আইসিসি অবশ্য বারবার জানিয়েছে, পাইক্রফট কোনও নিয়মভঙ্গ করেননি। তাদের ছয় দফা জবাবে বলা হয়েছে, ম্যাচ রেফারির কাজ টসের মর্যাদা অটুট রাখা। বাইরের প্রোটোকল দেখা তাঁর দায়িত্ব নয়। ফলে পাকিস্তানের অভিযোগ ভিত্তিহীন।

গ্রাফিক্স: দিব্যেন্দু দাস
শেষ আপডেট: 18 September 2025 13:02
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এশিয়া কাপে (Asia Cup 2025) ভারত–পাকিস্তান ম্যাচ ঘিরে ‘হ্যান্ডশেক বিতর্ক’ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের মঞ্চ কাঁপাচ্ছে। পাকিস্তান একসময় বয়কটের হুমকি দিলেন শেষ পর্যন্ত মাঠে নেমেছে।
কিন্তু নাটকের গনগনে প্রবাহ এখানেই থেমে নেই। এবার তাতে বাড়তি ইন্ধন জোগালেন পিসিবির (PCB) প্রাক্তন চেয়ারম্যান রামিজ রাজা (Ramiz Raja)। তাঁর দাবি—ম্যাচ রেফারি অ্যান্ডি পাইক্রফট (Andy Pycroft) আসলে ভারতের স্থায়ী ‘ফিক্সার’! রাজার সরাসরি অভিযোগ, পাইক্রফট পক্ষপাতদুষ্ট। তাঁর কথায়, ‘আমি বহুদিন ধরে দেখছি, অ্যান্ডি পাইক্রফটকে ভারতীয় দলের ম্যাচে বারবার দায়িত্বে বসানো হয়। প্রায় ৯০টি ম্যাচে তিনি ভারতের খেলা পরিচালনা করেছেন। এটা একেবারেই অস্বাভাবিক। নিরপেক্ষতার যে কথা বলা হয়, তার লেশমাত্র নেই!’
আসলে সবকিছুর সূত্রপাত সেই ১৪ সেপ্টেম্বর। দুবাই আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে ভারত–পাক ম্যাচের টসে দুই অধিনায়ক—সূর্যকুমার যাদব (Suryakumar Yadav) ও সলমন আঘা (Salman Agha) করমর্দন করেননি। শুধু তাই নয়, দলপত্র পর্যন্ত বিনিময় হয়নি। পাকিস্তান সরাসরি দায় চাপায় পাইক্রফটের উপর। তাদের দাবি, ম্যাচ রেফারিই নাকি পাক অধিনায়ককে হাত মেলাতে বারণ করেছিলেন। এই আচরণকে পিসিবি ক্রিকেটের ‘স্পিরিট-বিরোধী’ ও ‘নিয়ম উল্লঙ্ঘন’ হিসেবে দেগে দেয়।
টিম ইন্ডিয়ার তরফে সূর্যকুমার ব্যাখ্যা দেন, ভারতের অবস্থান স্পষ্ট—এপ্রিলের পহেলগামে সন্ত্রাসহানায় নিহত ২৬ জন সাধারণ নাগরিকের স্মরণে পাকিস্তানের সঙ্গে হাত মেলানো সম্ভব নয়। তাঁর কথায়, ‘কিছু কিছু বিষয় খেলোয়াড়সুলভ আচরণের থেকেও বড়!’
এই প্রেক্ষিতে পিছু হটার বদলে পাকিস্তান বোর্ড দাবি তোলে—পাইক্রফটকে এশিয়া কাপ থেকে সরাতে হবে। না হলে তারা খেলবে না। যদিও তাদের আর্জিতে কান দেয়নি আইসিসি। দু’দফা আবেদন খারিজ করে দেয়। ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ামক সংস্থার বক্তব্য, পাইক্রফট কেবল আয়োজকদের নির্দেশই পৌঁছে দিয়েছিলেন, নিয়ম ভাঙেননি।
অবশেষে পাকিস্তান আমিরশাহি ম্যাচের আগে বয়কটের হুমকি থেকে সরে দাঁড়ায়। কিন্তু তখনও নাটক অব্যহত। যার জেরে ম্যাচ শুরু হয় দেরিতে। শোনা যায়, বাইশ গজের লড়াই শুরুর আগে পাইক্রফট নাকি পাক দলের কোচ, অধিনায়ক ও ম্যানেজারের সঙ্গে বৈঠকে ‘ক্ষমা’ চেয়েছেন। আর সেটাই বয়কট থেকে সরে আসার প্রধান কারণ।
এমত পরিস্থিতিতে পাক বোর্ডের সদর দফতরের বাইরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন রামিজ রাজা। আর উগড়ে দেন ক্ষোভ। তাঁর বয়ানে, ‘আমরা জিতেছি। আবেগ তুঙ্গে ছিল, অবস্থা ছিল ভয়ঙ্কর। তবু দল শেষ পর্যন্ত খেলতে নামল—এটাই সঠিক সিদ্ধান্ত। বয়কট করলে পাকিস্তান ক্রিকেটেরই ক্ষতি হত। আমি সবসময় বিশ্বাস করি, জবাব দিতে হবে মাঠে!’
এখানেই থেমে থাকেননি রামিজ। আক্রমণের নিশানায় এনেছেন সূর্যকুমারের মন্তব্যকেও। বলেছেন, ‘আমার সবচেয়ে বড় আপত্তি, ম্যাচশেষে ভারতীয় অধিনায়কের কথা নিয়ে। যে জয় সশস্ত্র বাহিনীকে উৎসর্গ করলেন, পাহেলগামের ঘটনার কথা তুললেন—এগুলো ক্রিকেটকে রাজনৈতিক মঞ্চে পরিণত করছে। যা বিপজ্জনক। ক্রিকেটকে ক্রিকেট হিসেবেই রাখা দরকার। যদি রাজনৈতিক বার্তা ঢুকে যায়, তবে খেলাধুলার মূল স্পিরিট নষ্ট হবে!’
এরপরই তাঁর সোজাসাপটা অভিযোগ, ‘অ্যান্ডি পাইক্রফট বরাবরই ভারতের প্রিয় রেফারি। আমি দেখি, ভারতের ম্যাচ হলেই পাইক্রফটকে দায়িত্বে বসানো হয়। প্রায় ৯০টা ম্যাচে তিনি তদারকি করেছেন। এটা কোনও নিরপেক্ষ আচরণ নয়। এখানে একচোখো মানসিকতা পরিষ্কার ধরা পড়ছে। নিরপেক্ষ প্ল্যাটফর্মে এটা চলতে পারে না!’
রামিজ রাজা ছাড়াও আরেক প্রাক্তন চেয়ারম্যান নাজম শেঠিকেও (Najam Sethi) আলোচনার জন্য মহসিন নকভি (Mohsin Naqvi) ডেকেছিলেন। বৈঠক শেষে পাক ক্রিকেট বোর্ডের প্রধান নির্দেশ দেন—দল মাঠে নামবে। তবে এই আলোচনার বিস্তারিত আপাতত আড়ালে।
আইসিসি অবশ্য বারবার জানিয়েছে, পাইক্রফট কোনও নিয়মভঙ্গ করেননি। তাদের ছয় দফা জবাবে বলা হয়েছে, ম্যাচ রেফারির কাজ টসের মর্যাদা অটুট রাখা। বাইরের প্রোটোকল দেখা তাঁর দায়িত্ব নয়। ফলে পাকিস্তানের অভিযোগ ভিত্তিহীন।