পুরুষদের ফাইনাল ২৯ জুলাই, মহিলাদের ২০ জুলাই। বোল্টের বয়স তখন দাঁড়াবে ৪১। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের নিরিখে তা অসম্ভব শোনালেও অলিম্পিক্সে ক্রিকেটের ফরম্যাট টি-২০। যেখানে বিশেষ স্কিল জরুরি হলেও বয়স বড় বাধা নয়।

উসেইন বোল্ট
শেষ আপডেট: 19 January 2026 17:32
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ট্র্যাক ছেড়েছেন অনেকদিন। স্পাইক তুলে রেখেছেন। তবু অলিম্পিক্সের টান যে এখনও যায়নি, নিজেই বুঝিয়ে দিলেন উসেইন বোল্ট (Usain Bolt)। তবে এবার আর দৌড় নয়—গুঞ্জন ক্রিকেট ঘিরে। ২০২৮ সালের লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিক্সে (LA 2028 Olympics) ক্রিকেট ফিরছে ১২৮ বছর পর। আর সেই ঐতিহাসিক প্রত্যাবর্তনে নিজের নাম লিখে রাখতে চান বিশ্বের দ্রুততম মানুষ! প্রশ্ন একটাই—নিছক রসিকতা, নাকি সত্যিই ক্রিকেট মাঠে ফিরতে পারেন বোল্ট?
ক্রিকেটই ছিল 'প্রথম প্রেম'
অনেকে ভুলে যান, উসেইন বোল্টের প্রথম ভালোবাসা ছিল ক্রিকেট। ক্যারিবিয়ান তল্লাটে বড় হওয়া ছেলেটা স্কুলজীবনে নিজেকে ভাবতেন ফাস্ট বোলার হিসেবেই। জামাইকার (Jamaica) মাঠে ব্যাট-বলের হাতেখড়ি। পরে স্কুলের ক্রিকেট কোচ তাঁকে ট্র্যাক অ্যান্ড ফিল্ডে নামতে উৎসাহ দেন। সেখান থেকেই ইতিহাসের শুরুয়াত।
তিনটি অলিম্পিক্স—বেজিং (Beijing 2008), লন্ডন (London 2012) ও রিও (Rio 2016)—টানা ১০০ ও ২০০ মিটারে সোনা। মোট আটটি অলিম্পিক সোনা, ১১টি বিশ্বচ্যাম্পিয়নশিপ গোল্ড মেডেল। ২০১৭ সালে অবসর। ততদিনে তিনি হয়ে উঠেছেন সর্বকালের সেরা স্প্রিন্টার।
কিন্তু ক্রিকেটের সঙ্গে সম্পর্ক কখনও ছিন্ন হয়নি। ২০১৪ সালে ভারতে একটি প্রীতি ক্রিকেট ম্যাচ খেলেছেন যুবরাজ সিং (Yuvraj Singh) ও হরভজন সিংয়ের (Harbhajan Singh) সঙ্গে। ২০২৪ টি-২০ বিশ্বকাপে (T20 World Cup 2024) ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর। অর্থাৎ, ক্রিকেট বোল্টের কাছে অতীত নয়—একটা আলাদা আবেগ।
বোল্টের বক্তব্যে কীসের ইঙ্গিত?
সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে বোল্ট নিজেই আগুনে ঘি ঢেলেছেন। এসকোয়ার ম্যাগাজিনকে (Esquire) দেওয়া সাক্ষাৎকারে হেসে বললেন, ‘আমি অবসরজীবন বেশ উপভোগ করছি। অনেকদিন ক্রিকেট খেলিনি। তবে জামাইকার ক্রিকেট বোর্ড যদি ফোন করে, আমি প্রস্তুত!’
শুনতে রসিকতা লাগলেও পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়ার সুযোগও নেই। কারণ ২০২৮ অলিম্পিক্সে ক্রিকেট থাকছে নিশ্চিত। পুরুষ ও মহিলা বিভাগে ছ’টি করে দল। প্রতিটি টিমে সর্বোচ্চ ১৫ জন খেলোয়াড়। পুরুষদের ফাইনাল ২৯ জুলাই, মহিলাদের ২০ জুলাই। বোল্টের বয়স তখন দাঁড়াবে ৪১। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের নিরিখে তা অসম্ভব শোনালেও অলিম্পিক্সে ক্রিকেটের ফরম্যাট টি-২০। যেখানে বিশেষ স্কিল জরুরি হলেও বয়স বড় বাধা নয়।
বাস্তবতা বনাম রোমাঞ্চ
এখানেই আসল প্রশ্ন। আদতে কি বোল্ট খেলতে পারবেন? শারীরিকভাবে হয়তো ফিট থাকা সম্ভব। কিন্তু আন্তর্জাতিক স্তরের ক্রিকেটে জায়গা পেতে নিয়মিত ঘরোয়া বা আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা দরকার। সেই জায়গায় তিনি অনেক পিছিয়ে। তবে অলিম্পিক্স ক্রিকেটের প্রেক্ষাপট আলাদা। এটা কোনও আইসিসি বিশ্বকাপ নয়। এখানে প্রতিটি দেশ মাত্র ১৫ জনের স্কোয়াড নামাবে। ক্যারিবিয়ান ক্রিকেটের জনপ্রিয়তা আর বোল্টের আইকনিক স্ট্যাটাস—দুটো মিলিয়ে জামাইকা বা ওয়েস্ট ইন্ডিজ (West Indies) ক্রিকেটের প্রচারের জন্য বিশাল সুযোগ। সবচেয়ে বড় কথা, বোল্ট নিজেও বিষয়টাকে পুরোপুরি উড়িয়ে দিচ্ছেন না। বরং, দরজা খোলা রাখছেন। ফলে গুঞ্জনটা নিছক মজার নয়—তাতে খানিক বাস্তবের ছোঁয়াও আছে।