দক্ষিণ আফ্রিকার (India vs South Africa) ২–০ সিরিজ জয়—দুই বড় বিপর্যয়ের সাক্ষী রইল গৌতম গম্ভীরের (Indian Cricket team coach Gautam Gambhir) কোচিং-জমানা।

আত্মসমর্পণ ভারতীয় দলের
শেষ আপডেট: 26 November 2025 13:18
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ঘরের মাঠে ভারতকে হারানো এক সময় বিদেশি খেলোয়াড়দের কাছে ‘কেরিয়ারের স্বপ্ন’ ছিল। স্টিভ ওয়া যাকে বলেছিলেন ‘ফাইনাল ফ্রন্টিয়ার’, আজ সেই দুর্গ ভেঙে ধূলিস্যাৎ! গত বছর নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ৩–০ হোয়াইটওয়াশ, আর এবার দক্ষিণ আফ্রিকার (India vs South Africa) ২–০ সিরিজ জয়—দুই বড় বিপর্যয়ের সাক্ষী রইল গৌতম গম্ভীরের (Indian Cricket team coach Gautam Gambhir) কোচিং-জমানা। এক অর্থে লজ্জার আত্মসমর্পণ করল ভারতীয় দল (Indian Cricket Team), কোনও লড়াই ছাড়াই।
গুয়াহাটির দ্বিতীয় টেস্টে (Test cricket) চতুর্থ দিনের খেলায় ৪০৮ রানে লজ্জাজনক হার। সিরিজও হাতছাড়া। দলের ব্যাটারদের লাল বলের জারিজুরি সামলানোর প্রয়োগক্ষমতা দেখা যায়নি, বোলিং পরিকল্পনা এলোমেলো, আর ম্যানেজমেন্টের মনোভাব… পুরোটাই বিভ্রান্ত। গম্ভীরের অধীনে যে টিম ‘ট্রানজিশনে’ রয়েছে, তা মানা যায়, কিন্তু সিদ্ধান্তগুলো এতটাই বিশৃঙ্খল, যে ফলাফল অনিবার্য।
ইডেন টেস্ট থেকেই গোলমাল শুরু। নিউজিল্যান্ডের বিপর্যয়ের পরও কেন সেই কলকাতার দুর্গম পিচে চার স্পিনার নিয়ে নামার প্ল্যান? নিজের ড্রেসিংরুমেই তো দেখা যাচ্ছিল ব্যাটাররা স্পিন সামলাতে পারছেন না। আগের কোচ রাহুল দ্রাবিড় কিউরেটরের সঙ্গে ঘন্টার পর ঘন্টা কাটাতেন—জানতেন কোন পিচে তাঁর দল টিকে থাকবে। গম্ভীর এখনও দেখাতে পারেননি তিনি কোন পিচে ভরসা রাখবেন।
আরও অদ্ভুত খেলোয়াড় বাছাই। অক্ষর প্যাটেল যিনি প্রথম টেস্টে ভারতের সেরা ব্যাটার ছিলেন, তাঁকে বাদ দিয়ে তুলে আনা হল নীতীশ রেড্ডিকে—যাঁর বোলিং ইতিমধ্যে ক্ষয়ে গিয়েছে, ব্যাটিংও পরীক্ষিত নয়। সাই সুদর্শনের স্পিন-পড়ার প্রশংসা করে তাঁকেই আবার কলকাতা টেস্টে বসিয়ে রাখা হল। ধ্রুব জুরেল, হর্ষিত রানা—সবাইকে একে একে ঢুকিয়ে দেওয়া হচ্ছে টেস্টে, অথচ কেউই পাঁচ দিন খেলার জন্য প্রস্তুত নন।
গম্ভীরের উপর সব দোষ চাপানোও অন্যায়। কিছু ভুল সম্পূর্ণ খেলোয়াড়দের নিজের। কে এল রাহুল প্রথম ইনিংসে প্রায় অনড় ফুট-ওয়ার্কে আউট, দ্বিতীয় ইনিংসেও একই ছবি। যশস্বী জয়সওয়াল কাট শট খেলতে গিয়ে বারবার ধরা দিচ্ছেন। ঋষভ পন্থ স্ট্যান্ড-ইন ক্যাপ্টেন হয়েও বিপজ্জনক মার্কো জানসেনকে এগিয়ে গিয়ে স্লগ করতে গেলেন। নীতীশ রেড্ডি শর্ট বলের ফাঁদে বারবার আটকালেন। এসব কি কোচের বলে দেওয়ার কথা?
অন্যদিকে দক্ষিণ আফ্রিকা একেবারে ‘টেস্ট ম্যাচ টেমপ্লেট’নিয়েই নামল—স্পেশালিস্ট ওপেনার, ক্লাসিক মিডল অর্ডার, নির্দিষ্ট স্পিন-ফাস্ট বোলার। আর ভারতের দলে একগাদা অলরাউন্ডার, ওয়ান ডাউনে বোলার, অনভিজ্ঞ ব্যাটার—পরিকল্পনায় ফাঁকই ফাঁক!
একটা সময় বিদেশি দল ভারতে সিরিজ খেলতে এলে প্রথম শ্রেণির ম্যাচ, বিশেষ ক্যাম্প—সবকিছু আগে থেকে সাজানো হত। রিকি পন্টিংয়ের মতো মহাতারকাও বছরের পর বছর চেষ্টা করেও এখানে ক্রিজে টিকে থাকতে পারতেন না। এখন সেই ভারতেই সেনুরান মুথুস্বামী সেঞ্চুরি, জানসেনের ম্যাচ-বদলানো ইনিংস—সবই হচ্ছে অনায়াসে। ভারতের গর্বিত ঘরের রেকর্ড এভাবে হারিয়ে যাওয়া শুধুই পরাজয় নয়, সতর্কবার্তা। দক্ষিণ আফ্রিকা দেখিয়ে দিল—দর্প যেদিন ভাঙে, সেদিন ঘরের মাঠও রেহাই দেয় না।