সাহারা গ্রুপ ভারতের জার্সির স্পনসর ছিল, সেবির নির্দেশে সেই কোম্পানির ব্যবসা এখন বন্ধ।

টিম ইন্ডিয়া
শেষ আপডেট: 22 August 2025 16:54
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারতে ক্রিকেট একটি ধর্ম। এমন একটি ধর্ম যা সবাই বিশ্বাস করে। সবাই এর জন্য পাগল। ভারতে ক্রিকেটের উন্মাদনা এতটাই যে, ভক্তরা তাদের সমস্ত কাজ ভুলে টিভির সামনে ম্যাচ দেখতে ব্যস্ত থাকেন এবং খেতাব জয়ের পর তাঁরা টিম ইন্ডিয়াকে স্বাগত জানাতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকেন। এই কারণেই ব্যবসায়িক দৃষ্টিকোণ থেকেও ক্রিকেট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং এই কারণেই প্রতিটি বড় কোম্পানি কোনও না কোনওভাবে ভারতীয় দলের সঙ্গে যুক্ত থাকতে চায়।
টিম ইন্ডিয়ার জার্সিতে (National Team Jersey) যদি কোনও সংস্থার নাম থাকে, তাহলে ব্র্যান্ড ভ্যালু আকাশছোঁয়া হয়ে যায়। সেই কোম্পানির নাম সবার মুখে মুখে থাকতে শুরু করে। কোটি কোটি মানুষের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে সেই সংস্থা। তবে, সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে কোম্পানিগুলির জন্য গল্পটি উল্টে গেছে। ব্র্যান্ড ভ্যালু আশা করা সংস্থাগুলি মুখ থুবড়ে পড়ে হয় লাটে উঠেছে বা দেউলিয়া (Bankrupt) হওয়ার দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে।
এদিকে, ভারতীয় ক্রিকেটের ইতিহাস বলছে, বিসিসিআই যে সব সংস্থাগুলির সঙ্গে টিম ইন্ডিয়ার জার্সির স্পনসর (Sponsorship Company)হিসাবে চুক্তিবদ্ধ হয়েছিল, সেগুলির পাট লাটে উঠেছে বা তাদের সঙ্গে এমন কিছু ঘটে যায় যার ফলে কোটি কোটি টাকার ক্ষতি হয়। সর্বশেষ ঘটনাটি ড্রিম ১১-এর। ভারত সরকার ২১ আগস্ট অনলাইন গেমিং অ্যাপ সম্পর্কিত একটি বিল পাস করেছে। এই বিল জোর ধাক্কা দিয়েছেড্রিম ১১-কে। সংস্থাটি ভারতে আর ব্যবসা করতে পারবে কি না, সেই নিয়ে প্রশ্ন উঠে গিয়েছে।
বিসিসিআইয়ের সঙ্গে ড্রিম-১১-এর ৩৫৮ কোটি টাকার চুক্তি রয়েছে। এই চুক্তি ২০২৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ পর্যন্ত। তবে, বিসিসিআইয়ের সঙ্গে হাত মিলিয়ে ড্রিম-১১-ই একমাত্র কোম্পানি নয় যারা লোকসানের সম্মুখীন হয়েছে। এর আগে, ২০০১ থেকে ২০১১ পর্যন্ত, সাহারা গ্রুপ ভারতের জার্সির স্পনসর ছিল, সেবির নির্দেশে সেই কোম্পানির ব্যবসা এখন বন্ধ।
স্টার ইন্ডিয়াও একসময় ভারতীয় দলের জার্সির স্পনসর ছিল। এই চুক্তিটিও ২০১৪ থেকে ২০১৭ পর্যন্ত ভালভাবেই চলেছিল। কিন্তু তারপর স্টারেরও অর্থ ফুরিয়ে যায়। এরপর চিনের ফোন প্রস্তুতকারক সংস্থা অপ্পোও টিম ইন্ডিয়ার জার্সি স্পনসর হয়। কয়েক বছর পর, ভারতে চিনের পণ্যের বিরুদ্ধে বিক্ষোভের কারণে, এই সংস্থাটি ভারতে তাদের কার্যক্রম বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়।
এর পরে, ভারতের জার্সিতে এডটেক কোম্পানি বাইজু'স-এর নাম দেখা যায়। এই কোম্পানির জন্য সবকিছু ঠিকঠাক চলছিল, কিন্তু তারপর বাইজু'স ঋণে ডুবে যায় এবং তারপর দেউলিয়া হয়ে যায়।
এবার যদি কোম্পানিগুলি এই দিকে মনোযোগ দেয়, তাহলে ভারতের জন্য স্পনসর পাওয়া কঠিন হয়ে উঠবে। এদিকে ড্রিম-১১-এর নামও হয়তো আর ভারতের জার্সিতে দেখা যাবে না। এখন দেখার বিষয় হল কোন কোম্পানি এই দৌড়ে এগিয়ে আসে।