চোটের আগে পর্যন্ত প্রতীকা ছিলেন দলের অন্যতম সেরা পারফর্মার। টুর্নামেন্টে ৬ ইনিংসে ৩০৮ রান—দলের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। তাঁর ইনিংসগুলির মধ্যে দুটি হাফসেঞ্চুরি, যা ভারতের সেমিফাইনাল পর্যন্ত পৌঁছতে বড় ভূমিকা নেয়।

গ্রাফিক্স: দিব্যেন্দু দাস
শেষ আপডেট: 7 November 2025 14:51
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শেষ পর্যন্ত কাটল অনিশ্চয়তা। ভারতের (India) ব্যাটার প্রতীকা রাওয়াল (Pratika Rawal) পেলেন প্রাপ্য বিশ্বকাপজয়ী মেডেল। জানালেন তাঁর বাবা প্রদীপ রাওয়াল (Pradeep Rawal)। আইসিসি (ICC) প্রেসিডেন্ট জয় শাহের (Jay Shah) সরাসরি হস্তক্ষেপেই জট কেটেছে, দাবি পরিবারের।
প্রতীকা ছিলেন ভারতের বিশ্বকাপের (Women’s World Cup 2025) মূল স্কোয়াডে। কিন্তু বাংলাদেশের (Bangladesh) বিরুদ্ধে শেষ গ্রুপ ম্যাচে গোড়ালি মচকে ছিটকে যান টুর্নামেন্ট থেকে। তাঁর জায়গায় দলে ঢোকানো হয় শেফালি বর্মাকে (Shafali Verma)। যিনি ফাইনালে দক্ষিণ আফ্রিকার (South Africa) বিরুদ্ধে দুর্দান্ত অলরাউন্ড পারফরম্যান্সে ভারতের ৫২ রানের জয়ে বড় ভূমিকা নেন।
নবি মুম্বইয়ের (Navi Mumbai) ডিওয়াই পাটিল স্টেডিয়ামে যখন গোটা দল ট্রফি হাতে উদযাপনে মেতেছে, তখন প্রতীকাকে দেখা যায় হুইলচেয়ারে বসে—গলায় কোনও মেডেল নেই। কারণ আইসিসি–র নিয়ম অনুযায়ী, ফাইনালের ১৫ জনই কেবল বিজয়ীর মেডেল পায়। প্রতীকা তখন স্কোয়াডের বাইরে।
কিন্তু কয়েক দিন পরেই দেখা যায়, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi) ও রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর (Droupadi Murmu) সঙ্গে দেখা করতে যাওয়ার সময় প্রতীকার গলায় ঝুলছে মেডেল। সোশ্যাল মিডিয়ায় তখন শুরু হয় আলোচনা—কীভাবে সম্ভব হল? অধরা মেডেল জুটল প্রতীকার?
এই নিয়েই মুখ খুলেছেন খেলোয়াড়ের বাবা প্রদীপ রাওয়াল। এক সংবাদমাধ্যমকে তিনি বলেন, ‘জয় শাহ নিজে আমাদের টেক্সট করেন। জানান, আইসিসির সঙ্গে কথা হয়েছে। প্রতীকাকে মেডেল দেওয়া হবে। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা হওয়ার আগেই সে মেডেল পেয়ে যায়। জয় শাহ নিজে উদ্যোগ নিয়ে ব্যাপারটা দেখেছেন, আমাদের জানিয়েও ছিলেন!’ আইসিসি বা বিসিসিআই (BCCI) কেউই এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু বলেনি। তবে এই পদক্ষেপকে ক্রিকেট মহল স্বাগত জানিয়েছে।
চোটের আগে পর্যন্ত প্রতীকা ছিলেন দলের অন্যতম সেরা পারফর্মার। টুর্নামেন্টে ৬ ইনিংসে ৩০৮ রান—দলের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। তাঁর ইনিংসগুলির মধ্যে দুটি হাফসেঞ্চুরি, যা ভারতের সেমিফাইনাল পর্যন্ত পৌঁছতে বড় ভূমিকা নেয়। খেলতে না পারলেও বিশ্বকাপজয়ের এই মেডেল এখন তাঁর কাছে শুধু প্রাপ্তির প্রতীক নয়, বরং একটা দুরন্ত যাত্রার স্বীকৃতি—যার সমাপ্তি সুখকর হল জয় শাহের সময়োচিত হস্তক্ষেপেই।