বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ঘটনার আবহে আইপিএল নিলামে বাংলাদেশি পেসার মুস্তাফিজুর রহমানকে কিনেছিল কলকাতা নাইট রাইডারস। কিন্তু পরবর্তী সময়ে পরিস্থিতি জটিল হলে তাঁকে ছেড়ে দেয় কেকেআর। আর এর পরই বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) নিরাপত্তার যুক্তি তুলে ধরে আইসিসির কাছে জানায়, তারা ভারতে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের ম্যাচ খেলতে রাজি নয়।
.jpeg.webp)
ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 26 January 2026 20:35
দ্য ওয়াল ব্যুরো: টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬ (T-20 World Cup) থেকে ইতিমধ্যে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে বাংলাদেশকে (Bangladesh)। ভারতের মাটিতে খেলতে রাজি না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত কড়া সিদ্ধান্ত নেয় আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (ICC)। দীর্ঘ টানাপড়েন, একাধিক বৈঠক এবং রাজি হওয়ার সময়সীমা পার হয়ে যাওয়ার পর বাংলাদেশের জায়গায় বিশ্বকাপে সুযোগ দেওয়া হয়েছে স্কটল্যান্ডকে (Scotland)।
বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ঘটনার আবহে আইপিএল নিলামে (IPL Auction) বাংলাদেশি পেসার মুস্তাফিজুর রহমানকে (Mustafizur Rahman) কিনেছিল কলকাতা নাইট রাইডারস (Kolkata Knight Riders)। কিন্তু পরবর্তী সময়ে পরিস্থিতি জটিল হলে তাঁকে ছেড়ে দেয় কেকেআর। আর এর পরই বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (BCB) নিরাপত্তার যুক্তি তুলে ধরে আইসিসির কাছে জানায়, তারা ভারতে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের ম্যাচ খেলতে রাজি নয়।
বিসিবির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগের কারণে তাদের ম্যাচগুলি শ্রীলঙ্কায় (Sri Lanka) সরিয়ে নেওয়া হোক। উল্লেখ্য, ভারত ও শ্রীলঙ্কা যৌথভাবে আয়োজন করছে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬।
এই প্রস্তাব মানতে নারাজ হয় আইসিসি (ICC)। এরপর শুরু হয় টানা কয়েক সপ্তাহ ধরে আলোচনা। আইসিসি বাংলাদেশের অবস্থান বদলাতে একাধিক বৈঠক করে, ভিডিও কনফারেন্স থেকে সরাসরি বৈঠক - সব পথেই সমাধানের চেষ্টা হয়। তবে শেষ পর্যন্ত আইসিসির তরফে বাংলাদেশকে ২৪ ঘণ্টার চূড়ান্ত সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়, বিশ্বকাপে অংশ নেবে কি না, তা স্পষ্ট জানানোর জন্য।
বাংলাদেশ সেই সময়সীমার মধ্যেও নিজেদের অবস্থান বদলায়নি। ফলে প্রায় তিন সপ্তাহের অনিশ্চয়তার অবসান ঘটিয়ে আইসিসি বাংলাদেশকে প্রতিযোগিতা থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। তাদের জায়গায় সুযোগ পায় স্কটল্যান্ড, যারা বিশ্বকাপের যোগ্যতা অর্জনে ব্যর্থ হলেও র্যাঙ্কিংয়ের ভিত্তিতে সেরা অবস্থানে ছিল।
এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, আইসিসির সিইও সঞ্জোগ গুপ্তা এই পুরো সময়ে বিসিবি কর্তাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখেছিলেন। রিপোর্টে আরও দাবি করা হয়েছে, একাধিক বৈঠকে পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে বিসিবি চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম প্রকাশ্যেই ক্ষোভ উগরে দেন এবং আইসিসির যুক্তি মানতে অস্বীকার করেন।
বিশ্বকাপের সূচি অনুযায়ী, বাংলাদেশকে কলকাতা ও মুম্বইয়ে মোট চারটি ম্যাচ খেলতে হত। তারা ছিল গ্রুপ ‘সি’-তে, যেখানে ইংল্যান্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, ইতালি ও নেপালের সঙ্গে একই গ্রুপে পড়েছিল। এখন সেই গ্রুপে বাংলাদেশের জায়গায় খেলবে স্কটল্যান্ড।
আইসিসি'র বিবৃতিতে জানানো হয়, বিসিবির তোলা নিরাপত্তা সংক্রান্ত অভিযোগ খতিয়ে দেখতে বিস্তৃত ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছিল। আইসিসির মূল্যায়নে ভারতের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের দল, আধিকারিক বা সমর্থকদের জন্য কোনও বিশ্বাসযোগ্য নিরাপত্তা ঝুঁকির প্রমাণ মেলেনি। সেই কারণেই প্রকাশিত সূচি বদলানো সমীচীন নয় বলে সিদ্ধান্ত নেয় ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ামক সংস্থা।
এই সিদ্ধান্তে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে বলেই মনে করছেন ক্রীড়া মহলের একাংশ।