কেন্দ্রে একটাই নাম—সাহিবজাদা ফারহান। চাপের মুহূর্তে বড় ইনিংস—এই আত্মবিশ্বাসই পাকিস্তানের টুর্নামেন্টে টিকে থাকার অক্সিজেন।

নায়ক ফারহান
শেষ আপডেট: 18 February 2026 18:12
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ম্যাচটা ছিল বাঁচা-মরার। আর সেই চ্যালেঞ্জকে স্বীকার করে ইতিহাস লিখলেন সাহিবজাদা ফারহান (Sahibzada Farhan)। টি-২০ বিশ্বকাপে (T20 World Cup 2026) শতরান হাঁকিয়ে মাত্র দ্বিতীয় পাকিস্তানি ব্যাটার হিসেবে নাম তুললেন রেকর্ড বুকে। তাঁর অপরাজিত সেঞ্চুরিতে রানে ভর করে নামিবিয়ার (Namibia) বিরুদ্ধে ১৯৯/৩ দাঁড় করাল পাকিস্তান (Pakistan)। ৫৮ বলে ১০০—চাপের ম্যাচে ফারহানের ধৈর্য, সময়জ্ঞান আর শক্তির মিশেলে গড়া এই সেঞ্চুরি দলকে বড় স্কোরের পথে নিয়ে যায়।
ধীর শুরু, ঝড়ে শেষ
শুরুটা কিন্তু মসৃণ ছিল না। এক সময় ২৭ বলে ৩০—স্ট্রাইক রেট বেজায় কম। মাঝপথে ক্র্যাম্পও ধরেছিল। চিকিৎসা নিতে হয় মাঠেই। কিন্তু সেখান থেকেই গিয়ার বদল। ফারহানের হাফসেঞ্চুরি থেকে শতরানে পৌঁছতে লেগেছে মাত্র ২০ বল! শেষ পর্যন্ত ইনিংস সাজানো ১১টি চার ও ৪টি ছক্কায়। অধিনায়ক সলমন আলি আঘার (Salman Ali Agha) সঙ্গে ৬৭ রানের জুটি ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। আঘা ২৩ বলে ৩৮ করে গতি বাড়ান।
এরপর তিনি আউট হতেই শাদাব খানের (Shadab Khan) সঙ্গে ৮১ রানের জুটি। শাদাব ২২ বলে ৩৬ করেন। শেষ ওভারে হাঁকান দু’টি ছক্কা।
বিশেষ তালিকায় নাম
এই শতরানের সুবাদে ফারহান জায়গা করে নিলেন আহমেদ শাহজাদের (Ahmed Shehzad) পাশে। ২০১৪ সালে বাংলাদেশের (Bangladesh) বিরুদ্ধে মিরপুরে বিশ্বকাপে শতরান করেছিলেন শাহজাদ। এরপর দীর্ঘ অপেক্ষা। অবশেষে দ্বিতীয় পাকিস্তানি সেঞ্চুরিয়ান।
আজ ফারহানের মতো পাক ইনিংসেরও শুরুটা ছিল সতর্ক। পাওয়ারপ্লেতে ৪৭ রান। সাইম আয়ুব (Saim Ayub) ১২ বলে ১৪ করে আউট হন। ভারতের (India) বিরুদ্ধে বড় হারের পর টিম তখন রীতিমতো চাপে। মাঝে উইলেম মাইবার্গের (Willem Myburgh) এক ওভারে তিনটি ছক্কা—একটি আঘার, দুটি ফারহানের—লড়াইয়ের টার্নিং পয়েন্ট। এরপর গতি আর কমেনি।
ব্যাটিং জোরদার করতেই বদল
আজ প্রথম একাদশে সুযোগ পান খাওয়াজা নাফায় (Khawaja Nafay)। বাইরে রাখা হয় শাহিন শাহ আফ্রিদিকে (Shaheen Shah Afridi)। প্রথম আট ওভারে রানরেট ছিল নামিবিয়ার নিয়ন্ত্রণে। কিন্তু নবম ওভার থেকেই তা পাকিস্তানের দখলে চলে আসে। শেষ পর্যন্ত স্কোরবোর্ড দাঁড়ায় ১৯৯-এ। ২০০ রান চাপ তৈরি করার মতো স্কোর। যার ছাপ পড়েছে নামিবিয়ার ব্যাটিংয়েও। ৯৪ রানে ৭ উইকেট হারিয়ে খাদের কিনারায় দাঁড়িয়ে। আর এসবের কেন্দ্রে একটাই নাম—সাহিবজাদা ফারহান। চাপের মুহূর্তে বড় ইনিংস—এই আত্মবিশ্বাসই পাকিস্তানের টুর্নামেন্টে টিকে থাকার অক্সিজেন।