শুধু রাজনৈতিক মন্তব্য নয়, পাকিস্তানের সঙ্গে ক্রিকেট মাঠের লড়াইয়ের স্মৃতিও টেনে এনেছেন তিনি। বিশেষ করে উঠে এসেছে শাহিদ আফ্রিদির প্রসঙ্গ।

ইরফান পাঠান
শেষ আপডেট: 17 August 2025 11:06
দ্য ওয়াল ব্যুরো: হঠাৎ করেই চোরাগোপ্তা সুইং শানাচ্ছেন ইরফান পাঠান (Irfan Pathan)। বল হাতে নয়, মুখের জবাবে… স্মৃতিচারণে!
দিনকয়েক আগে একটি সাক্ষাৎকারে দাবি করেন, এমএস ধোনির (MS Dhoni) অঙ্গুলিহেলনেই তাঁর কেরিয়ার খতম হয়। গ্যারি কার্স্টেন (Gary Kirsten) কাঠের পুতুলের মতো নীরবে সবটুকু দেখে তাঁকে অধিনায়কের আপত্তির ইঙ্গিতটুকু দিয়েছিলেন মাত্র।
এবার অন্য একটি সাক্ষাৎকারে পাকিস্তানকে নিশানা করলেন ইরফান (Irfan Pathan Attacks Pakistan)। এক তির পড়শি মুলুকের দিকে। অন্য তির ছুড়লেন একদা প্রতিপক্ষ শাহিদ আফ্রিদিকে (Shahid Afridi)। রাখাঢাক না করেই তাঁর অভিযোগ, পাকিস্তান এমন হালচাল দেখায়, যেন তারা দুনিয়ার সমস্ত মুসলমানের অভিভাবক! এ ধারণাকে ‘ভ্রম’বলে দেগে দিয়ে পাঠানের পরামর্শ, পাকিস্তানের আগে নিজেদের দিকে নজর দিয়ে তারপর বাকিদের উপর মুরুব্বি ফলানো উচিত!
‘দ্য লল্লনটপ’কে দেওয়া ওই সাক্ষাৎকারে পাঠান বলেন, ‘একটা ব্যাপার পাকিস্তানিদের মধ্যে সবসময় কাজ করে। তারা ভাবে, সারা পৃথিবীর যত মুসলমান আছে, সবার দায়িত্ব যেন ওদের ঘাড়ে। এটা ওদের ভ্রম। আমার বক্তব্য—একটু থামো, আগে নিজেদের দিকে মন দাও। ব্যক্তিগতভাবে অনেক বার এটা বুঝেছি!’
শুধু রাজনৈতিক মন্তব্য নয়, পাকিস্তানের সঙ্গে ক্রিকেট মাঠের লড়াইয়ের স্মৃতিও টেনে এনেছেন তিনি। বিশেষ করে উঠে এসেছে শাহিদ আফ্রিদির প্রসঙ্গ। পাঠানের ভাষায়, ‘আফ্রিদির সঙ্গে আলাদা ধরনের লড়াই ছিল। মাঠে ওকে ১১বার আউট করেছি। যখন আমি একেবারে নতুন, তখন ওর একটা সাক্ষাৎকার নিয়েছিলেন হর্ষ ভোগলে। সেখানে আফ্রিদি বলে, ‘আমি আসল পাঠান, ও (ইরাফন) নকল পাঠান!’ আমার মতে, এটা শুধু আমায় নিয়ে বলা হয়নি, আমার বাবাকেও অসম্মান করা হয়েছে। আসলে আফ্রিদি একজন অভদ্র মানুষ!’
ওই সাক্ষাৎকারই কি তাঁকে বল হাতে তাতিয়ে দেয়? তাই পাকিস্তানের বিরুদ্ধে অন্য মেজাজে ধরা দিতেন? পাঠানের স্পষ্ট জবাব, ‘যখনই মাঠে নামতাম, মাথায় একটাই চিন্তা কাজ করত—আফ্রিদিকে আউট করতেই হবে। আর আমি সেটা করেছি এগারো বার। সবই বড় বড় মঞ্চে—সিরিজ নির্ণায়ক ম্যাচে, বিশ্বকাপ ফাইনালে। ওই এগারো বারেই বুঝিয়ে দিয়েছি কে আসল পাঠান!’
হিসেব বলছে, কেরিয়ারে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত সফল ইরফান। মোট ৬৭ উইকেট নিয়েছেন, ব্যাট হাতে করেছেন ৮০৭ রান, রয়েছে একটি সেঞ্চুরিও। আফ্রিদির বিরুদ্ধে অন্যতম স্মরণীয় মুহূর্ত? অবশ্যই ২০০৭ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ফাইনালে আফ্রিদিকে শূন্য রানে ফিরিয়ে দেওয়া!