এই টুর্নামেন্টে খেলোয়াড়রা অনেকবার একে অপরের সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়েছেন। যার মধ্যে গৌতম গম্ভীর এবং পাকিস্তানের কামরান আকমলের মধ্যে সংঘর্ষ বেশ বিখ্যাত।

গ্রাফিক্স- দিব্যেন্দু দাস
শেষ আপডেট: 7 September 2025 17:57
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এশিয়া কাপের (Asia Cup) কাউন্টডাউন শুরু হয়ে গিয়েছে। ৯ সেপ্টেম্বর থেকে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে এই টুর্নামেন্ট শুরু হবে। ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন ভারত অভিযান শুরু করবে ৯ সেপ্টেম্বর সংযুক্ত আরব আমিরশাহির বিরুদ্ধে।
গ্রুপ এ-তে রয়েছে ওমান, সংযুক্ত আরব আমিরাশাহি, ভারত ও পাকিস্তান। আর গ্রুপ বি-তে রয়েছে আফগানিস্তান, হংকং, বাংলাদেশ এবং শ্রীলঙ্কা। টিম ইন্ডিয়া ১৯৮৪, ১৯৮৮, ১৯৯০/৯১, ১৯৯৫, ২০১০, ২০১৬, ২০১৮ এবং ২০২৩ সালে এশিয়া কাপ জিতেছে। ভারতই সবচেয়ে বেশিবার এই টুর্নামেন্ট জিতেছে।
এশিয়া কাপে জয়, পরাজয় ছাড়াও এমন কিছু ঘটনা রয়েছে, যা সমর্থকদের মনে অমলিন। এই টুর্নামেন্টে খেলোয়াড়রা অনেকবার একে অপরের সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়েছেন। যার মধ্যে গৌতম গম্ভীর এবং পাকিস্তানের কামরান আকমলের মধ্যে সংঘর্ষ বেশ বিখ্যাত। আসুন জেনে নিই এশিয়া কাপে ঘটে যাওয়া এমন চারটি বিতর্ক (4 Controversies in 22 yards) সম্পর্কে।
শোয়েব আখতার-হরভজন সিং
২০১০ সালের এশিয়া কাপে, মুখোমুখি হয়েছিল ভারত ও পাকিস্তান। পাকিস্তান প্রথমে ব্যাট করে ২৬৭ রান করে। এরপর ভারতের ব্যাটিংয়ের ৪৯তম ওভারে ওভারে শোয়েব আখতারের বলে হরভজন সিং ছক্কা মারলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ছক্কা খেয়ে আখতার ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন এবং উভয়ের মধ্যে তীব্র তর্ক শুরু হয়। তবে, আম্পায়াররা হস্তক্ষেপ করে বিষয়টি শান্ত করেন। সেই ম্যাচে হরভজনের ছক্কা ভারতকে জয় এনে দিয়েছিল।
গম্ভীর-আকমল
২০১০ সালের এশিয়া কাপে ভারত ও পাকিস্তান ম্যাচে তৎকালীন ভারতীয় দলের ওপেনার এবং বর্তমান প্রধান কোচ গৌতম গম্ভীর এবং পাকিস্তানের উইকেটরক্ষক কামরান আকমলের মধ্যে তুমুল তর্ক হয়। এই তর্ক এতটাই উত্তপ্ত ছিল যে, উভয় খেলোয়াড়ই সম্মুখ সমরে নেমে পড়েছিলেন। দ্বিতীয় ইনিংসে যখন ভারত লক্ষ্য তাড়া করছিল, কামরান আকমল শহিদ আফ্রিদির বলে ক্যাচের জন্য জোরাল আবেদন করেছিলেন, কিন্তু আম্পায়ার বিলি বাউডেন আউট দেননি। এর পরে, সাঈদ আজমলের বলেও ক্যাচের জন্য আবেদন করা হয় এবং গম্ভীর এতে রেগে যান। ড্রিঙ্কস বিরতির সময়, গৌতম গম্ভীর এবং আকমল মুখোমুখি হন এবং দু’জনের মধ্যে বাক-বিতণ্ডা শুরু হয়ে এমন পর্যায়ে পৌঁছয়, মনে হয়েছিল যে, লড়াই হতে পারে। কিন্তু তেমন কিছুই ঘটেনি। মহেন্দ্র সিং ধোনি এবং আম্পায়ার দু’জনকে আলাদা করে দেন। গম্ভীর এই ম্যাচে ৮৩ রান করেছিলেন এবং ভারত তিন উইকেটে জিতেছিল।
ফরিদ আহমেদ-আসিফ আলি
এশিয়া কাপে কেবল ভারত ও পাকিস্তানের খেলোয়াড়দের মধ্যেই বিরোধ দেখা দিয়েছে তা নয়, অন্যান্য দলগুলিও এর থেকে মুক্ত নয়। ২০২২ সালে সুপার ফোর ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল আফগানিস্তান ও পাকিস্তান। ১৯ ওভারে ফরিদ আহমেদ আসিফ আলিকে আউট করেন। উইকেট পড়ার সঙ্গে সঙ্গে দুই খেলোয়াড়ের মধ্যে ধাক্কাধাক্কির পরিস্থিতি তৈরি হয়। আসিফ আলি রাগে ব্যাট তুলে আক্রমণ করার ইঙ্গিতও করেছিলেন। পরে, আইসিসি উভয় খেলোয়াড়কে দোষী সাব্যস্ত করে এবং তাঁদের ম্যাচ ফির ২৫% জরিমানা করে। এই ম্যাচের শেষটিও খুব আকর্ষণীয় ছিল। নাসিম শাহ শেষ ওভারে পরপর দু’টি ছক্কা মেরে পাকিস্তানকে এক উইকেটের জয় এনে দেন। বিতর্ক এখানেই শেষ হয়নি এবং মাঠে খেলোয়াড়দের লড়াই দুই দেশের সমর্থকদের মধ্যও ছড়িয়ে গিয়েছিল। উভয় দলের সমর্থকদের মধ্যে মারামারি হয় এবং কিছু ভাঙচুরের কথাও শোনা গিয়েছিল।
শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটারদের নাগিন নাচ
বাংলাদেশের খেলোয়াড়রা প্রায়শই আবেগে ভেসে যান এবং ক্রীড়া মনোভাবের বিপরীত কাজ করার জন্য বিখ্যাত। এশিয়া কাপেও একই রকম কিছু দেখা গিয়েছিল। আসলে, ২০১৮ সালের নিদাস ট্রফিতে, শ্রীলঙ্কাকে হারানোর পর বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা নাগিন নৃত্য করে সেলিব্রেশন শুরু করেন। শ্রীলঙ্কার ক্রিকেটাররা বাংলাদেশি খেলোয়াড়দের এই মনোভাব মোটেও পছন্দ করেনি এবং তাঁরা চার বছর পর এর প্রতিশোধ নিয়েছেন। দুবাইয়ে ২০২২ সালের এশিয়া কাপে শ্রীলঙ্কা বাংলাদেশকে হারিয়ে দেয়। জয়ের পর, শ্রীলঙ্কার খেলোয়াড় চামিকা করুনারত্নে নাগিন নৃত্য করে একই স্টাইলে বাংলাদেশকে কটূক্তি করেছিলেন।