পহেলগামে জঙ্গি হামলার অনেক আগে থেকেই ভারত পাকিস্তানের (Pakistan) সঙ্গে কোনও ধরনের দ্বিদেশীয় সিরিজে অংশ নেয় না। আইসিসি টুর্নামেন্টে নামলেও সেখানে অনেক শর্ত রয়েছে। চ্যাম্পিয়নস ট্রফি (Champions Trophy) এর সর্বশেষ প্রমাণ।

ভারত বনাম পাকিস্তান
শেষ আপডেট: 19 May 2025 18:27
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারত মোটেও পাকিস্তানকে (Pakistan) একঘরে রাখতে এশিয়া কাপ (Asia Cup 2025) থেকে নাম তুলে নিচ্ছে না। সাফ জানালেন বিসিসিআই সেক্রেটারি দেবজিৎ সাইকিয়া (Devajit Saikia)।
আজ সকালেই বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম সূত্রে দাবি করা হয়, আসন্ন এশিয়া কাপে অংশ নেবে না। যেহেতু এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের (ACC) মাথায় রয়েছেন মহসিন নকভি (Mohsin Naqvi), যিনি পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ক মন্ত্রী এবং পিসিবি-র চেয়ারম্যানও বটে, তাই ‘অপারেশন সিঁদুরে’র পর দেশজুড়ে পাকিস্তান বিরোধিতার জেরে পড়শি মুলুককে চাপে রাখতেই এশিয়া কাপে না নামার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিসিসিআই। পুরুষ ও মহিলা—দু’দলের ক্ষেত্রেই এই সিদ্ধান্ত। যা ইতিমধ্যে এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলকে নাকি জানিয়েও দেওয়া হয়েছে।
যদিও এই খবরের সত্যতা অস্বীকার করেছেন দেবজিৎ। বলেছেন, ‘সকাল থেকে বিসিসিআইয়ের এশিয়া কাপে যোগ না দেওয়া সংক্রান্ত একাধিক খবর আমাদের নজরে এসেছে। সবই কাল্পনিক, যার কোনও ভিত্তি নেই। বোর্ডের তরফে এশিয়া কাপ সংক্রান্ত কোনও আলোচনা হয়নি। কাউন্সিলকে কিছু লিখে পাঠানো তো অনেক দূরের বিষয়। এই মুহূর্তে আমাদের মূল লক্ষ্য চলতি আইপিএল এবং আসন্ন ইংল্যান্ড সফর। যদি এশিয়া কাপ নিয়ে কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় তাহলে সেটা সংবাদমাধ্যমের সূত্রে জানানো হবে।‘
উল্লেখ্য, আজ সকালেই জানা যায়, চলতি বছর অনুষ্ঠিত হতে চলা এশিয়া কাপ থেকে নাম তুলে নেওয়ার চিন্তা শুরু করেছে ভারত। বিসিসিআইয়ের (BCCI) এক আধিকারিক কারণ হিসেবে জানিয়েছেন—যেহেতু এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের (Asian Cricket Council) মাথায় রয়েছেন একজন পাকিস্তানি মন্ত্রী, তাই তাদের আয়োজিত কোনও টুর্নামেন্টেই খেলতে নামবে না ভারতীয় দল। সীমান্ত সংঘর্ষ ও পহেলগামে জঙ্গি নাশকতার পর পাকিস্তান এখন গোটা দেশের কাছে অত্যন্ত স্পর্শকাতর বিষয়। তাই তারা রয়েছে, এমন কোনও টুর্নামেন্টে এই মুহূর্তে ভারত অংশ নিতে প্রস্তুত নয়।
পহেলগামে জঙ্গি হামলার অনেক আগে থেকেই ভারত পাকিস্তানের (Pakistan) সঙ্গে কোনও ধরনের দ্বিদেশীয় সিরিজে অংশ নেয় না। আইসিসি টুর্নামেন্টে নামলেও সেখানে অনেক শর্ত রয়েছে। চ্যাম্পিয়নস ট্রফি (Champions Trophy) এর সর্বশেষ প্রমাণ। সেখানে বিসিসিআই (BCCI) সাফ জানিয়ে দেয়, পাকিস্তান আয়োজক দেশ হলেও রোহিত শর্মা, বিরাট কোহলিরা মোটেও করাচি কিংবা লাহোরে গিয়ে খেলবেন না। খেলোয়াড়ডের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করাই মূল লক্ষ্য। তাই নিরপেক্ষ ভেন্যু ঠিক করা হোক।
বাধ্য হয়ে আইসিসিকে (ICC) ময়দানে নামতে হয়। পাক ক্রিকেট বোর্ড গোড়ায় নিমরাজি থাকলেও পরে দুবাইয়ে ভারতকে খেলতে দেওয়ার প্রস্তাব মেনে নেয়। চ্যাম্পিয়নস ট্রফির গ্রুপ স্টেজ তো বটেই, সেমিফাইনাল ও ফাইনাল ম্যাচও দুবাইয়ের মাঠেই খেলেছিল ভারতীয় দল। জিতেছিল ট্রফিও।
পহেলগাম নাশকতার পর ছবিটা আরও ঘোলাটে হিয়েছে। বেশ কয়েক দিন ধরেই শোনা যাচ্ছিল, এবার শুধু আইসিসি বা অন্য কোনও আয়োজক সংস্থার উপর শর্ত চাপিয়েই বিসিসিআই ক্ষান্ত থাকবে না, প্রয়োজনে পাকিস্তান রয়েছে এমন টুর্নামেন্ট বয়কটও করা হতে পারে। এশিয়া কাপে সম্ভবত সেই রাস্তাতেই হাঁটতে চলেছে ভারত।
প্রসঙ্গত, ভারত যদি টুর্নামেন্টে অংশ না নেয়, তাহলে এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিল আর্থিক লোকসানের মুখে পড়তে চলেছে। এর মাথায় রয়েছেন মহসিন নকভি (Mohsin Naqvi)। তিনি আবার একাধারে পাকিস্তানের মন্ত্রী ও পিসিবির চেয়ারম্যানও বটে! জয় শাহর ছেড়ে যাওয়া আসনে বসেছেন। শাহ আইসিসির চেয়ারম্যান পদে বসার পর নকভি দায়িত্ব গ্রহণ করেন।