স্কোরলাইনে ম্যাচ একতরফা হলেও ভারতের ফিল্ডিংয়ে খুঁত ছিল। চারটি ক্যাচ ফসকেছে—যা উদ্বেগের।

দুরন্ত জেমাইমা
শেষ আপডেট: 22 December 2025 10:33
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিশ্বকাপের পর মানসিক ক্লান্তি, ছন্দ হারানোর গল্প—এসবের কোনও চিহ্নই নেই। ভাইজাগে সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টিতে (১ম T20I) শ্রীলঙ্কাকে আট উইকেটে হারিয়ে নতুন চক্রে আত্মবিশ্বাসী শুরু করল ভারতীয় মহিলা দল। বোলিংয়ে নিয়ন্ত্রণ, ব্যাটিংয়ে সাবলীলতা—দু’দিক থেকেই একতরফা আধিপত্য দেখালেন হরমনপ্রীত কৌরের (Harmanpreet Kaur) নেতৃত্বাধীন বাহিনী।
বোলিংয়ে বাঁধন, থমকে গেল শ্রীলঙ্কা
টস জিতে প্রথমে বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় ভারত। শিশিরের প্রভাব ছিল, আউটফিল্ড ভেজা—তবু শুরু থেকেই বোলাররা লাইনে বল রাখেন। শ্রীলঙ্কার ইনিংস বরাবরের মতো দাঁড়িয়ে ছিল অধিনায়ক চামারি আতাপাত্তুর (Chamari Athapaththu) কাঁধে। তিনটি বাউন্ডারিতে শুরুটা ঝলমলে হলেও একটি নিখুঁত ইনসুইঙ্গারে তাঁর বিদায়ের সঙ্গে সঙ্গেই গতি থমকে যায়।
এরপর উইকেট না পড়লেও রান ওঠেনি। ষষ্ঠ ওভার থেকে স্পিন আসতেই শ্রীলঙ্কা পুরোপুরি বাঁধা পড়ে। দীপ্তি শর্মা (Deepti Sharma) নিজের চেনা নিয়ন্ত্রণে ইনিংসের গতি ভেঙে দেন। অভিষেক ম্যাচে বৈষ্ণবী শর্মা (Vaishnavi Sharma) কোনও চাপ ছাড়া দুরন্ত বল করেন—চার ওভারে মাত্র ১৬ রান। শেষ পর্যন্ত বিশমি গুণরত্নে (Vishmi Gunaratne) ৩৯ রানে টিমকে টেনে তুলতে চাইলেও লঙ্কান ইনিংস থেমে যায় ১২১ রানে।
জেমাইমা-মান্ধানার ব্যাটে কাম তামাম
১২২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই শেফালি বর্মার (Shafali Verma) উইকেট হারায় ভারত। তবে তাতে কোনও অস্থিরতা চোখে পড়েনি। স্মৃতি মান্ধানা (Smriti Mandhana) ও জেমাইমা রদ্রিগেজ (Jemimah Rodrigues) ধীর গতিতে হলেও নিশ্চিতভাবে ম্যাচের রাশ নিজেদের দিকে টেনে নেন।
গতকালের খেলায় মহিলা টি-টোয়েন্টিতে ৪ হাজার রান পূর্ণ করেন মান্ধানা। তাঁর সঙ্গে ৫৪ রানের জুটি গড়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ আনেন জেমাইমা। স্মৃতি আউট হওয়ার পরই গিয়ার বদলান তিনি। এক ওভারেই ম্যাচ কার্যত শেষ করে দেন। ৬৯ রানের অপরাজিত ইনিংসের মন্ত্র একটাই: কোনও ঝুঁকি নয়—শুধু ফাঁক খোঁজা, রান তোলা।
জয়ের মধ্যেও বার্তা, ফিল্ডিং নিয়ে কড়া হরমন
স্কোরলাইনে ম্যাচ একতরফা হলেও ভারতের ফিল্ডিংয়ে খুঁত ছিল। চারটি ক্যাচ ফসকেছে—যা উদ্বেগের। ম্যাচের পর অধিনায়ক হরমনপ্রীত স্পষ্ট জানান, ভেজা মাঠ কোনও অজুহাত হতে পারে না। ব্যাট-বলে পারফরম্যান্সে সন্তুষ্ট হলেও ফিল্ডিংয়ে উন্নতির জায়গা যে বিস্তর, তা পরিষ্কার করে দেন তিনি।
শ্রীলঙ্কা যদিও সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি। কিন্তু শক্তিশালী দলের বিরুদ্ধে এই ভুলের খেসারত দিতে হতে পারে—এই সতর্কবার্তাই শুনিয়ে গেল প্রথম ম্যাচ। সব মিলিয়ে, বিশ্বকাপের পর নতুন পথে যাত্রা শুরু করল ভারত। কোনও হ্যাংওভার নয়, বরং পরিষ্কার বার্তা—টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রস্তুতিতে তারা একদম সঠিক ট্র্যাকে।