দিনের শেষে স্কোর ২৪৯/৫। প্রথম সেশন জম্মুর, মাঝে পাল্টা লড়াই বাংলার। নতুন বল হাতে নবি দাপট দেখালেও, সুদীপের ধৈর্য ও শট নির্বাচনে ভর করে ম্যাচে টিকে রইল আয়োজক টিম।

সুদীপ ঘরামি
শেষ আপডেট: 15 February 2026 16:46
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সেমিফাইনালের মঞ্চ। চাপ, প্রত্যাশা, নতুন বলের সুইং—সব মিলিয়ে কঠিন পরীক্ষা। কিন্তু সুদীপ কুমার ঘরামি (Sudip Kumar Gharami) যেন অন্য ছন্দে। আগের ম্যাচে ২৯৯ করার পর এ বারও ব্যাট হাতে বাংলাকে ভরসা জোগালেন। জম্মু ও কাশ্মীরের (Jammu & Kashmir) বিরুদ্ধে প্রথম দিনের খেলায় সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে দলকে কার্যত একা হাতে শক্ত ভিতের উপর দাঁড় করালেন তিনি।
আজ কল্যাণী স্টেডিয়ামে (Kalyani) টস জিতে আগে বল করার সিদ্ধান্ত নেয় জম্মু-কাশ্মীর। শুরুটা অবশ্য বাংলার পক্ষে সহজ ছিল না। দ্বিতীয় বলেই সুদীপ চ্যাটার্জি আউট। নতুন ব্যাটার হিসেবে নামেন ঘরামি। প্রথমদিকে প্রবল চাপে পড়েন। একাধিক এলবিডব্লিউ ও কট-বিহাইন্ড আপিল, রিভিউ—সব মিলিয়ে উত্তেজক শুরু। তবে ভাগ্য ও ধৈর্য—দুটোই ছিল তাঁর পক্ষে।
অভিমন্যু ঈশ্বরনের (Abhimanyu Easwaran) সঙ্গে ধীরে ধীরে ইনিংস গড়তে থাকেন সুদীপ। উলটো প্রান্তে ঈশ্বরনও আত্মবিশ্বাসী। দু’জনে মিলে দ্বিতীয় উইকেটে পঞ্চাশ পার করেন। তবে লাঞ্চের পর আকিব নবির (Auqib Nabi) দুর্দান্ত ডেলিভারিতে ৪৯ রানে বোল্ড হয়ে ফেরেন বাংলার অধিনায়ক। তারপর চাপ আবার জমতে শুরু করে। নবি ও সুনীল কুমার (Sunil Kumar) নিয়মিত গুড লেংথ ডেলিভারিতে বাংলার ব্যাটারদের পরীক্ষা নিতে থাকেন। দ্রুত ফেরেন সুরজ সিন্ধু জয়সওয়াল। অনুষ্টুপ মজুমদারের (Anustup Majumdar) সঙ্গেও বড় পার্টনারশিপ গড়তে ব্যর্থ ঘরামি। তবু একপ্রান্ত ধরে রাখেন তিনি।
আজ বাঁ-হাতি স্পিনার আবিদ মুস্তাককে (Abid Mushtaq) বিশেষভাবে টার্গেট করেছিলেন সুদীপ। এক ওভারেই তিনটি চার, যার সুবাদে ফেরেন ছন্দে। ফ্রন্ট ফুট ড্রাইভ, দুরন্ত টাইমিংয়ে স্কোয়ার কাট, সুইপ—সব শটেই আত্মবিশ্বাস স্পষ্ট। অবশেষে ৫৩তম ওভারে এক রান নিয়ে শতরান পূরণ। গ্লাভস খুলে চেন ছুঁয়ে উদ্যাপন—মুহূর্তটা স্মরণীয়। এই সেঞ্চুরি শুধু ব্যক্তিগত মাইলফলক নয়। চলতি রঞ্জি মরশুমে তাঁর রান এখন ৭০০ পার। ধারাবাহিকতা স্পষ্ট। বড় ম্যাচে বড় ইনিংস খেলার ক্ষমতা আরও একবার প্রমাণ করলেন সুদীপ।
দিনের শেষে স্কোর ২৪৯/৫। প্রথম সেশন জম্মুর, মাঝে পাল্টা লড়াই বাংলার। নতুন বল হাতে নবি দাপট দেখালেও, সুদীপের ধৈর্য ও শট নির্বাচনে ভর করে ম্যাচে টিকে রইল আয়োজক টিম। পিচে কিছুটা সিম মুভমেন্ট আছে। তবে ব্যাটার সেট হয়ে গেলে রান তোলা সম্ভব—সুদীপের ইনিংসই তার প্রমাণ। দ্বিতীয় দিনের লক্ষ্য পরিষ্কার—প্রথম ইনিংসে বড় স্কোর গড়া। সেমিফাইনালের মতো আসরে ৩৫০-৪০০ রানের লক্ষ্যে এগোতে চাইবে বাংলা।