আফ্রিদি কুকুরের মাংস খেয়েছে, তাই ঘেউ ঘেউ করছে। এর পর আফ্রিদি আর আমাকে বিরক্ত করেনি।

ইরফান পাঠান ও শাহিদ আফ্রিদি
শেষ আপডেট: 16 August 2025 16:12
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারতীয় ক্রিকেটে ইরফান পাঠানের (Irfan Pathan) উত্থান ছিল এক নতুন বাতাসের মতো। মাত্র ১৯ বছর বয়সে জাতীয় দলের হয়ে অভিষেক হয়েছিল এই বাঁহাতি পেসারের। বল সুইং করার দুর্দান্ত ক্ষমতা ছিল ইরফানের। পাশাপাশি তিনি একজন কার্যকর ব্যাটারও ছিলেন। তিনি টিম ইন্ডিয়া জার্সিতে ২৯টি টেস্ট, ১২০টি ওয়ানডে এবং ২৪টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছেন ইরফান পাঠান।
তবে পাঠানের সঙ্গে পাকিস্তানের প্রতিদ্বন্দ্বিতা এখনও আলোচ্য বিষয়। ২০০৬ সালে করাচিতে তাঁর হ্যাটট্রিক বা ২০০৭ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে তাঁর ম্যান অব দ্য ম্যাচ পারফরম্যান্স কেউ ভুলতে পারেন না। পাশাপাশি সন্ত্রাসবাদ নিয়ে বরাবরই পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন ইরফান পাঠান। পহেলগাম ঘটনার পর তিনি পাকিস্তানের সঙ্গে সমস্ত রকম সম্পর্ক ছেদ করার আওয়াজ তুলে সোচ্চার হয়েছেন।
পাঠানের সঙ্গে প্রাক্তন পাক অধিনায়ক শাহিদ আফ্রিদির (Shahid Afridi) সম্পর্ক বরাবরই বেশ তিক্ত। মাঠের লড়াইয়ে বারবার যেমন পাঠান আফ্রিদিকে পিছনে ফেলেছেন, তেমনই বাইশ গজের বাইরেও সুযোগ পেলেই চুপ করিয়ে দিয়েছেন এই প্রাক্তন পাক ক্রিকেটারকে। বাইশ গজের লড়াইয়ে আফ্রিদি পাঠানের শিকার হয়েছেন ১১ বার।
২০০৬ সালে ভারতের পাকিস্তান সফরের সময় একই বিমানে সওয়ারী ছিলেন পাঠান ও আফ্রিদি। সেই সফরের একটি ঘটনা প্রকাশ্যে এনেছেন প্রাক্তন এই ভারতীয় ক্রিকেটার। পাঠান বলেছেন, “২০০৬ সালের সফরে আমরা করাচি থেকে লাহোর যাচ্ছিলাম। একই বিমানে ছিল ভারত ও পাকিস্তানের ক্রিকেটাররা। আফ্রিদির সিট আমার কাছাকাছিই ছিল। ও এসে আমার মাথায় হাত রেখে চুল এলোমেলো করে দিয়ে জিজ্ঞাসা করে, কেমন আছ বাছা?”
পাঠান আফ্রিদিকে উত্তরে বলেন, “আমি ভাবছিলাম, তুমি কবে থেকে আবার আমার বাবা হলে। আসলে আফ্রিদি বাচ্চাদের মতো আচরণ করছিল। আমি ওর সঙ্গে কথাও বলছিলাম না। এর পর আফ্রিদি আমাকে কিছু খারাপ কথা বলে। পাকিস্তানের অলরাউন্ডার আব্দুল রাজ্জাক তখন আমার পাশেই বসেছিল। আমি ওকে জিজ্ঞাসা করলাম, এখানে কী ধরণের মাংস পাওয়া যায়। রাজ্জাক বলল, বিভিন্ন প্রাণীর মাংস পাওয়া যায়। আমি জিজ্ঞাসা করলাম, কুকুরের মাংস পাওয়া যায় কি না। আমার কথা শুনে রাজ্জাক অবাক হয়ে বলে, আরে ইরফান, তুমি এটা কেন বলছ? আমি বললাম, আফ্রিদি কুকুরের মাংস খেয়েছে, তাই ঘেউ ঘেউ (Barking) করছে। এর পর আফ্রিদি আর আমাকে বিরক্ত করেনি। যদি ও এরপরও কিছু বলত, তখন আমি বলতাম, দেখ আবার ঘেউ ঘেউ করছে। এই ঘটনা থেকে আফ্রিদি বুঝতে পেরেছিল, আমার সঙ্গে মৌখিক লড়াই করতে পারবে না। সেই কারণেই সে আর কখনও আমাকে কিছু বলেনি।”