মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের বিরুদ্ধে ৫১ বলে ৯০ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলে দিল্লির নায়ক সমীর রিজভি। তরুণ এই প্রতিভার উত্থান দেখে ভারতীয় ঘরোয়া ক্রিকেটের পরিকাঠামোকে কুর্নিশ জানালেন মহম্মদ কাইফ। বিস্তারিত পড়ুন।
.jpeg.webp)
সমীর রিজভি
শেষ আপডেট: 5 April 2026 14:06
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আইপিএলের মঞ্চে নতুন নায়ক, মুখে মুখে চর্চা। আপাতত তিনি ‘সাধারণ’ থেকে ‘বিশেষ’। যদিও এই ‘স্পেশ্যাল’ হয়ে ওঠার গল্পটা শুধু এক ম্যাচের কাহিনি নয়—দীর্ঘ পরিশ্রমের ফল। যার সূতিকাগার ভারতের ঘরোয়া ক্রিকেট। রঞ্জি থেকে সৈয়দ মুস্তাক আলি ট্রফি… একের পর এক টুর্নামেন্টে নিজের জাত ও যোগ্যতা প্রমাণ করে এবার আইপিএলের ময়দান কাঁপানো। দিল্লি ক্যাপিটালসের (Delhi Capitals) তরুণ ব্যাটার সমীর রিজভির (Sameer Rizvi) উত্থান দেখে অবশ্য তাঁকে তারিফের পাশাপাশি ঘরোয়া ক্রিকেট কাঠামোকে কুর্নিশ জানালেন প্রাক্তন ক্রিকেটার মহম্মদ কাইফ (Mohammed Kaif)। মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের (Mumbai Indians) বিরুদ্ধে ৫১ বলে ৯০ রানের ম্যাচ জেতানো ইনিংসের পরই এই নিয়ে মন্তব্য করেছেন তিনি।
কাইফ স্পষ্ট ভাষায় জানান—রিজভির সাফল্য হঠাৎ আসেনি। বরং, এর পেছনে রয়েছে বছরের পর বছর ধরে ঘরোয়া ক্রিকেটে (Indian Domestic Cricket) অকল্পনীয় পরিশ্রম। টিম ইন্ডিয়ার প্রাক্তন তারকা সোশ্যাল মিডিয়ায় লেখেন, ‘রিজভির এই আইপিএল পারফরম্যান্স—৫৮, ৭০, আর এখন ৯০—সবটাই ভারতের ডোমেস্টিক ক্রিকেটকে স্যালুট।’
এই তরুণ ব্যাটার ও তাঁর সতীর্থ প্রশান্ত বীর (Prashant Veer) প্রায় সারাবছর উত্তরপ্রদেশের (Uttar Pradesh) হয়ে ঘরোয়া টুর্নামেন্ট খেলেছেন। একদিন কলকাতা, পরের দিন মুম্বই—এইভাবে চলেছে কষ্টকর সফর। নাগাড়ে ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতাই বড় মঞ্চে দাপট দেখানোর আত্মবিশ্বাস জোগায়। মত কাইফের। বলেন, ‘যত ঘরোয়া ক্রিকেট খেলবে, তত সাহস বাড়বে। কঠোর পরিশ্রমের ফল একদিন মিলবেই মিলবে।’
মুম্বইয়ের বিরুদ্ধে শুরুটা ভাল ছিল না দিল্লির। ১৬৩ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে গিয়ে টপ অর্ডার দ্রুত ভেঙে পড়ে। সেই সময় ইমপ্যাক্ট প্লেয়ার হিসেবে নামেন রিজভি। পাথুম নিশঙ্কার (Pathum Nissanka) সঙ্গে ৬৬ রানের জুটি গড়ে ম্যাচে ফেরান দলকে। শুরুতে সময় নেন। পিচ ছিল ধীরগতির, শট খেলা সহজ ছিল না। কিন্তু সেট হওয়ার পরই বদলে ফেলেন গিয়ার। ৫১ বলে ৯০—ইনিংস সাজানো ৭টি চার ও ৭টি ছক্কায়। শেষদিকে ডেভিড মিলারের (David Miller) সঙ্গে ম্যাচ শেষ করেন, তাও ১১ বল বাকি থাকতে।
শুধু ধুমধাড়াক্কা শট নয়, সবচেয়ে বড় কথা, রিজভি ইনিংসের গতি নিয়ন্ত্রণ করেছেন নিখুঁতভাবে। কখন ঝুঁকি নিতে হবে, থামতে হবে কখন—সেই পরিপক্বতা চোখে পড়েছে। যার ভিত তৈরি হয়েছিল আগেই। এবারের বিজয় হাজারে ট্রফিতে (Vijay Hazare Trophy) রিজভি উত্তরপ্রদেশের অন্যতম সেরা ব্যাটার। ৫৯.৫০ গড়সমেত ২৩৮ রান। জম্মু ও কাশ্মীরের বিরুদ্ধে ৪৫ বলে ৮০, নকআউটে অপরাজিত ৮৮—চাপের ম্যাচে দুরন্ত পারফর্ম করার ক্ষমতা তখনই প্রমাণ করেছেন।
তবু এতকিছুর পরেও আইপিএল শুরুর আগে প্রথম একাদশে তাঁর জায়গা নিশ্চিত ছিল না। দলে অভিষেক পোড়েল (Abishek Porel), আশুতোষ শর্মা (Ashutosh Sharma), করুণ নায়ারের (Karun Nair) মতো অভিজ্ঞ মুখ। কিন্তু ম্যানেজমেন্ট ঝুঁকি নিয়ে তাঁরই উপর আস্থা রাখে। যার প্রতিদানও দিয়েছেন। টানা দু’টি ইনিংসেই ম্যাচ ঘুরিয়ে দিয়ে এখন আলোচনার কেন্দ্রে সমীর রিজভি। তাঁর উত্থানের গল্প শুধু এক সিজনের ঝলক নয়। এটা বুঝিয়ে দিল, ভারতের ঘরোয়া ক্রিকেট এখনও প্রতিভার সবচেয়ে বড় ‘ফ্যাক্টরি’। যেখানে গড়ে ওঠে আগামী দিনের ম্যাচ উইনার।