ক্রান্তি জানালেন, কোনও বিশেষ কৌশল নয়, ধারাবাহিকতাই তাঁর আসল শক্তি। বলেন, ‘টিম ম্যানেজমেন্ট আমাকে কিছু আলাদা করতে বলেনি। বার্তা ছিল একটাই—তুমি যা করছ, সেটাই করে যাও!’

ক্রান্তি গৌড়
শেষ আপডেট: 6 October 2025 11:28
দ্য ওয়াল ব্যুরো: একদিন, দু’দিন নয়। পাক্কা চারদিন ধরে চর্চায় ছিল ভারত-পাক বিশ্বকাপ ম্যাচ। ধুয়ো তুলেছিল এশিয়া কাপ (Asia Cup 2025)। তিনবার পাক ব্রিগেডকে (Pakistan) কুপোকাত করেন সূর্যকুমাররা। আর মাঠের বাইরে ফিরিয়ে নেন মুখ, হাত-ও! লড়াইয়ের শুরু থেকে শেষ—টিম ইন্ডিয়ার (Team India) কোনও খেলোয়াড় সলমন আঘাদের সঙ্গে হ্যান্ডশেক পর্যন্ত করেননি।
এশিয়া কাপের ফাইনালে পাকিস্তানকে রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ে হারিয়ে খেতাব জিতে নিয়েছে ভারত। যে কারণে নজর সরে চলে আসে মেয়েদের বিশ্বকাপে। অভিযান শুরুর প্রথম ম্যাচেই হরমনপ্রীত বাহিনীর সামনে ফতিমা সানার পাকিস্তান টিম। ধারেভারে এখানেও ভারত এগিয়ে ছিল। পাকিস্তানকে জিততে গেলে হয় দুরন্ত পারফরম্যান্স দেখাতে হত, নয়তো ভারতকে জঘন্য খেলতে হত। দুটোর কোনওটাই হয়নি। যোগ্য দল হিসেবেই জিতেছে টিম ইন্ডিয়া। যে জয়ের কাণ্ডারী হিসেবে উঠে এসেছেন একজন—ক্রান্তি গৌড় (Kranti Gaud)! প্রথম বিশ্বকাপ ম্যাচ খেলতে নামা এই ডানহাতি পেসার পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইন-আপকে উড়িয়ে দেন ঝোড় বোলিংয়ে। ১০ ওভারে তিনখানা মেডেন, মাত্র ২০ রান খরচের বিনিময়ে ৩ উইকেট—গৌড়ের বিধ্বংসী স্পেলই ভারতকে এনে দেয় ৮৮ রানে জয়ের (India beat Pakistan by 88 runs) মজবুত ভিত। ম্যাচ শেষে নির্বাচিত হন সেরা খেলোয়াড় (Player of the Match)।
যদিও সাফল্য আর স্বীকৃতির পরেও এতটুকু উড়তে নারাজ ক্রান্তি। চোখেমুখে না আছে ক্লান্তির ছাপ, না অহংকারের চমক! বরং গলায় ঝরে পড়ল কঠোর বাস্তব—‘সত্যি বলতে আমি এই ভারত–পাকিস্তান প্রতিদ্বন্দ্বিতার গল্পগুলো খুব একটা জানি না। এটা আমার প্রথম ম্যাচ। বাইরে কী বলা হচ্ছে, সেদিকে কান দিইনি। আমার কাজ বল করা, সেটাই করি!’ সাংবাদিক বৈঠকে দিলেন অকপট উত্তর। আর এই একটি বাক্যেই ধরা দিল ভারতীয় ক্রিকেটের নতুন প্রজন্মের মানসিকতা—অপ্রাসঙ্গিক বিতণ্ডা নয়, ফোকাস শুধু পারফরম্যান্সে।
ক্রান্তি জানালেন, কোনও বিশেষ কৌশল নয়, ধারাবাহিকতাই তাঁর আসল শক্তি। বলেন, ‘টিম ম্যানেজমেন্ট আমাকে কিছু আলাদা করতে বলেনি। বার্তা ছিল একটাই—তুমি যা করছ, সেটাই করে যাও!’
বোলিংয়ের গতি নিয়ে যত আলোচনা, তাকে গুরুত্ব দিতে নারাজ। ক্রান্তির কথায়, ‘আমাদের কোচদের সঙ্গে এখনও পর্যন্ত স্পিড নিয়ে বেশি কথা হয়নি। মূল জোর লাইন-লেংথের উপরে। কোথায় বল ফেললে ব্যাটার সমস্যায় পড়বে, সেটাই খুঁজে নেওয়ার চেষ্টা করি। ধারাবাহিকতা রাখাই আসল!’
ম্যাচে একসময় অধিনায়ক হরমনপ্রীত কৌর (Harmanpreet Kaur) স্লিপ সরাতে চেয়েছিলেন, কারণ বল তখন পুরনো। কিন্তু ক্রান্তি তাঁকে থামিয়ে দেন, বারণ করেন। বলেন, ‘না, স্লিপটা রেখেই দাও। মনে হচ্ছে উইকেট পাব!’ আর ঠিক সেই বলেই ঝুলিতে আসে দ্বিতীয় শিকার!
ম্যাচ শেষে ক্রান্তি বললেন, ‘আজকের দিনটা আমার জন্য, আমার পরিবারের জন্য গর্বের। অভিষেক হয়েছিল শ্রীলঙ্কাতে। আর আজ এখানেই প্লেয়ার অফ দ্য ম্যাচ—এই মিলটা আমার কাছে খুবই স্পেশাল!’
ভারতের ২৪৭ রানের ইনিংসের পর (India’s total 247) পাকিস্তানকে ৪৩ ওভারে ১৫৯ রানে গুটিয়ে দেন ভারতীয় বোলাররা। গৌড়ের পাশাপাশি রেণুকা ঠাকুর, সাদিয়া ইকবাল, রামিন শামিমরা ভাগ করে নেন উইকেট। ব্যাটিংয়ে হারলিন দেওল (Harleen Deol) অল্পের জন্য অর্ধশতরান মিস করলেও দলের ইনিংস গড়েন তিনিই।
পরের ম্যাচে প্রতিপক্ষ দক্ষিণ আফ্রিকা (South Africa)। ভারতের মেয়েদের আত্মবিশ্বাস এখন তুঙ্গে। ক্রান্তির ভাষায়, ‘আমরা ইতিবাচক। যা করছি, তা নিয়েই খুশি। এখনও অনেক কিছু শেখার আছে।’
পুরুষদের এশিয়া কাপ (Asia Cup 2025) ঘিরে যখন ‘নো হ্যান্ডশেক’ নীতি, পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান বয়কট আর রাজনৈতিক টানাপড়েনে গরম, তখন মেয়েদের এই ম্যাচটা যেন অন্য বার্তা দিল—বিতর্কে নয়, ক্রিকেটে মন দাও। ক্রান্তি গৌড় শান্ত, সংযমী ভাষায় আর দুরন্ত পারফরম্যান্সে সেই ইঙ্গিতই স্পষ্টভাবে মেলে ধরলেন।