সোনি পিকচার্স নেটওয়ার্ক মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে এশিয়া কাপ সম্প্রচারের স্বত্ব কিনেছে। এখন টুর্নামেন্ট থেকে ভারত নাম তুলে নিলে গোটা টুর্নামেন্টই সমস্যার মুখে পড়বে।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 19 May 2025 10:39
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এবার ভারত-পাক যুদ্ধ পরিস্থিতির আঁচ পড়ল এশিয়া কাপেও (Asia Cup)। সূত্রের খবর, চলতি বছর অনুষ্ঠিত হতে চলা এশিয়া কাপ থেকে নাম তুলে নেওয়ার চিন্তা শুরু করেছে ভারত। বিসিসিআইয়ের (BCCI) এক আধিকারিক কারণ হিসেবে জানিয়েছেন—যেহেতু এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের (Asian Cricket Council) মাথায় রয়েছেন একজন পাকিস্তানি মন্ত্রী, তাই তাদের আয়োজিত কোনও টুর্নামেন্টেই খেলতে নামবে না ভারতীয় দল। সীমান্ত সংঘর্ষ ও পহেলগামে জঙ্গি নাশকতার পর পাকিস্তান এখন গোটা দেশের কাছে অত্যন্ত স্পর্শকাতর বিষয়। তাই তারা রয়েছে, এমন কোনও টুর্নামেন্টে এই মুহূর্তে ভারত অংশ নিতে প্রস্তুত নয়।
উল্লেখ্য, পহেলগামে জঙ্গি হামলার অনেক আগে থেকেই ভারত পাকিস্তানের (Pakistan) সঙ্গে কোনও ধরনের দ্বিদেশীয় সিরিজে অংশ নেয় না। আইসিসি টুর্নামেন্টে নামলেও সেখানে অনেক শর্ত রয়েছে। চ্যাম্পিয়নস ট্রফি (Champions Trophy) এর সর্বশেষ প্রমাণ। সেখানে বিসিসিআই (BCCI) সাফ জানিয়ে দেয়, পাকিস্তান আয়োজক দেশ হলেও রোহিত শর্মা, বিরাট কোহলিরা মোটেও করাচি কিংবা লাহোরে গিয়ে খেলবেন না। খেলোয়াড়ডের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করাই মূল লক্ষ্য। তাই নিরপেক্ষ ভেন্যু ঠিক করা হোক।
বাধ্য হয়ে আইসিসিকে (ICC) ময়দানে নামতে হয়। পাক ক্রিকেট বোর্ড গোড়ায় নিমরাজি থাকলেও পরে দুবাইয়ে ভারতকে খেলতে দেওয়ার প্রস্তাব মেনে নেয়। চ্যাম্পিয়নস ট্রফির গ্রুপ স্টেজ তো বটেই, সেমিফাইনাল ও ফাইনাল ম্যাচও দুবাইয়ের মাঠেই খেলেছিল ভারতীয় দল। জিতেছিল ট্রফিও।
পহেলগাম নাশকতার পর ছবিটা আরও ঘোলাটে হিয়েছে। বেশ কয়েক দিন ধরেই শোনা যাচ্ছিল, এবার শুধু আইসিসি বা অন্য কোনও আয়োজক সংস্থার উপর শর্ত চাপিয়েই বিসিসিআই ক্ষান্ত থাকবে না, প্রয়োজনে পাকিস্তান রয়েছে এমন টুর্নামেন্ট বয়কটও করা হতে পারে। এশিয়া কাপে সম্ভবত সেই রাস্তাতেই হাঁটতে চলেছে ভারত।
প্রসঙ্গত, ভারত যদি টুর্নামেন্টে অংশ না নেয়, তাহলে এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিল আর্থিক লোকসানের মুখে পড়তে চলেছে। এর মাথায় রয়েছেন মহসিন নকভি (Mohsin Naqvi)। তিনি আবার একাধারে পাকিস্তানের মন্ত্রী ও পিসিবির চেয়ারম্যানও বটে! জয় শাহর ছেড়ে যাওয়া আসনে বসেছেন। শাহ আইসিসির চেয়ারম্যান পদে বসার পর নকভি দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
এশিয়া কাপ থেকে সরে যাওয়ার কারণ হিসেবে এই মহসিন নকভিকেই টার্গেট করেছে বিসিসিআই। মোদ্দা দাবি একটাই—যেহেতু একজন পাক মন্ত্রী কাউন্সিলের প্রধান, তাই তাদের আয়োজনের কোনও প্রতিযোগিতায় অংশ নেবে না ভারত। বিসিসিআইয়ের এক আধিকারিক বলেছেন, ‘এটা গোটা দেশের অনুভূতি। আমরা এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলকে মৌখিকভাবে গোটা বিষয় জানিয়েছি। মহিলাদের এশিয়া কাপ থেকেও নাম তুলে নেবে ভারত। পাশাপাশি আগামী দিনের পদক্ষেপ নিয়েও বক্তব্য রাখা হবে। আমরা কেন্দ্রের সঙ্গে লাগাতার কথাবার্তা চালিয়ে যাচ্ছি।‘
প্রসঙ্গত, এশিয়া কাপের অধিকাংশ স্পনসরই ভারতের। ফলে এমনিতেও পাকিস্তান বিরোধিতার যে জিগির গোটা দেশে উঠেছে, তার জেরে টুর্নেমেন্টে অংশ নেওয়া বিসিসিআইয়ের পক্ষে সমস্যার। অন্যদিকে সোনি পিকচার্স নেটওয়ার্ক মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে এশিয়া কাপ সম্প্রচারের স্বত্ব কিনেছে। এখন টুর্নামেন্ট থেকে ভারত নাম তুলে নিলে গোটা টুর্নামেন্টই সমস্যার মুখে পড়বে। কারণ, ভারত-পাক দ্বৈরথ থেকেই সবচেয়ে বেশি আয়ের সুযোগ রয়েছে। সেটা বানচাল হওয়া মানে মুনাফায় কোপ। সেক্ষেত্রে সোনির সঙ্গে চুক্তির ভবিষ্যৎ কী—এই নিয়েও ধোঁয়াশা জমতে শুরু করেছে।