শুধু মুখে নয়, কাজে নায়ক-সংস্কৃতির বিরোধিতা করে দেখালেন গৌতম গম্ভীর। গিলকে বাদ দিয়ে তিনি বোঝালেন, ভারতীয় ক্রিকেটে নতুন যুগ মানে নতুন নিয়ম।
_0.jpeg.webp)
গৌতম গম্ভীর ও শুভমান গিল
শেষ আপডেট: 23 December 2025 10:45
দ্য ওয়াল ব্যুরো: টি-২০ বিশ্বকাপ ২০২৬-এর দল ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই ভারতীয় ক্রিকেটে ঝড়। বাদ পড়েছেন এমন এক নাম, যাঁকে এতদিন ‘টিম ইন্ডিয়ার ভবিষ্যৎ’ বলে সামনে আনা হয়েছিল! তিনি শুভমান গিল (Shubman Gill)।
শুনতে অবাক লাগলেও এই সিদ্ধান্ত হঠাৎ নয়, খামখেয়ালি তো নয়-ই। বরং, এটা স্পষ্ট করে দেয়, ভারতীয় দলের হেড কোচ গৌতম গম্ভীরের (Gautam Gambhir) সেই অকাট্য অবস্থান—নায়ক-সংস্কৃতির বিরুদ্ধে আপসহীন লড়াই।
গম্ভীর দায়িত্ব নেওয়ার আগে বারবার জানিয়েছেন, দলে কেউ ‘আনড্রপেবল’ নয়। নাম, খ্যাতি বা ভবিষ্যতের সম্ভাবনা—কিছুই পারফরম্যান্সের ঊর্ধে নয়। গিলকে ছাব্বিশের টি-২০ স্কোয়াড ছেঁটে ফেলা সেই দর্শনেরই সবচেয়ে জোরালো ও বাস্তব প্রয়োগ।
নায়ক নয়, কম্বিনেশনই শেষ কথা
শুভমান গিল (Shubman Gill) এখন ভারতের টেস্ট ও ওয়ানডে নেতৃত্বে। টি-২০-তেও সহ-অধিনায়ক। এত বড় পরিচয়ের পরও তাঁকে বাদ দেওয়া মানে পরিষ্কার বার্তা—ফরম্যাট বুঝে ক্রিকেটার বাছাই হবে, পদমর্যাদা দেখে নয়।
টি-২০-তে গম্ভীরের চোখে সবচেয়ে জরুরি বিষয় দু’টি—স্ট্রাইক রেট ও ম্যাচের গতি নিয়ন্ত্রণ। এখানেই গিলের সমস্যা। তিনি স্বভাবতই ‘অ্যাঙ্কর’ ধাঁচের ব্যাটার। পাওয়ারপ্লে-তে দ্রুত রান তুলতে গিয়ে বারবার অস্বস্তিতে পড়েছেন। তার জন্যই একসময় ওপেনিংয়ে জায়গা পেতে গিয়ে সরতে হয়েছিল সঞ্জু স্যামসনকে (Sanju Samson)। কিন্তু গম্ভীরের পরিকল্পনায় সেই সমীকরণ আর মানানসই নয়।
যে কারণে দলে জায়গা পেয়েছেন অভিষেক শর্মা (Abhishek Sharma) ও ঈশান কিষাণ (Ishan Kishan)—যাঁরা প্রথম বল থেকেই ঝুঁকি নিতে ভয় পান না এতটুকু। এখানে ‘ব্র্যান্ড ভ্যালু’নয়, ‘ব্যাটিং ইমপ্যাক্ট’-ই শেষ কথা।
পারফরম্যান্স বনাম সম্ভাবনা
এই সিদ্ধান্তের আড়ালে আরেকটা দিক—দায়বদ্ধতা। গিলের সাম্প্রতিক টি-২০ আন্তর্জাতিক পরিসংখ্যান খুব একটা সমীহ করার মতো নয়। ধীর উইকেটে মানিয়ে নেওয়া, চাপের ম্যাচে দ্রুত গতি বাড়ানো—এই প্রশ্নগুলো উঠছিল ক্রমশ। আগের ব্যবস্থায় হয়তো ‘সম্ভাবনা’ দেখিয়ে তাঁকে আরও সময় দেওয়া হত। গম্ভীরের যুগে সেই ছাড় নেই।
টিম ইন্ডিয়ার হেডকোচ বরাবরই বলে এসেছেন, টি-২০-তে ‘টেকনিক্যালি নিখুঁত’ ব্যাটারের চেয়ে ‘নির্ভীক’ব্যাটার বেশি করে দরকার। সেই কারণেই স্কোয়াডে গুরুত্ব পেয়েছেন রিঙ্কু সিংয়ের (Rinku Singh) মতো ফিনিশাররা। দলে ভূমিকা স্পষ্ট—কে কখন কী করবে। এখানে কেউ তারকা নন, সবাই কর্মী! গম্ভীরের ভাষায়, তিনজন সুপারস্টার আর আটজন দর্শক নিয়ে দল হয় না; হয় এগারো জন দায়িত্বশীল ক্রিকেটার নিয়ে।
ঝুঁকি আছে, কিন্তু বার্তাটা স্পষ্ট
এই সিদ্ধান্ত ঝুঁকিহীন নয়। গিল বাদ পড়ায় অভিজ্ঞতার ঘাটতি তৈরি হবে। অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব (Suryakumar Yadav) তাঁর পছন্দের সহ-অধিনায়ককে পাশে পাবেন না। বিশ্বকাপের মতো টুর্নামেন্টে এটা বড় ফ্যাক্টর।
কিন্তু গম্ভীর-যুগের দর্শনও পরিষ্কার—হারলেও নীতি নিয়ে আপস নয়। যদি ভারত এই দল নিয়ে বিশ্বকাপ জেতে, তবে ২০০৭-এর পর এটাই হবে ভারতীয় ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় সাংস্কৃতিক বদল। আর হারলে? তখন এই সিদ্ধান্তই সবচেয়ে বেশি খতিয়ে দেখা হবে।
একটা বিষয় অবশ্য অস্বীকার করার উপায় নেই—শুধু মুখে নয়, কাজে নায়ক-সংস্কৃতির বিরোধিতা করে দেখালেন গৌতম গম্ভীর (Gautam Gambhir)। গিলকে বাদ দিয়ে তিনি বোঝালেন, ভারতীয় ক্রিকেটে নতুন যুগ মানে নতুন নিয়ম।