রোহিত-বিরাটের বিদায়ে অনেকে ভেবেছিলেন ভারতীয় টি-২০ বাহিনী দুর্বল হয়ে পড়বে। সূর্যকুমার ও গম্ভীর মিলে প্রমাণ করেছেন—উত্তরসূরিরাও কম যায় না, দেখাতে পারে নতুন পথও।

গ্রাফিক্স: দিব্যেন্দু দাস
শেষ আপডেট: 13 March 2026 14:29
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সেমিফাইনালে আড়াইশোর বেশি রান, ফাইনালেও তাই। সদ্যসমাপ্ত টি-২০ বিশ্বকাপে ভারতের ব্যাটিং দেখে দুনিয়ার চোখ কপালে উঠেছে। কিন্তু এই আগ্রাসী ক্রিকেটের পিছনে একদিন-দু’দিন নয়, ছিল দেড় বছরের নিরলস মানসিক প্রস্তুতি। আর এবার সেই গল্প বললেন অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব (Suryakumar Yadav)। ‘ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জানালেন, ২০২৪ সালে বিশ্বকাপ জেতার পরদিন থেকেই নতুন পথে হাঁটা শুরু হয়েছিল।
পুরনো পন্থা চলবে না
দু’বছর আগে টি-২০ বিশ্বকাপ জিতেছিল ভারত। রোহিত শর্মার (Rohit Sharma) নেতৃত্বে, বিরাট কোহলির (Virat Kohli) অবদানে। কিন্তু সেই জয়ের পরেই দুজনে টি-২০ থেকে অবসর নেন। নতুন অধিনায়ক হন সূর্যকুমার। যিনি দায়িত্ব নিয়েই টের পান, ২০২৪-এর ছকে আর এগোনো সম্ভব নয়। তাঁর কথায়, ‘আমরা বুঝেছিলাম, ২০২৪ বিশ্বকাপে যেভাবে খেলেছি, সেই “ব্র্যান্ড অব ক্রিকেট” আর কাজ দেবে না। তাই সিদ্ধান্ত নিলাম—ব্যক্তিগত মাইলস্টোনের দিকে মনোযোগ দেব না, লক্ষ্য শুধু ম্যাচ জেতা!’
ভাইরাসের মতো ছড়িয়ে দেওয়া হল নতুন সংস্কৃতি
কিন্তু শুধু সিদ্ধান্ত নিলেই তো হয় না—সফলভাবে টিম চালনা করতে গেলে গোটা দলকে সেই মানসিকতায় বাঁধতে হয়। অধিনায়ক সূর্যকুমার সেটাই করলেন। হেডকোচ গৌতম গম্ভীরের (Gautam Gambhir) সঙ্গে মিলে দলের অন্দরে গড়ে তুললেন নয়া সংস্কৃতি—নির্ভীক, নিঃস্বার্থ ক্রিকেটের সংস্কৃতি।
সূর্যের ভাষায়, ‘এই বার্তা দলের মধ্যে ভাইরাসের মতো ছড়িয়ে দেওয়াটা খুব জরুরি ছিল। আমরা এই দলীয় সংস্কৃতি তৈরি শুরু করেছিলাম ১৮ মাস আগে থেকে!’
ফল চোখের সামনে। অভিষেক শর্মা (Abhishek Sharma) ও সঞ্জু স্যামসনের (Sanju Samson) মতো তরুণরা ব্যক্তিগত রান বা উইকেটের হিসেব না কষে দলের জন্য খেলেছেন। অধিনায়কের মন্তব্য, ‘সেমিফাইনাল পর্যন্ত আমাদের কোনও ব্যাটার বা বোলার শীর্ষে ছিল না। তবু আমরা জিতে চলি। প্রতিটি ম্যাচে প্রতিটি খেলোয়াড় অবদান রেখেছে!’
ইতিহাসের পাতায় নতুন অধ্যায়
নিঃস্বার্থ মানসিকতার জোরেই ইতিহাস লিখেছে ভারত। টি-২০ বিশ্বকাপের শিরোপা ধরে রাখা প্রথম দল। তিনবার চ্যাম্পিয়ন। ঘরের মাঠে বিশ্বকাপ জয়—এই তিনটে কীর্তি একসঙ্গে আগে কোনও টিম করে দেখাতে পারেনি। রোহিত-বিরাটের বিদায়ে অনেকে ভেবেছিলেন ভারতীয় টি-২০ বাহিনী দুর্বল হয়ে পড়বে। সূর্যকুমার ও গম্ভীর মিলে প্রমাণ করেছেন—উত্তরসূরিরাও কম যায় না, দেখাতে পারে নতুন পথও।