সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সূর্যকুমার যাদবরা ম্যাচে নজরকাড়া পারফরম্যান্স দেখাল। ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি ব্রুকের ভুলে জিততে পারল না তাঁর দল, প্রথমে টস জিতে বল করার সিদ্ধান্ত নেওয়া থেকে শুরু করে সঞ্জু স্যামসনের সহজ ক্যাচ ফেলা- সবকিছুই ভারতকে সুবিধা দিয়েছে।

শেষ আপডেট: 6 March 2026 00:15
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শেষ ওভার পর্যন্ত টানটান উত্তেজনা ধরে রেখেছিল ভারত বনাম ইংল্যান্ডের সেমিফাইনাল ম্যাচ।। সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে টি ২০ বিশ্বকাপের ফাইনালে (T20 World Cup Final 2026) উঠল সূর্যদের দল। রবিবার আমদাবাদে নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়ামে (Narendra Modi Stadium) ফাইনালে নিউজ়িল্যান্ডকে হারালেই ইতিহাস গড়তে চলেছে ভারত- বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে টানা দু'বার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সুযোগ। সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সূর্যকুমার যাদবরা (Surya Kumar Yadav) ম্যাচে নজরকাড়া পারফরম্যান্স দেখাল। ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি ব্রুকের ভুলে জিততে পারল না তাঁর দল, প্রথমে টস জিতে বল করার সিদ্ধান্ত নেওয়া থেকে শুরু করে সঞ্জু স্যামসনের সহজ ক্যাচ ফেলা- সবকিছুই ভারতকে সুবিধা দিয়েছে।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের (WI) বিপক্ষে ৯৭ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলা সঞ্জু এবারও জমিয়ে খেলেছেন।
৮ টি ৪, ৭ টি ৬ মিলিয়ে এদিন ওপেন করতে নেমে ৪২ বলে ৮৯ রান করেন তিনি। শুরু থেকেই ইংল্যান্ডের বোলারদের ওপর আক্রমণ চালান। সঙ্গে ছিলেন মারমুখী ঈশান কিষাণ। তবে সেমি ফাইনালেও ওপেন করতে নেমে ব্যর্থ অভিষেক শর্মা।
চার নম্বরে নেমে শিবম দুবে ২৫ বলে ৪৩ রান করেন। সূর্যকুমারও আশানুরূপ রান তুলতে পারেননি, ৬ বলে ১১ রান করে আউট হন। যদিও এরপরও ভারতের রান তোলার গতি থমকে যায়নি। হার্দিক পাণ্ডেয়া ১২ বলে ২৭ এবং তিলক বর্মা ৭ বলে ২১ রান করে শেষমুহূর্তে আরও কিছু রান জুড়ে দেন ভারতের খাতায়। ২০ ওভার শেষে ৭ উইকেটে ২৫৩ রান তোলে 'মেন ইন ব্লু'।
ইংল্যান্ডের বোলাররা এই হাইভোল্টেজ দিনেই কার্যত নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছিলেন। জ্যাকস ৪০ রানে ২ উইকেট, রশিদ ৪১ রানে ২ উইকেট নিলেও খুব একটা সুবিধা করতে পারেনি। আর্চার ৬১ রান দিয়ে ১ উইকেট নেন। অন্যান্য বোলারদের প্রভাবও সীমিত ছিল।
ইংল্যান্ডের ব্যাটিংয়ে নজর কেড়েছেন ২২ বছরের জ্যাকব বেথেল। শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিলেন তিনি। ৪৮ বলে ১০৫ রানের ইনিংস খেলেন, যার মধ্যে রয়েছে ৮টি চার এবং ৭টি ছয়। তবে শেষ পর্যন্ত তাঁর চেষ্টা দলের জয়ের জন্য যথেষ্ট হয়নি। ভারতের ফিল্ডিং ও বোলিং- উভয়েই ইংল্যান্ডকে চাপে ফেলেছিল। বিশেষ করে অক্ষর প্যাটেল, অর্শদীপ সিং এবং তিলক বর্মার ক্যাচ-ফিল্ডিং দলকে সুবিধা দিয়েছে।
ইংল্যান্ড ৭ উইকেটে ২৪৬ রান তোলে, ভারতের দেওয়া ২৫৪ রানের টার্গেট পূরণ করতে পারেনি। ভারতের ব্যাটাররা শুরু থেকে আক্রমণ চালিয়ে এবং ম্যাচের প্রতিটি মুহূর্তে চাপ বজায় রেখে ফাইনালে ওঠার পথ সহজ করেছে, যাঁদের মধ্যে সঞ্জু স্যামসনের কথা না বললেই নয়। সেমিফাইনালে জিতে এবার ভারত রবিবার টি ২০ বিশ্বকাপের ফাইনালে (T20 World Cup 2026) নিউজ়িল্যান্ডের মুখোমুখি হবে।
সঞ্জু স্যামসন (Sanju Samson), ঈশান কিষাণ (Ishan Kishan) ও শিবম দুবের (Shivam Dubey) এই 'ট্রায়ো' ভারতীয় ব্যাটিংয়ে প্রাণ সঞ্চার করেছে। তাঁদের আক্রমণাত্মক খেলার ধারা ফাইনালের জন্য দলের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে। সবশেষে বলা যায়, ইংল্যান্ডের ভুল ও ভারতের ধারাবাহিক আক্রমণ সেমিফাইনালে ভারতকে সুবিধা এনে দিয়েছে।