মিশন বিশ্বকাপ-কে মাথায় রাখলে প্রশ্নটা আর ‘অভিষেক কি ওয়ানডে খেলতে পারবেন?’ নয়। সওয়াল ওঠা উচিত—‘ভারতের কি এমন একজন ব্যাটারকে বাইরে রেখে ভবিষ্যতের প্রস্তুতি নেওয়া উচিত?’ উত্তর যত দেরিতে আসবে, ঝুঁকি ঠিক ততটাই বাড়বে।

অভিষেক শর্মা
শেষ আপডেট: 26 January 2026 11:23
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারতীয় ক্রিকেটে দুটি প্রশ্ন আজকাল প্রায়ই চক্কর খায়। এক: বৈভব সূর্যবংশী কেন সিনিয়র টিমে জায়গা পাবেন না? দুই: টি-২০-তে তাবড় আন্তর্জাতিক বোলারদের কচুকাটা করার পরও কেন ওয়ানডে টিমের দরজা বন্ধ রয়ে যাবে অভিষেক শর্মার (Abhishek Sharma) জন্য? কতদিন ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ততম বলয়েই ঘুরপাক খাবেন?
বৈভবের ক্ষেত্রে বয়স একটা বড় ফ্যাক্টর। তিনি পরিণত নন, অতএব জায়গা জুটছে না—গোছের তত্ত্ব সামনে আসে। কিন্তু অভিষেকের ক্ষেত্রে বিরোধিতার বক্তব্য বেশ নাজুক। পোক্ত নয়। বিশেষত, রোহিত শর্মা (Rohit Sharma) যখন অবসর নেওয়ার মুখে, ওপেনে ঝড়ো ব্যাটিংয়ের অপশন নেই, সেক্ষেত্রে কি অভিষেক শর্মা ‘অটোমেটিক চয়েস’হতে পারেন না? নিউজিল্যান্ডের (New Zealand) বিরুদ্ধে গতরাতে দুরন্ত হাফসেঞ্চুরির পর প্রশ্নটা আরও তীব্র হয়েছে।
রোহিতের ‘ছায়া’ নন, ‘উত্তরসূরী’
টিম ইন্ডিয়ায় রোহিত শর্মার আসল ভূমিকা শুধু রান নয়। তিনি ওয়ানডে ক্রিকেটে পাওয়ারপ্লে ব্যবহারের মানসিকতা বদলে দিয়েছেন। শুরুতেই ম্যাচের মোড় ঘোরানোর সাহস, তারপর পরিস্থিতি বুঝে গিয়ার পাল্টানো—এই মডেলটাই হয়ে ওঠে ২০১৯ ও ২০২৩ বিশ্বকাপে (ODI World Cup) ভারতের ব্যাটিংয়ের ভিত্তি।
অভিষেক শর্মা সেই দর্শনেরই আধুনিকতম সংস্করণ। যিনি শুধু পাওয়ারপ্লে নয়, স্পিন-নির্ভর মিডল ওভারেও আগ্রাসী থাকতে দড়। টি-২০ ক্রিকেটে তাঁর স্ট্রাইক রেট, বড় শট খেলার মানসিকতা এবং বাঁ-হাতি হওয়ার সুবিধা—সব মিলিয়ে প্রতিপক্ষ অধিনায়কদের পরিকল্পনা ভাঙতে সমর্থ। ওয়ানডে-তে রোহিতের জায়গা পূরণ মানে শুধু ৩০–৪০ রান করা নয়, ম্যাচের গতিপথ বদলানো। অভিষেক তাতে দশে দশ।
মিডল ওভারে বড় সমস্যার সমাধান
২০২৩ বিশ্বকাপের ফাইনালে (World Cup Final) অস্ট্রেলিয়ার (Australia) বিরুদ্ধে সমস্যা ছিল রোহিত আউট হতেই মিডল ওভারে স্পিনের জাঁতাকলে রানের গতি কমে যাওয়া। বিরাট কোহলি (Virat Kohli) ও শ্রেয়স আইয়ার (Shreyas Iyer) পরিস্থিতি সামাল দেন ঠিকই, কিন্তু ভয় ধরানো আক্রমণ দেখা যায়নি।
অভিষেক শর্মা এই জায়গাটাই বদলে দিতে পারেন। তিনি স্পিন খেলেন অকুতোভয় মেজাজে। থমকে নয়, চালিয়ে খেলেন। ফলে ১৫ থেকে ৩৫ ওভারের ‘স্ট্র্যাংলহোল্ড’ ভাঙা সম্ভব। ওয়ানডে ক্রিকেটে যেখানে ৩২০–৩৫০ এখন গড় স্কোর, সেখানে এমন ব্যাটার প্রয়োজন, যিনি মাঝের ওভারেও বাউন্ডারি খুঁজে নিতে পারেন। অভিষেক শর্মা সেই বিরল প্রোফাইল।
ষষ্ঠ বোলার ফ্যাক্টর ও ২০২৭-এর অঙ্ক
একটা বড় দিক প্রায়ই উপেক্ষিত থাকে—অভিষেক শর্মা হাতও ঘোরান! নিছক পার্টটাইমার নন। স্লো লেফট-আর্ম স্পিন দিয়ে ৬–৭ ওভার দেওয়া মানে টিম কম্বিনেশনে বিশাল সুবিধা। তাতে হার্দিক পাণ্ডিয়া (Hardik Pandya) বা রবীন্দ্র জাদেজার (Ravindra Jadeja) উপর চাপ কমে। ২০২৭ বিশ্বকাপ (ODI World Cup 2027) দক্ষিণ আফ্রিকায় (South Africa)। সেখানে পেস ও বাউন্সের রাজত্ব। নতুন বল সামলে খেলা পুরস্কৃত হয় না, বরং আক্রমণই সাফল্যের আসল চাবিকাঠি। অভিষেকের স্বাভাবিক খেলা এই কন্ডিশনের জন্যই উপযুক্ত।
তাই মিশন বিশ্বকাপ-কে মাথায় রাখলে প্রশ্নটা আর ‘অভিষেক কি ওয়ানডে খেলতে পারবেন?’ নয়। সওয়াল ওঠা উচিত—‘ভারতের কি এমন একজন ব্যাটারকে বাইরে রেখে ভবিষ্যতের প্রস্তুতি নেওয়া উচিত?’ উত্তর যত দেরিতে আসবে, ঝুঁকি ঠিক ততটাই বাড়বে।