‘প্রজেক্ট শুভমান’ কি সত্যিই সম্ভাবনা জোগাচ্ছে? নাকি এই বিশ্বকাপ অন্তত না খেলিয়ে, হাতে সময় নিয়ে তৈরি হতে বলাই সঠিক পথ?
.jpeg.webp)
শুভমান গিল
শেষ আপডেট: 10 December 2025 11:22
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ওয়ানডে আর টেস্ট টিমের অধিনায়কত্ব পাওয়া মানেই কি টি-২০ দলের সিট স্বয়ংক্রিয়ভাবে ‘বুকড’? ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ততম ফর্ম্যাট (T20 format), যার ব্যাকরণ ও বিন্যাস একেবারে আলাদা, নিজের শৈলীকে ভেঙেচুরে অন্য স্তরে নিয়ে গিয়ে ব্যাটিং কিংবা বোলিং করতে হয়—এই সহজ বুদ্ধিও কি লোপ পেয়েছে টিম ইন্ডিয়ার ম্যানেজমেন্ট ও বিসিসিআই কর্তাদের (BCCI officials)?
যদি না পেয়ে থাকে, তাহলে কোন বিচারে বারবার শুভমানকে টি-২০-তে খেলানো হচ্ছে? তা-ও ওপেনে? লাগাতার ব্যর্থতার পর স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে, নির্বাচকরা কি আদৌ যুক্তি মেনে দল বাছাই করছেন? নাকি ভাবাবেগ আর নিজেদের অলীক মিশনের পালে হাওয়া জোগাচ্ছেন? যে মিশন, যে প্রজেক্টের বলি হতে হয় রোহিত-বিরাট-সামিদের। অন্যদিকে টানা রান না পেয়েও স্রেফ অন্য দুই ফর্ম্যাটের অধিনায়কত্বের যুক্তিতে নিজের কুর্সি পাকা করেন শুভমান?
এটাই এখন ভারতীয় টি-২০ ক্রিকেটের সবচেয়ে অস্বস্তিকর বাস্তবতা। কটকের ম্যাচ যার প্রমাণ। দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে ১৭/২—খেলার শুরুতেই দুই অধিনায়ক ডাগআউটে! শুভমান আবারও ব্যর্থ। লুঙ্গি এনগিডির (Lungi Ngidi) বিরুদ্ধে অন-দ্য-আপ শট খেলতে গিয়ে সহজ ক্যাচ। পাওয়ারপ্লে, যে পর্যায়ে তাঁর বিধ্বংসী ব্যাটিং ভারতকে অ্যাডভান্টেজ এনে দেয়, সেখানে আভিষেক শর্মা সুযোগই পাননি। অর্ডারের এই তালভঙ্গ টিম ইন্ডিয়াকে ধাক্কা দিয়েছে বারবার।
শুভমানের প্রত্যাবর্তনের পর থেকেই একটি বিষয় স্পষ্ট—ভারতের ওপেনিং স্ট্রাইক রেট কমে এসেছে। দ্রুত রান তুলতে পারছে না দল। আভিষেক-সঞ্জু যুগলবন্দী যখন ছন্দে, ভারত ১২ ম্যাচে ছয়বার ২০০ পার করেছে। শুভমান ফিরে আসতেই ব্রেক লেগেছে। ১৩ ম্যাচে মাত্র একবার ২০০! প্রশ্ন ওঠাই স্বাভাবিক—যেটা কাজ করছিল, সেটা ভেঙে ফেলার আদৌ প্রয়োজন ছিল কি?
এমন নয় যে ভারত হেরে যাচ্ছে। বরং জিতছে নিয়মিত। তাহলে সমস্যা কোথায়? আসলে, সমস্যা হচ্ছে দর্শনে। গৌতম গম্ভীর যে আক্রমণাত্মক স্কিম তৈরি করছিলেন—২৫০+ স্কোরের স্বপ্ন দেখাচ্ছিলেন—তার সঙ্গে শুভমানের ব্যাটিং মেলে না। টি-২০ ফরম্যাটে স্ট্রাইক রেটই আসল ফ্যাক্টর। সেই জায়গায় শুভমান বাইরে বসে থাকা সঞ্জু স্যামসনকে টপকে দলে ঢোকেন কী করে? কারণ কি শুধুই ‘ভাইস-ক্যাপ্টেন’ তকমা?
এখানেই মূল বিতর্ক। দায়িত্ব সমেত বাড়তি সুযোগ দেওয়া যেতে পারে। কিন্তু তার অর্থ এই নয়, যে ফরম্যাটের স্বরূপ বদলে দিতে হবে। টি-২০-কে ওয়ানডের মতো খেললে চলবে না। শুভমান অসামান্য প্রতিভা—এ নিয়ে সন্দেহ নেই। টেস্ট-ওয়ানডে-র ভবিষ্যৎ তিনিই। কিন্তু যে ফরম্যাটে গতিই মোক্ষ, গতিই লক্ষ্য, সেখানে জোর করে তাঁকে জায়গা করে দেওয়ার মানে দলের মূল পরিকল্পনাকে দুর্বল করা।
বিশ্বকাপের আর মাত্র ক’দিন। এখনই প্রশ্ন তুলতে হবে—শুভমানের ভূমিকাটা ঠিক কী? তিনি কি সত্যিই ভারতের টি-২০ টেমপ্লেটে ফিট? নাকি বরং দলের গতি কমিয়ে দিচ্ছেন? কঠিন প্রশ্ন, কিন্তু জবাব পাওয়া জরুরি। কারণ টি-২০ ক্রিকেট এক জিনিস বারবার দেখিয়ে দিয়েছে—দ্বিধা নিয়ে নামলে সেমিফাইনালই শেষ ঠিকানা। এই ভুল ২০২২-এ হয়েছিল। এরপরই সিদ্ধান্ত: আর পিছনে ফেরা নয়।
কিন্তু আজ মনে হচ্ছে, সেই পথেই হাঁটছে ভারত। তাই হয়তো এখনই সময়—গম্ভীরদের ভাবার। ‘প্রজেক্ট শুভমান’ কি সত্যিই সম্ভাবনা জোগাচ্ছে? নাকি এই বিশ্বকাপ অন্তত না খেলিয়ে, হাতে সময় নিয়ে তৈরি হতে বলাই সঠিক পথ? দল জিতছে, ঠিক। কিন্তু বিশ্বকাপ হাতে তুলতে হলে ওপেনিংয়ে আক্রমণাত্মক মেজাজ আনতেই হবে। যে স্পন্দন শুভমানের ব্যাটে এখন নেই—এটা কঠোর সত্য।