যাদের হাতে পরাস্ত হয়ে বিশ্বকাপে ছুটি হয়েছিল, সেই ব্ল্যাক ক্যাপসদের হেলায় পর্যুদস্ত করা প্রোটিয়াদের মনোবল নিশ্চিতভাবে বাড়াবে৷

দক্ষিণ আফ্রিকা
শেষ আপডেট: 15 March 2026 16:59
দ্য ওয়াল ব্যুরো: টি-২০ বিশ্বকাপের ফাইনালে পরাজয়ের এক সপ্তাহও কাটেনি। তার মধ্যে জোর ধাক্কা। দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে টি-২০ সিরিজের প্রথম ম্যাচে মাত্র ৯১ রানে অল আউট হয়ে গেল নিউজিল্যান্ড। আর প্রোটিয়ারা সেই লক্ষ্য পেরোল ৭ উইকেটে, ২০ বল হাতে রেখে। বিশ্বকাপ ফাইনালিস্টের জন্য এর চেয়ে বেদনাদায়ক শুরু আর কী হতে পারত?
নায়ক ৪ নতুন মুখ
এই দক্ষিণ আফ্রিকা দলে চারজন আন্তর্জাতিক অভিষেকের মঞ্চে। তবু তাঁদের সামলাতে ব্যর্থ কিউইরা। পাওয়ারপ্লেতে পাঁচ উইকেট হারিয়ে ম্যাচ কার্যত মাঠে রেখে এল নিউজিল্যান্ড।
শুরু করলেন জেরাল্ড কোয়েৎজি—তৃতীয় ওভারের মধ্যে ডেভন কনওয়ে ও টম লাথামকে ফেরালেন মাত্র ১৪ রানে। তারপর হাল ধরলেন আরেক তরুণ অটনেইল বার্টম্যান। টিম রবিনসন ও নিক কেলিকে ফিরিয়ে পরিস্থিতি আরও কঠিন করে তুললেন। রানআউটে উইকেট পড়তেই স্কোর ৩৬/৫।
এরপর মঞ্চে ১৯ বছরের এনকোবানি মোকোয়েনা। লোয়ার অর্ডার তছনছ করে ছিনিয়ে নিলেন ৩ উইকেট, ২৬ রানের বিনিময়ে। জিমি নিশাম ও অধিনায়ক মিচেল স্যান্টনারের ২৬ রানের জুটিই ছিল সেরা প্রতিরোধ—সেটুকুও ভাঙলেন মোকোয়েনা। স্যান্টনারকে সাজঘরে ফেরালেন কেশব মহারাজ। ১৪.৩ ওভারে ৯১ রানে খতম নিউজিল্যান্ড।
ম্যাচসেরা মোকোয়েনা। উচ্ছ্বাস চেপে বললেন, 'প্রথম দুই ওভার ভালো যায়নি। কিন্তু পরিকল্পনায় অটল থেকেছি। তাই ভাল ফল এল।'
সহজ রান চেজ, স্বচ্ছন্দ জয়
৯২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে সহজেই এগোল প্রোটিয়ারা। ওপেনার কনর এস্টারহুইজেন ৪৮ বলে অপরাজিত ৪৫ রান করলেন। সঙ্গে দিয়ান ফরেস্টার ১৬ রানে অপরাজিত। স্যান্টনারের স্পিন কিছুটা চাপ তৈরি করেছিল—চার ওভারে মাত্র ৮ রান দিলেন। কিন্তু দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যটারদের টলাতে পারেননি। কাইল জেমিসনকে ছক্কা মেরে ম্যাচ শেষ করলেন এস্টারহুইজেন।
অধিনায়ক কেশব মহারাজ (Keshav Maharaj) বললেন, 'শেষটা একটু উত্তেজনার ছিল, কিন্তু কনর ও দিয়ানের পরিপক্কতা দলকে জেতাল।' স্যান্টনার (Mitchell Santner) মানলেন ভুল হয়েছে—'পিচে যতটা ভেবেছিলাম তার চেয়ে বেশি মশলা ছিল। পাওয়ারপ্লেতে উইকেট পড়লে ফেরা কঠিন।'
উল্লেখ্য, বিশ্বকাপ ফাইনালে খেলা আট নিউজিল্যান্ড খেলোয়াড় এই দলে নেই—শীর্ষ ছয় ব্যাটারও অনুপস্থিত। তবু এই একপেশে পরাজয় কিউয়ি শিবিরের চিন্তার কারণ হয়ে থাকবে। অন্যদিকে যাদের হাতে পরাস্ত হয়ে বিশ্বকাপে ছুটি হয়েছিল, সেই ব্ল্যাক ক্যাপসদের হেলায় পর্যুদস্ত করা প্রোটিয়াদের মনোবল নিশ্চিতভাবে বাড়াবে৷