হেডস্যারের চোখে সঞ্জু স্যামসন কারও প্রতিরূপ নন। তিনি নিজের গল্প নিজেই লিখছেন। এবারের বিশ্বকাপ হয়তো সেই গল্পের সূচনা মাত্র।

সঞ্জু ও গম্ভীর
শেষ আপডেট: 9 March 2026 15:44
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারতের টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়ের গল্পে নতুন নায়ক একজনই—সঞ্জু স্যামসন (Sanju Samson)। টুর্নামেন্টের শুরুতে দলে জায়গা পাননি। বেঞ্চে বসে ম্যাচের পর ম্যাচ। কিন্তু সুযোগ মিলতেই বদলে গেল ছবি। টানা তিনটি ঝলমলে ইনিংস। আর সেই পারফরম্যান্সই শেষ পর্যন্ত এনে দিল ‘প্লেয়ার অফ দ্য টুর্নামেন্ট’ সম্মান।
টুর্নামেন্ট শেষ। খেতাব ঘরে এনেছে ভারত। তাই স্বাভাবিকভাবে তুলনার বাজার বেশ গরম! কেউ বলছেন সঞ্জু রোহিত শর্মার (Rohit Sharma) মতো নির্ভীক। কারও চোখে বিরাট কোহলির (Virat Kohli) মতো ধৈর্যশীল। অনেকে আবার ২০১১ বিশ্বকাপের নায়ক যুবরাজ সিংয়ের (Yuvraj Singh) ‘উত্তরসূরি’-ও পেয়ে গিয়েছেন!
ভারতের হেড কোচ গৌতম গম্ভীর (Gautam Gambhir) কিন্তু এসব আলোচনায় মোটেও আগ্রহী নন। ফাইনালের পর সাংবাদিক বৈঠকে স্পষ্ট সুরে জানান—সঞ্জুকে অন্য কারও সঙ্গে তুলনা করা ঠিক নয়। বলেন, ‘দুজন মানুষকে এভাবে বিচারে আনা অন্যায্য। সঞ্জু যা করেছে, সেটা ওর নিজের কৃতিত্ব। টানা তিনটা ম্যাচে এমন ইনিংস খেলতে গেলে চরিত্র লাগে, সাহস লাগে।’
গম্ভীর মনে করিয়ে দেন, টুর্নামেন্টের আগে সঞ্জুর সময়টা ভাল যায়নি। নিউজিল্যান্ডের (New Zealand) বিরুদ্ধে সিরিজে বড় রান নেই, বিশ্বকাপের শুরুতেও প্রথম একাদশে জায়গা হারান। তবু হাল ছাড়েননি দক্ষিণী ব্যাটার। সুযোগ আসতেই নিজেকে প্রমাণ করেছেন। গম্ভীরের কথায়, ‘তোমার কোচ বা অধিনায়ক যতই ভরসা দেখাক, ভিতরে ভিতরে তুমি জানো, চাপটা কতটা। তখন ফিরে এসে এভাবে খেলতে গেলে বিশেষ প্রতিভা লাগে।’
টানা তিনটি ম্যাচ জেতানো ইনিংস
এই বিশ্বকাপে সঞ্জুর আসল গল্প শুরু সুপার এইট পর্বে। কলকাতায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের (West Indies) বিরুদ্ধে খেলেন দুর্দান্ত ৯৭ রানের ইনিংস। সেই ম্যাচ থেকেই ছন্দে ফেরেন তিনি। সেমিফাইনাল ও ফাইনাল—দু’ম্যাচেই করেন ৮৯ রান। টি–২০ বিশ্বকাপের ইতিহাসে একই সংস্করণে সেমিফাইনাল ও ফাইনালে অর্ধশতক করার কীর্তি আগে ভারতের হয়ে ছিল শুধু বিরাট কোহলির (Virat Kohli)। এবার সেই তালিকায় নাম লেখালেন সঞ্জুও।
টুর্নামেন্টে মোট পাঁচ ইনিংসে ৩২১ রান। ভেঙে দেন কোহলিরই পুরনো রেকর্ড—একটি টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতীয় ব্যাটারের সর্বাধিক রানের নজির। যদিও শুধু রানই নয়, আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়েও নজর কেড়েছেন সঞ্জু। মেরেছেন ২৪টি ছক্কা—যা এক বিশ্বকাপ সংস্করণে নতুন রেকর্ড।
কুম্বলের চোখে রোহিত–বিরাটের মিশেল
ভারতের প্রাক্তন কোচ ও কিংবদন্তি স্পিনার অনিল কুম্বলে (Anil Kumble) অবশ্য টিম ইন্ডিয়ার ওপেনারে দেখেছেন অন্য ছবি। তাঁর মতে, সঞ্জুর খেলায় রোহিত শর্মা (Rohit Sharma) ও বিরাট কোহলি (Virat Kohli)—দুজনেরই ছাপ স্পষ্ট। কুম্বলে বলেন, ‘কখন ইনিংস গড়ে তুলতে হবে, সেটা ও খুব ভাল বোঝে—ঠিক কোহলির মতো। আবার পাওয়ারপ্লেতে সুযোগ পেলেই বোলারদের ওপর চড়াও হয়—যেটা রোহিত করে।’
দক্ষিণ আফ্রিকার প্রাক্তন অধিনায়ক ফাফ ডু প্লেসিস-ও (Faf du Plessis) সুরে সু মিলিয়ে সঞ্জুর ব্যাটিং পরিকল্পনার প্রশংসা করেছেন। তাঁর মতে, মারকুটে ব্যাটার নিজের খেলার ধরনটা খুব পরিষ্কারভাবে জানেন। তাই প্রতিটি ইনিংসেই একই প্ল্যানিং ধরে খেলতে পেরেছেন।
তবে গম্ভীর এতশত তত্ত্বে বিচলিত নন। তাঁর কাছে বিষয়টা একেবারেই আলাদা। হেডস্যারের চোখে সঞ্জু স্যামসন (Sanju Samson) কারও প্রতিরূপ নন। তিনি নিজের গল্প নিজেই লিখছেন। এবারের বিশ্বকাপ হয়তো সেই গল্পের সূচনা মাত্র।