পন্থের আঘাত লেগেছে যেখানে, সেই মেটাটারসাল হাড় আমাদের পায়ের পাতার মাঝখানে থাকে। এটি ভেঙে গেলে সাধারণত ৪-৬ সপ্তাহ পুরো বিশ্রাম দরকার। ক্রিকেটারদের ক্ষেত্রে এই সময় আরও বাড়তে পারে।

ঋষভ পন্থ
শেষ আপডেট: 24 July 2025 10:50
দ্য ওয়াল ব্যুরো: চতুর্থ টেস্টের প্রথম দিন। ব্যাট হাতে চেনা ভঙ্গিতে ঝড় তোলার ইঙ্গিত দিচ্ছিলেন ঋষভ পন্থ (Rishabh Pant)। ইংল্যান্ডের (England) বিরুদ্ধে ম্যাঞ্চেস্টারের (Manchester Test) ময়দানে বুধবার একের পর এক স্বভাবোচিত কায়দায় উদ্ভট শটে চাপে ফেলে দিচ্ছিলেন ব্রিটিশ বোলারদের।
ঠিক সেই সময়ই অঘটন। ক্রিস ওকসের (Chris Woakes) ইয়র্কার তাঁর ডান পায়ের পাতায়… রিভার্স সুইপ করতে গিয়ে বল ব্যাটের কিনারা ঘুরে সোজা গিয়ে লাগল বুটে।
সময় নষ্ট না করে তড়িঘড়ি ছুটে এলেন ফিজিও। জুতো খুলতেই দেখা গেল, গোড়ালি ও পায়ের পাতা ফুলে ঢোল। তীব্র যন্ত্রণায় মাঠেই গড়াগড়ি দিতে থাকেন পন্থ। ব্যথা এতটাই প্রবল ছিল যে, শেষমেশ গলফ কার্টে চাপিয়ে তাঁকে মাঠ ছাড়াতে হয়। প্রাথমিক ভাবে মনে করা হচ্ছে, পন্থের ‘মেটাটারসাল’ হাড়ে চিড় ধরেছে (Metatarsal Fracture)। আর তেমনটা হলে, শুধু এই টেস্টই নয়, বাকি সিরিজ থেকেও ছিটকে যেতে পারেন তিনি।
এই পরিস্থিতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন রবি শাস্ত্রী এবং অস্ট্রেলিয়ার প্রাক্তন ক্রিকেটার রিকি পন্টিং। দু’জনেই জানাচ্ছেন, এই চোটকে লঘু চোখে দেখা ঠিক নয়। ঋষভ পন্থ, যিনি ভয়ংকর দুর্ঘটনার ট্রমা কাটিয়ে ময়দানে ফিরে এসেছেন, তাঁর কেরিয়ারের ক্ষেত্রেও, এই আঘাত গুরুতর হতে পারে। শাস্ত্রী আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, ‘ওর মুখের ভাব দেখেই বোঝা যাচ্ছিল ব্যাপারটা কতটা সাংঘাতিক। ঋষভের সহ্যশক্তি খুবই বেশি। কিন্তু ও যেভাবে যন্ত্রণায় মুখ বিকৃত করছিল, তাতে এটাকে হালকা ভাবে নেওয়া যায় না। রাত্রে বরফ সেঁক দিলে কিছুটা আরাম মিলতে পারে, কিন্তু সকালে উঠে ব্যথা ফের অনেকটা বাড়বে। আমি প্রার্থনা করব, যেন হাড় না ভেঙে যায়!'
আইপিএলে দিল্লি ক্যাপিটালসের কোচ হিসেব ঋষভকে খুব কাছ থেকে দেখেছেন রিকি পন্টিং। তাঁর কথায়, ‘পন্থ নিজের পা মাটিতে রাখতে পারছিল না। অন্তত ৬-৮ মিনিট মাঠে গড়াগড়ি করেছে। পা সঙ্গে সঙ্গে ফুলে যায়। যেটা দেখে চিন্তা বেড়েছে। আমার নিজের অভিজ্ঞতা বলছে—মেটাটারসাল হাড় খুবই ছোট এবং ভঙ্গুর। ওর যা পরিস্থিতি দেখলাম, তাতে এটা ভেঙে যাওয়া মানে এই ম্যাচ থেকেই ছিটকে যাওয়া!’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘যদি এটা ভাঙা না-ও হয়, তা হলেও ওকে মাঠে ফেরাতে মেডিক্যাল টিম সর্বস্ব ঢেলে দেবে। আশা করি, আগামী দিনে ঋষভ আর রিভার্স সুইপ মারবে না। কারণ এমন শট খেলতে গিয়েই তো আজ এই দিন দেখতে হচ্ছে!’
পন্থের ব্যাট হাতে নামতে না পারটা ভারতকে কতটা ব্যাকফুটে রাখবে? পন্টিংয়ের বিশ্লেষণ, ‘ঋষভের মতো খেলোয়াড় দলে থাকলে যেভাবে ম্যাচের গতিপথ বদলে যায়, সেটা অন্য কারও পক্ষে করে দেখানো সম্ভব নয়। ওর উপস্থিতি মানে চাপ বিপক্ষ শিবিরে। ঋষভ যদি খেলতে না পারে, সেটা শুধু এই টেস্ট নয়, গোটা সিরিজেই ভারতের ক্ষতি!’
ইংল্যান্ডের প্রাক্তন অধিনায়ক আথারটনের কথায়, ‘ঋষভ যদি এই ম্যাচ থেকে ছিটকে যায় আর যদি সিরিজ থেকেও বাদ পড়ে, তাহলে ভারতের জন্য বিশাল ধাক্কা। দিনের শেষে ২৬৪/৪। কিন্তু পন্থ না থাকলে সেটা আদতে ২৬৪/৫। পরদিন সকালে নতুন বলে ইংল্যান্ড দ্রুত ভারতকে গুটিয়ে দিতে পারে। কিন্তু পন্থ যদি ফেরে, তাহলে পুরো খেলার মোড় ঘুরে যাবে!’
(পন্থের আঘাত লেগেছে যেখানে, সেই মেটাটারসাল হাড় আমাদের পায়ের পাতার মাঝখানে থাকে। এটি ভেঙে গেলে সাধারণত ৪-৬ সপ্তাহ পুরো বিশ্রাম দরকার। ক্রিকেটারদের ক্ষেত্রে এই সময় আরও বাড়তে পারে। দেশের তামাম ক্রিকেট অনুরাগীর নজর আপাতত স্ক্যান রিপোর্ট ও বিসিসিআইয়ের পরবর্তী মেডিক্যাল বুলেটিনে।)