প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর নকভি জানান, আইসিসি সংক্রান্ত পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বিস্তারিতভাবে সরকারকে অবহিত করেছেন। সরকারের তরফে নির্দেশ এসেছে, সমস্ত দিক বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
.jpeg.webp)
ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 26 January 2026 23:28
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬-এ (T20 World Cup 2026) পাকিস্তানের (Pakistan) অংশগ্রহণ নিয়েও তৈরি হয়েছে চরম অনিশ্চয়তা। সোমবার পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের চেয়ারম্যান মহসিন নকভি (Mohsin Naqvi) দেশের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের (Shehbaz Sharif) সঙ্গে বৈঠকের পর স্পষ্ট করে দেন, এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। সব বিকল্প খোলা রেখেই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে। তাঁর ইঙ্গিত অনুযায়ী, আগামী শুক্রবার অথবা পরের সোমবারের মধ্যেই পাকিস্তানের অবস্থান পরিষ্কার হতে পারে।
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর নকভি জানান, আইসিসি (ICC) সংক্রান্ত পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বিস্তারিতভাবে সরকারকে অবহিত করেছেন। সরকারের তরফে নির্দেশ এসেছে, সমস্ত দিক বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে। পাকিস্তান সরকারের সম্মতি ছাড়া জাতীয় দল বিদেশ সফরে যেতে পারে না, বিশেষত এমন টুর্নামেন্টে, যেখানে ভারতের সঙ্গে ম্যাচ জড়িত।

এই অনিশ্চয়তার নেপথ্যে রয়েছে সাম্প্রতিক বাংলাদেশ (Bangladesh) ইস্যু। নিরাপত্তাজনিত কারণ দেখিয়ে ভারতে খেলতে অস্বীকার করায় আইসিসি বাংলাদেশকে ২০ দলের বিশ্বকাপ থেকে বাদ দিয়েছে। তাদের জায়গায় নেওয়া হয়েছে স্কটল্যান্ডকে। এই সিদ্ধান্তে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড এবং ইসলামাবাদের একাংশ। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, বাংলাদেশকে বাদ দেওয়ার পদ্ধতি ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া পাকিস্তান সরকারের কাছেও গ্রহণযোগ্য হয়নি।
এক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, পরিস্থিতি সন্তোষজনক না হলে পাকিস্তানও শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়াতে পারে। এমনকি কেন্দ্রীয় সরকার জাতীয় দলকে বিদেশ সফরের অনুমতি না-ও দিতে পারে বলে ইঙ্গিত মিলেছে। রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, আইসিসির সিদ্ধান্তে স্বচ্ছতার অভাব নিয়ে পাকিস্তানে প্রশ্ন উঠেছে।
এমনকি পাকিস্তান শিবিরে ভারতের বিরুদ্ধে গ্রুপ পর্বের ম্যাচ না খেলার সম্ভাবনাও আলোচনায় রয়েছে। সূচি অনুযায়ী, ১৫ ফেব্রুয়ারি কলম্বোয় ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ হওয়ার কথা। তিন দেশের একটি চুক্তির আওতায়—পিসিবি, বিসিসিআই এবং আইসিসির মধ্যে—২০২৭ সাল পর্যন্ত দুই দেশের সব ম্যাচ নিরপেক্ষ ভেন্যুতে আয়োজনের সিদ্ধান্ত হয়েছে।
এই অনিশ্চয়তার মধ্যেও রবিবার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের জন্য ১৫ সদস্যের দল ঘোষণা করেছে পাকিস্তান। সালমান আলি আগার নেতৃত্বে দল গড়া হলেও, নকভি স্পষ্ট করে দিয়েছেন - এই দল ঘোষণা মানেই বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ নিশ্চিত, এমনটা ধরে নেওয়া ঠিক নয়। তাঁর কথায়, সরকারের চূড়ান্ত অনুমতি না পাওয়া পর্যন্ত কোনও সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে না।
উল্লেখ্য, আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ভারত ও শ্রীলঙ্কায় শুরু হতে চলেছে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। আইসিসি অংশগ্রহণকারী দেশগুলির জন্য ৩০ জানুয়ারি চূড়ান্ত স্কোয়াড জমা দেওয়ার শেষ সময় বেঁধে দিয়েছে। এর মধ্যেই পাকিস্তানের সিদ্ধান্ত সামনে না এলে বিশ্বকাপের প্রস্তুতিতে নতুন করে জটিলতা তৈরি হতে পারে।
বাংলাদেশ ইস্যুতে আইসিসির অবস্থানের বিরোধিতা করে একমাত্র পূর্ণ সদস্য দেশ হিসেবে পাকিস্তান প্রকাশ্যে তাদের পাশে দাঁড়িয়েছিল। সেই অবস্থানই এখন বিশ্বকাপের মঞ্চে পাকিস্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্নচিহ্ন তুলে দিয়েছে বলে মনে করছেন ক্রিকেট মহলের একাংশ।