এদিন আবহাওয়া বা পিচ—কোনও কিছুই অভিষেকের ছন্দ নষ্ট করতে পারেনি। ৫২ বলে ১৪৮ রানে ছিল ১১টি ছয় ও ৭টি চার।

অভিষেক শর্মা
শেষ আপডেট: 30 November 2025 15:10
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ফের বিধ্বংসী ইনিংস। ফের চার-ছক্কার বন্যা। ফের আলোচনায় অভিষেক শর্মা (Abhishek Sharma)। আজ সৈয়দ মুস্তাক আলি ট্রফিতে (SMAT) আলো কাড়লেন পাঞ্জাবের তরুণ। বাংলার বিরুদ্ধে ৫২ বলে ১৪৮ রানের তাণ্ডব। পাঞ্জাব তুলল ২০ ওভারে ৩১০/৫—টুর্নামেন্টের ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দলগত স্কোর।
এদিন শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিলেন অভিষেক। মাত্র ১২ বলে পঞ্চাশ ছুঁয়ে ফেলেন—পুরুষদের টি-২০ ক্রিকেটে যৌথভাবে তৃতীয় দ্রুততম এবং ভারতীয়দের মধ্যে যৌথভাবে দ্বিতীয় দ্রুততম হাফসেঞ্চুরি। প্রথম ১২ বলে পাঁচটি চার ও পাঁচটি ছয় মেরে এই রেকর্ড হাসিল করেন। ডট বল মাত্র একটি! ২৫ বছরের বাঁ-হাতি ওপেনার টি-২০ আন্তর্জাতিক, ফ্র্যাঞ্চাইজি ও ঘরোয়া—সব মিলে ইতিহাসের পঞ্চম ব্যাটার, যিনি ১২ বলে পঞ্চাশ হাঁকালেন। সবার আগে নজির গড়েছিলেন যিনি, তিনি অভিষেকের মেন্টর যুবরাজ সিং (Yuvraj Singh)—২০০৭ টি-২০ বিশ্বকাপে (T20 World Cup) স্টুয়ার্ট ব্রডকে ছয় ছয় মারা সেই চর্চিত ম্যাচে।
হাফ সেঞ্চুরি নিশ্চিত হলেও অভিষেক কিন্তু আক্রমণ থেকে সরেননি। ৩২ বলে শতরান ছুঁয়ে ফেলেন। যদিও পুরুষদের টি-২০-তে দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ড (এস্তোনিয়ার সাহিল চৌহানের, ২৭ বলে) ভাঙা অধরাই রইল। ভারতীয়দের মধ্যে তৃতীয় দ্রুততম টি-২০ শতরান করেছেন অভিষেক। এর আগে দ্বিতীয় দ্রুততম টি-২০ সেঞ্চুরির রেকর্ডও ভাগ করে নিয়েছেন (উর্বিল প্যাটেলের সঙ্গে)—গত বছর মুস্তাক আলিতে (২৮ বলে)।
বাংলার বিরুদ্ধে প্রভসিমরন সিংহের (Prabhsimran Singh) সঙ্গে ওপেনে নেমে অভিষেক দলকে পথ দেখান। প্রভসিমরন করেন ৩৫ বলে ৭০। দু’জনের জুটি পঞ্জাবকে পাওয়ারপ্লেতে এগিয়ে দেয়। শেষ পর্যন্ত ইনিংস থামে ৩১০-তে—যা বরোদার (Baroda) ২০২৪ সালে সিকিমের বিরুদ্ধে ৩৪৯/৫-র পরে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। বাংলা গুটিয়ে যায় ১৯৮ রানে।
এদিন আবহাওয়া বা পিচ—কোনও কিছুই অভিষেকের ছন্দ নষ্ট করতে পারেনি। ৫২ বলে ১৪৮ রানে ছিল ১১টি ছয় ও ৭টি চার। ম্যাচের শুরুতে আক্রমণ, মিডল ওভারে রেকর্ড ভাঙা, শেষ দিকে ছন্দ বজায় রাখা—সব মিলিয়ে একেবারে নিখুঁত টি-২০ ইনিংস। আইপিএল নিলাম আসন্ন। তার আগে নিজের ফর্ম, ফিটনেস ও ভয়ডরহীন ব্যাটিং দিয়ে বড় বার্তা দিলেন অভিষেক শর্মা।