কয়েক সেকেন্ডের এই ভিডিও ক্লিপ, যেখানে স্টোকসের কৌশলী চাহনি স্পষ্ট ফুটে উঠেছে, সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়ামাত্র অনেকে ক্রিকেটের স্পিরিট নিয়ে সওয়াল তুলেছেন।

বেন স্টোকস ও ঋষভ পন্থ
শেষ আপডেট: 25 July 2025 15:04
দ্য ওয়াল ব্যুরো: লক্ষ্মণকে যখন নিকুম্ভিলা যজ্ঞাগারে নিয়ে এলেন বিভীষণ, তখন বিশ্বাসঘাতক পিতৃব্যকে ক্ষাত্রধর্ম স্মরণ করিয়েছিলেন ইন্দ্রজিৎ। তুলেছিলেন প্রশ্ন, ‘হায়, তাত, উচিত কি তব এ কাজ?’
গতকাল ম্যাঞ্চেস্টারের ময়দানে অসম্ভবকে সম্ভব করে যখন খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে মাঠে নামলেন ঋষভ পন্থ, তখন বেন স্টোকসের বিশেষ রণকৌশল দেখে আকাশে-বাতাসে এই হতাশাই ব্যথাতুর হয়ে ছড়িয়ে পড়ল। সওয়াল উঠল: কী দরকার ছিল আহত পন্থের পা-কে নিশানা করে বল করার? একজন খেলোয়াড়, যিনি অকথ্য যন্ত্রণায় বিকৃত চোখমুখে মাঠ ছেড়েছেন, মেটাটারসাল ফ্র্যাকচার সত্ত্বেও, ঠিকমতো হাঁটতে চলতে পারবেন না জেনেও যিনি মাঠে নেমেছেন, তাঁকে আউট করতে আহত ডান পা-কে নিশানা করে ইয়র্কারের পর ইয়র্কার ছোড়ার কি আদৌ কোনও প্রয়োজন ছিল?
প্রশ্নটা আরও বেশি করে দানা বেঁধেছে। তার কারণ, ঋষভ যখন স্টোকসের ওভারে কোনও মতে সিঙ্গল নিয়ে উইকেটের অন্য প্রান্তে খোঁড়াতে খোঁড়াতে ছুটছিলেন, তখন ক্রিজে দাঁড়িয়ে ইংরেজ অধিনায়ক নিবিড়ভাবে তাঁর পায়ের দিকে তাকিয়েছিলেন। ভাবটা এমন: ‘এবার এই পা-কে নিশানা করে বল করা যেতে পারে!’
কয়েক সেকেন্ডের এই ভিডিও ক্লিপ, যেখানে স্টোকসের কৌশলী চাহনি স্পষ্ট ফুটে উঠেছে, সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়ামাত্র অনেকে ক্রিকেটের স্পিরিট নিয়ে সওয়াল তুলেছেন।
Rishabh Pant battled a fractured toe to score a brave half-century against England. Ben Stokes appeared to notice Pant's injury and then targetted the toe with yorkers. Pant fought through the pain, smashing Archer for a six.
— CricNews (@CrickNewsInd) July 24, 2025
একজন এক্স-হ্যান্ডেলে লিখেছেন, ‘এরপর যদি আমাদের বোলাররা ইংরেজদের টেল এন্ডারদের নিশানা করে শর্ট বল করে তাহলে ওরাই গেল গেল রব তুলবে!’ আরেকজন তেতে ওঠা বুমরাহর পুরনো ছবি শেয়ার করে মন্তব্য করেন, ‘ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে এবার আমাদের এমন আগ্রাসন দেখাতে হবে!’
Stokes targeting Rishabh Pant’s injured foot.
We need this energy from Bumrah and Co. against England pic.twitter.com/GeTY3ecZS5— Pakchikpak Raja Babu (@HaramiParindey) July 24, 2025
যদিও ইংল্যান্ড শিবিরের অসৌজন্যে ঋষভের দাপট এতটুকু মলিন হয়নি। সাকুল্যে ৫৯ মিনিট ক্রিজে ছিলেন। গতকালের থমকে থাকা ইনিংসকে এগিয়ে নিয়ে গেলেন স্বাভাবিক কায়দায়। স্লোয়ার বলে হাঁকিয়ে চার, বাউন্সারে সমীহ… কখনও কভার ড্রাইভ, কখনও লং অফকে নিশানা করলেন। বেন স্টোকস তাঁর আহত পা-কে লক্ষ্য করে ইয়র্কারের পর ইয়র্কার ছুড়ে বিক্ষত প্রতিদ্বন্দ্বীকে এতটুকু সমীহ না দেখালেও ঋষভ বুঝিয়ে দিলেন, তাঁর পা ভেঙেছে। তিনি মচকাননি।
তাই জোফ্রা আর্চারের বলে স্ট্যাম্প ছিটকে গেলেও ঋষভের ইনিংস ক্রিকেটের চিরন্তন ইতিহাসের প্রত্নপ্রতিমা হয়ে রইল!