পোলক বারবার একটি কথাই জানিয়েছেন—খেলোয়াড়দের ওপর ভরসা। সৌরভের কোচিং দর্শনেও সেটাই প্রবল।

'কোচ' সৌরভ
শেষ আপডেট: 22 January 2026 13:23
দ্য ওয়াল ব্যুরো: খেলোয়াড় সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়কে (Sourav Ganguly) ভারতীয় ক্রিকেট কীভাবে চেনে, কোন চোখে দেখে, তা নতুন করে বলার দরকার নেই। অধিনায়ক হিসেবেও টিম ইন্ডিয়ার সর্বকালের অন্যতম সেরা দলনেতা তিনি। কিন্তু কোচ সৌরভ? সেই প্রশ্নটাই ঘুরপাক খাচ্ছে অনুরাগীদের মনে, এসএ২০ (SA20) লিগে প্রিটোরিয়া ক্যাপিটালসের (Pretoria Capitals) ডাগআউটে তাঁকে দেখার পর। প্রথম কোচিং অ্যাসাইনমেন্টে দলকে ফাইনালে তুলে সৌরভ বুঝিয়ে দিয়েছেন—ড্রেসিংরুমে তাঁর ভূমিকা এখনও যথেষ্ট কার্যকর। আর সেই প্রভাবের সবচেয়ে কাছ থেকে সাক্ষী যিনি, তিনি আর কেউ নন, দক্ষিণ আফ্রিকার কিংবদন্তি অলরাউন্ডার শন পোলক (Shaun Pollock)।
কেশব মহারাজের (Keshav Maharaj) নেতৃত্বে প্রিটোরিয়া ক্যাপিটালস সানরাইজার্স ইস্টার্ন কেপকে (Sunrisers Eastern Cape) যেভাবে হারিয়ে ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করেছে, সেটাই সৌরভের প্রথম কোচিং অধ্যায়ের সবচেয়ে বড় পরিচয়। টুর্নামেন্টের সবচেয়ে সফল দলকে নকআউটে উড়িয়ে দেওয়া কাকতালীয় নয়—আড়ালে রয়েছে পরিকল্পনা, আস্থা আর ড্রেসিংরুমের ভারসাম্য।
ড্রেসিংরুমে সৌরভ: কম কথা, স্পষ্ট দৃষ্টিভঙ্গি
শন পোলকের কথায়, সৌরভ কোচ হিসেবে প্রথমেই যেটা আমদানি করেছেন, সেটা ইতিবাচক পরিবেশ। ‘আমরা হাসি, আমরা হতাশ হই, আবার একসঙ্গে সবকিছু কাটিয়েও উঠি। আবেগ লুকোনো নয়, কিন্তু সিদ্ধান্তে আবেগ ঢুকতে দেওয়া যাবে না’—পোলকের মন্তব্যে স্পষ্ট, এই ভারসাম্যই সৌরভের সবচেয়ে বড় শক্তি।
কোচিং ইউনিট হিসেবে তাঁরা নিজেদের ভূমিকা খুব পরিষ্কার করে রেখেছেন। পোলকের ভাষায়, ‘আমরা সবাই পঞ্চাশের ঊর্ধ্বে। তাই কাজটা কাউকে শাসন করা নয়। খেলোয়াড়দের সাহায্য করেও শেষ সিদ্ধান্তটা ওঁদেরই নিতে দিই!’ এই ‘হস্তক্ষেপ না করা’র নীতিতে সৌরভ বরাবরই বিশ্বাসী। মাঠে যেমন নেতৃত্ব দিতেন, ড্রেসিংরুমেও তেমনই—আস্থার জায়গা মজবুত করা!
খেলোয়াড়ে ভরসা: সৌরভের কোচিং দর্শন
পোলক বারবার একটি কথাই জানিয়েছেন—খেলোয়াড়দের ওপর ভরসা। সৌরভের কোচিং দর্শনেও সেটাই প্রবল। দল নির্বাচন হোক বা ম্যাচের কঠিন মুহূর্ত, ক্যাপিটালসের ডাগআউটে খুব কমই অস্থিরতা দেখা গিয়েছে। এখানেই সৌরভ আলাদা। তিনি জানেন, আধুনিক টি-২০ ক্রিকেটে কোচ সবজান্তা—এই ভাবনাটা আজ অচল। বরং, পরিস্থিতি বুঝে খেলোয়াড়দের সিদ্ধান্ত নেওয়ার স্বাধীনতা দিতে হয়। পোলকের মতে, ‘সবচেয়ে কঠিন কাজটাই হলো কখন কিছু না করা। সৌরভ সেটা বোঝেন!’
ফাইনালের আগে উচ্ছ্বাস নয়, সংযম চাই
সানরাইজার্সকে হারিয়ে ফাইনালে ওঠা সত্ত্বেও সৌরভ-পোলক জুটি একেবারেই অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসে ভাসতে নারাজ। পোলক স্পষ্ট সুরে জানিয়েছেন, সানরাইজার্সই এখনও টুর্নামেন্টের সেরা দল। অতীতে কী হয়েছে, সেটা নিয়ে ভাবার কোনও দরকার নেই—এই মানসিকতাই সাজঘরের মূলমন্ত্র।
পোলকের চোখে সংযম কোচ সৌরভের সবচেয়ে বড় পরিচয়। আবেগ দেখাতে জানেন, কিন্তু সিদ্ধান্তে আবেগ থাকে না। প্রথম অ্যাসাইনমেন্টেই তাই কোনও ‘হইচই কোচ’ নন—বরং ঠান্ডা মাথার, খেলোয়াড়-কেন্দ্রিক এক ম্যানেজার। ফাইনালে কী হবে, সেটা আলাদা প্রশ্ন। কিন্তু এসএ২০-তে এই কয়েকটা সপ্তাহেই একটা বিষয় পরিষ্কার—কোচ হিসেবে সৌরভ শুধু নাম নয়, কাজেও প্রাসঙ্গিক।