এই ২৯ রানের জয় ভারতের ব্যাটিংয়ের দুর্বল দিকের আয়না মেলে ধরার পাশাপাশি সূর্যকুমার যাদবের নেতৃত্ব আর স্থিতধী গৌতম গম্ভীরের পাকাপোক্ত পরিকল্পনারও প্রমাণ।

সূর্যকুমার যাদব
শেষ আপডেট: 8 February 2026 10:49
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শুরুটা মোটেও পরিকল্পনামাফিক হয়নি। উইকেট পড়েছে নিয়মিত ব্যবধানে। পার্টনারশিপ জমছে না। স্কোরবোর্ডে ভারতের রান তখন মাত্র ৭৭, ছ’জন ব্যাটার ফিরেছেন সাজঘরে। টি–২০ বিশ্বকাপের মঞ্চে যুক্তরাষ্ট্রের (USA) বিরুদ্ধে এমন অবস্থায় চাপ কতটা জোরালো, তা মাঠের বাইরে বসে বোঝা কঠিন। কিন্তু সেই মুহূর্তেই দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেন অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব (Suryakumar Yadav)। আর আড়ালে থেকে লড়াইয়ে সবচেয়ে বড় ভরসা জোগান যিনি, তিনি টিম ইন্ডিয়ার কোচ গৌতম গম্ভীর (Gautam Gambhir)। আরও স্পষ্টভাবে বললে, তাঁর এক লাইনের বার্তাই ঘুরিয়ে দেয় ম্যাচের মোড়। অন্তত এমনটাই বক্তব্য সূর্যের।
ব্যাটিং ব্যর্থতা মেনে নিলেন স্বয়ং অধিনায়ক
লড়াই জেতার পর ‘প্লেয়ার অব দ্য ম্যাচ’ পুরস্কার হাতে নিয়ে সূর্য কোনও রাখঢাক না করে সোজাসাপ্টা স্বীকার করেছেন, ব্যাটিং আরও ভালো হওয়া উচিত ছিল। তাঁর কথায়, ‘জিতলেও সবকিছু চাপা দেওয়া যায় না। আমাদের আরও মাথা খাটিয়ে ব্যাট করা উচিত ছিল। লড়াই জিতেও শেখার জায়গা থাকে।’
সহজ ছিল না উইকেট, মেনে নেন সূর্য। দিনের আলো কম থাকায় পিচে আর্দ্রতা, বল থেমে থেমে আসছিল। তাঁর বিশ্লেষণ, ‘এটা ১৮০–১৯০ রানের পিচ ছিল না। বরং ১৪০–র মতো স্কোরের উইকেট।’ সেই পরিস্থিতিতে শুরুতেই একের পর এক উইকেট পড়ে যাওয়ায় ম্যাচ যে ভারতের হাতের বাইরে চলে যেতে পারত, মানছেন অধিনায়ক নিজেই।
'শেষ পর্যন্ত ব্যাট করো’—গম্ভীরের এক লাইনের টনিক
এই চাপের মধ্যে বিরতির সময় সূর্যের কাছে পৌঁছয় কোচের বার্তা। গৌতম গম্ভীর সোজা বলে দেন, ‘শেষ পর্যন্ত ব্যাট করার চেষ্টা করো। যখনই সুযোগ পাবে, রান কভার হয়ে যাবে।’ সূর্য জানিয়েছেন, এই কথাটা তাঁকে মানসিক শক্তি জোগায়। ৭৭/৬ অবস্থায় দাঁড়িয়ে বুঝে গিয়েছিলেন, একজনকে শেষ পর্যন্ত টিকে থাকতে হবে। ‘আমিই জানি, ওই সময়ের চাপ। কিন্তু বিশ্বাস ছিল—যদি শেষ পর্যন্ত পিচে থাকি, পার্থক্য গড়ে দিতে পারব!’ বলছেন সূর্য। সেই বিশ্বাসের ফসল অপরাজিত ৮৪ (৪৯ বলে)। শুধু রান নয়, মানসিক দৃঢ়তারও নিখুঁত উদাহরণ এই ইনিংস৷
ওয়াংখেড়ের (Wankhede Stadium) উইকেটে খেলার অভিজ্ঞতাও কাজে লাগিয়েছেন সূর্য। তাঁর কথায়, ‘এখানে আমি অনেক ক্রিকেট খেলেছি। জানতাম, এমন পিচে কীভাবে মানিয়ে নিতে হয়। ভালো বলের অপেক্ষা করেছি, সুযোগ এলে শট খেলেছি।’
প্রতিপক্ষের চোখে ম্যাচের মোড়বদল
যুক্তরাষ্ট্র অধিনায়ক মোনাঙ্ক প্যাটেল (Monank Patel) মনে করেন, ১৩০–১৪০ রান তাড়া করা যেত। তাঁর মতে, পাওয়ারপ্লেতে ভারতের বোলাররা ভ্যারিয়েশন ব্যবহার করে ম্যাচ নিজেদের দিকে টেনে নেন। পাশাপাশি ফিল্ডিংয়ে কিছু ক্যাচ পড়াও খেলার মোড় ঘুরিয়ে দেয়। মোনাঙ্কের বিশ্লেষণ, ‘এক সময় মনে হচ্ছিল, ভারতকে ১৩০–এ আটকে দেওয়া যাবে। কিন্তু ক্যাচ মিস করায় চাপ বেড়ে যায়। আমাদের টপ অর্ডার ব্যর্থ হয়েছে, আর শুরুতে উইকেট পড়ায় জেদও কমে গিয়েছিল।’ সব মিলিয়ে এই ২৯ রানের জয় ভারতের ব্যাটিংয়ের দুর্বল দিকের আয়না মেলে ধরার পাশাপাশি সূর্যকুমার যাদবের নেতৃত্ব আর স্থিতধী গৌতম গম্ভীরের পাকাপোক্ত পরিকল্পনারও প্রমাণ।