু প্রতিস্থাপন করতে হবে। আর এর জন্য আমাকে ওজন কমাতে হবে।"
সরফরাজের টেস্ট অভিষেক হয়েছিল ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে, ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে। তিনি ভারতের হয়ে দীর্ঘতম ফর্ম্যাটে ছয়টি ম্যাচ খেলেছেন। ৩৭.১০ গড়ে ৩৭১ রান করেছেন। ইংল্যান্ড লায়ন্সের বিপক্ষে 'এ' দলের সফরে ভাল পারফর্ম করার আশা করছেন তিনি, যাতে হেডিংলিতে শুরু হতে যাওয়া প্রথম টেস্টে একাদশে জায়গা করে নিতে পারেন।
সরফরাজের অনুশীলন সম্পর্কে তাঁর বাবা বলেছেন, "আমরা ভোর ৫.৩০-এ আমাদের বাড়ি থেকে বের হই। তারপর আমরা ১৫ কিমি দূরে ক্রস ময়দানে যাই। আমরা সকাল ৬:১৫-৬:৩০ নাগাদ সেখানে পৌঁছই। এরপর, আমরা কিছু ওয়ার্ম-আপ, দৌড়, ফিল্ডিং করি এবং তারপর ব্যাটিং শুরু করি। সকালের পুরো সেশন লাল বলে ব্যাটিং করি। এরপর, আমরা সকাল ১০:৩০-এর দিকে বাড়ি ফিরে আসি। এরপর আমরা জলখাবার খাই এবং বিশ্রাম নিই।"
পাশাপাশি তিনি বলেন, "আমাদের বাড়িতে একটি কৃত্রিম টার্ফ আছে। পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়ার পর আমরা বিকেলে সেখানে ব্যাটিং অনুশীলন করি। আমরা সেখানে ৩০০ থেকে ৫০০ সুইং বল খেলি। ব্যাট করার পর, যদি আমরা সময় পাই, আমরা জিমে যাই। আমরা বিকেসিতে ব্যায়াম করতে যাই। যদি আমরা সন্ধ্যায় ব্যাট করতে না চাই, তাহলে আমরা সরাসরি বিকেসিতে সাঁতার এবং জিম করতে যাই।"