ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ডের রাজস্ব গত পাঁচ বছরে বেড়েছে দ্বিগুণ। বোর্ডের কোষাগারে এই সময়ের মধ্য যুক্ত হয়েছে ১৪,৬২৭ কোটি টাকা।

বিসিসিআই
শেষ আপডেট: 7 September 2025 16:25
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সাধে কি আর ক্রিকেট-বিশ্ব তাকিয়ে থাকে ভারতের দিকে। ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ড হল বিশ্বের সব থেকে ধনী ক্রিকেট সংস্থা। তাই ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেট বোর্ডও বিসিসিআইয়ের বেশ কিছু সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করতে পারে না। আইসিসিকেও সব থেকে বেশি আয় দেয় বিসিসিআই। বাকি দেশের ক্রিকেট বোর্ডগুলি আইপিএল খেলতে ভারতে তাদের ক্রিকেটারদের পাঠালেও বিসিসিআই কিন্তু অন্য দেশের ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ খেলতে ভারতীয় ক্রিকেটারদের অনুমতি দেয় না। এর থেকেই বোঝা যায় বিশ্ব ক্রিকেটে ভারতই সব থেকে বড় দাদা।
ক্রমশ বিসিসআইয়ের ভাণ্ডারে পুঁজির পাহাড় জমছে। ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ডের রাজস্ব গত পাঁচ বছরে বেড়েছে দ্বিগুণ (BCCI doubles revenue)। বোর্ডের কোষাগারে এই সময়ের মধ্য যুক্ত হয়েছে ১৪,৬২৭ কোটি টাকা (Adds Rs 14,627 crore in 5 years)। এর মধ্যে শুধু গত আর্থিক বছরেই ৪,১৯৩ কোটি টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। এখন বিসিসিআইয়ের মোট নগদ এবং ব্যাঙ্ক ব্যালেন্স ২০,৬৮৬ কোটি টাকা হয়ে গিয়েছে।
ক্রিকবাজের এক প্রতিবেদন অনুসারে, রাজ্য সমিতিগুলিকে নির্ধারিত টাকা দেওয়ার পরও বিসিসিআইয়ের আয় ক্রমাগত বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০১৯ সালে বিসিসিআইয়ের সাধারণ তহবিল ছিল ৩,৯০৬ কোটি টাকা, যা ২০২৪ সালের হিসাব শেষ হলে প্রায় দ্বিগুণ হয়ে ৭,৯৮৮ কোটি টাকায় পৌঁছবে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রতিবেদন অনুসারে, ২০২৪ সালের বার্ষিক সাধারণ সভায় উপস্থাপিত হিসাব বিবরণীতে বলা হয়েছে, 'অনারারি সেক্রেটারি সদস্যদের জানিয়েছেন যে, ২০১৯ সাল থেকে, বিসিসিআইয়ের নগদ ও ব্যাঙ্ক ব্যালেন্স ৬,০৫৯ কোটি টাকা থেকে বেড়ে ২০,৬৮৬ কোটি টাকা হয়েছে, তাও রাজ্য ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনগুলিকে সম্পূর্ণ অর্থ প্রদানের পরে। ২০১৯ সাল থেকে, বিসিসিআই গত পাঁচ বছরে মোট ১৪,৬২৭ কোটি টাকা বৃদ্ধি করেছে। শুধুমাত্র গত আর্থিক বছরেই এই বৃদ্ধি ছিল ৪,১৯৩ কোটি টাকা। এছাড়াও, ২০১৯ সাল থেকে, সাধারণ তহবিলও ৩,৯০৬ কোটি টাকা থেকে বেড়ে ৭,৯৮৮ কোটি টাকা হয়েছে, যা ৪,০৮২ কোটি টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে।'
বিসিসিআইও কর দেওয়ার কথা বিবেচনা করে একটি বড় অঙ্কের অর্থ আলাদা করে রেখেছে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরের জন্য আয়কর বিধানে ৩,১৫০ কোটি টাকা রাখা হয়েছে, যদিও এই বিষয়টি এখনও আদালত এবং ট্রাইব্যুনালে চলছে। বিনিয়োগকৃত মূলধনের উপর ভাল রিটার্নের কারণে আয় বেড়ে ৯৮৬.৪৫ কোটি টাকা হয়েছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, গত বছর কম ঘরোয়া আন্তর্জাতিক ম্যাচের কারণে মিডিয়া রাইটস আয় কমে ৮১৩.১৪ কোটি টাকা হয়েছে, যেখানে আগে এটি ছিল ২,৫২৪.৮০ কোটি টাকা। কিন্তু বিনিয়োগকৃত মূলধনের উপর ভাল রিটার্নের কারণে বিনিয়োগ থেকে আয় ৫৩৩.০৫ কোটি টাকা থেকে বেড়ে ৯৮৬.৪৫ কোটি টাকা হয়েছে। প্রতিবেদন অনুসারে, আইপিএল এবং আইসিসি থেকে প্রাপ্ত শেয়ারের সাহায্যে, বিসিসিআই ২০২৩-২৪ সালে ১,৬২৩.০৮ কোটি টাকা উদ্বৃত্ত অর্জন করেছে, যা ২০২২-২৩ সালে ১,১৬৭.৯৯ কোটি টাকার চেয়ে বেশি।
রাজ্য সমিতিগুলিকে ১৯৯০.১৮ কোটি টাকা (২০২৩-২৪ সালের জন্য), বিসিসিআই পরিকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য ১,২০০ কোটি টাকা, প্ল্যাটিনাম জুবিলি বেনেভোলেন্ট ফান্ডের জন্য ৩৫০ কোটি টাকা এবং ক্রিকেট উন্নয়নের জন্য ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে। রাজ্য সমিতিগুলিকে দেওয়া হয়েছে ১,৯৯০.১৮ কোটি টাকা, যেখানে চলতি বছরের জন্য ২,০১৩.৯৭ কোটি টাকা দেওয়ার অনুমান করা হয়েছে। এই পরিসংখ্যানগুলি আনুষ্ঠানিকভাবে ২৮ সেপ্টেম্বর বিসিসিআইয়ের বার্ষিক সাধারণ সভায় উপস্থাপন করা হবে।