চিন্নাস্বামীতে আইপিএলের মহারণ! দর্পচূর্ণ চেন্নাই সুপার কিংসের মুখোমুখি ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু। বিরাট কোহলি বনাম ঋতুরাজ গায়কোয়াড়ের হাই-ভোল্টেজ লড়াইয়ের বিস্তারিত পড়ুন।

আরসিবি বনাম সিএসকে
শেষ আপডেট: 5 April 2026 15:36
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এক-দুই সিজনের গল্প নয়। দশকেরও বেশি সময় ধরে চিন্নাস্বামীতে চেন্নাই সুপার কিংস এমন একটা ভাব নিয়ে ওয়ার্ম আপ করত, যেন মাঠটা তাদের!
সেই দর্প আপাতত উধাও! গেলবারের ‘লাস্ট বয়’ এবার প্রথম দুই ম্যাচের দুটোতেই হেরেছে। আজ রাতে সেই পুরনো রঙ্গমঞ্চে ফের মুখোমুখি আরসিবি (Royal Challengers Bengaluru)-চেন্নাই সুপার কিংস (Chennai Super Kings)। ধোনির অনুপস্থিতিতে সিএসকে ছিন্নভিন্ন, পরিকল্পনাহীন। কিছু একটা যেন হাতড়ে বেড়াচ্ছে। শুধু উধাও হয়ে যাওয়া ফর্ম? নাকি গতজন্মের অনুপ্রেরণা? উত্তরটা সবচেয়ে ভাল জানেন অধিনায়ক ঋতুরাজ গায়কোয়াড়। আজ পরাস্ত হলে ঘরে-বাইরে চাপ যে দ্বিগুণ বাড়বে, টসে নামার সময়ে সেটা বিলক্ষণ মাথায় রাখবেন তরুণ দলনেতা।
সিএসকে-র ম্যাচ দুটো দেখলেই বোঝা যায় গলদের শিকড় কোথায়, কতটা ছড়িয়ে। রাজস্থানের বিরুদ্ধে মাত্র ১২১ রান। পাঞ্জাবের বিরুদ্ধে ২০৯ তুলেও হার। ব্যাটিং বিপর্যয়, বোলিং আরও বিপর্যস্ত।
তরুণ আয়ুষ মাত্রে পাঞ্জাবের বিরুদ্ধে ৪৩ বলে ৭৩ রান করেছেন ঠিকই। কিন্তু ভারতের জার্সিতে অনূর্ধ্ব একুশের হয়ে নামা একজনের উপর ভর করে আস্ত আইপিএল জেতা সম্ভব? সঞ্জু স্যামসন বিশ্বকাপে ফর্মে ছিলেন। অদ্ভুতভাবে, চলতি টুর্নামেন্টে এখনও পর্যন্ত নিজেকে মেলে ধরতে পারেননি। ঋতুরাজকেও সেই চেনা ফর্মে দেখা যাচ্ছে না। বোলিংয়ে ম্যাট হেনরি ও খলিল আহমেদের ধারাবাহিকতার অভাব স্পষ্ট। দল পাঞ্জাবের বিরুদ্ধে ২১০ রান রক্ষা করতে ব্যর্থ—তথ্যটুকু বলে দেয় বোলিং ইউনিট কতটা নড়বড়ে। নুর আহমেদও আক্রমণ তৈরিতে অসফল। কোথাও রবীন্দ্র জাদেজার অভাব অনুভূত হচ্ছে কি? প্রশ্ন উঠবে।
শেষ তিনটি আইপিএল লড়াইয়ে সিএসকে আরসিবির কাছে হেরেছে। এই মাঠে মুখোমুখি হওয়ার রেকর্ড অবশ্য সমান-সমান—দু’দলের ঝুলিতে ছ’টি করে জয়। বিরাট কোহলিরা প্রথম ম্যাচে সানরাইজার্সের বিরুদ্ধে যা করেছেন, তা চমকে দেওয়ার মতো। ২০২ রান মাত্র ১৫.৪ ওভারে সফল চেজ—আইপিএলের ইতিহাসে দ্রুততম দুশোর উপর স্কোর তাড়া করে জেতা! বিরাট কোহলি ৩৮ বলে ৬৯ অপরাজিত। দেবদত্ত পাড়িক্কল ২৬ বলে ৬১। রজত পাটিদার ১২ বলে ৩১। ব্যাটিং লাইনআপ এমন, যে পর্বতপ্রমাণ টার্গেটও রান ছোট ছোট লাগে!
বোলিংয়েও আরসিবির আলাদা ঝাঁজ। নিউজিল্যান্ডের জ্যাকব ডাফি হেজলউডের অনুপস্থিতিতে লম্বা লেন্থে বল করছেন। ভুবনেশ্বর কুমার অভিজ্ঞতায় ভরসা জোগাচ্ছেন। অভিনন্দন সিং অভিষেকেই উইকেট পেয়েছেন। মাঝের ওভারে দুই স্পিনার ক্রুণাল পাণ্ডিয়া ও সুযশ শর্মা সামাল দিচ্ছেন।
আরসিবি শিবিরে প্রথম একাদশ বদলানোর কারণ নেই। বিরাট, ফিল সল্ট, পাড়িক্কল, পাটিদার, জিতেশ, টিম ডেভিড, শেফার্ড, ক্রুণাল, ভুবনেশ্বর, অভিনন্দন ও ডাফি।
সিএসকের জন্য টিম নির্বাচন বেশ কঠিন। প্রশান্ত বীর ও কার্তিক শর্মা মাঠে নামলেও ঠিকমতো খেলার সুযোগ পাচ্ছেন না। বিদেশি খেলোয়াড়ের সংমিশ্রণ নিয়েও সওয়াল উঠছে।
চিন্নাস্বামীর পিচ ব্যাটারদের স্বর্গরাজ্য, বোলারদের বধ্যভূমি। দুশোর কম রান মানেই হারের আশঙ্কা। টস জিতে ফিল্ডিং নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। সন্ধের আকাশ নির্মেঘ, পরিষ্কার। কিন্তু সিএসকের ভাগ্যাকাশ? জবাব মিলবে আজ রাতে।