দিনের শেষে প্রশ্নটা থেকেই যাচ্ছে: শচীনের প্রতি অগাধ শ্রদ্ধাই তালিকার ভারসাম্য বদলে দিল? জায়গা পেলেন না বিরাট কোহলি?

ডি ভিলিয়ার্স ও বিরাট
শেষ আপডেট: 1 September 2025 15:21
দ্য ওয়াল ব্যুরো: একসঙ্গে ময়দানে নেমেছেন, খুনসুটিতে মেতে উঠেছেন, মাঠের বাইরে জীবন আর কেরিয়ারের টালমাটাল অবস্থায় পাশে দাঁড়িয়েছেন। খেলোয়াড় হিসেবেও জানিয়েছেন কুর্নিশ। বিভিন্ন মঞ্চে, বিভিন্ন সময়ে।
তবুও যখন তাঁর দেখা সেরা পাঁচ ক্রিকেটার বেছে নেওয়ার কথা উঠল, সেই তালিকায় বিরাট কোহলিকে ব্রাত্য রাখলেন এবি ডি ভিলিয়ার্স। ১৪ বছরের ঝলমলে কেরিয়ার। একাধিক কিংবদন্তির সঙ্গে খেলেছেন এবিডি (AB de Villiers)। কারও বিপক্ষে, কাউকে পেয়েছেন সতীর্থ হিসেবে।
সেই তিনিই যখন নিজের দেখা সেরা পাঁচ ক্রিকেটারের নাম নিলেন, তালিকায় জায়গা পেলেন জ্যাক ক্যালিস (Jacques Kallis), অ্যান্ড্রু ফ্লিনটফ (Andrew Flintoff), শেন ওয়ার্ন (Shane Warne), সচিন তেন্ডুলকর (Sachin Tendulkar) আর অপ্রত্যাশিতভাবে পাকিস্তানের মহম্মদ আসিফ (Mohammad Asif)। কিন্তু এতজনের ভিড়ে বেমালুম উধাও বিরাট কোহলি!
সম্প্রতি একটি পডকাস্টে তাঁকে প্রশ্ন করা হয়—সেরা পাঁচ ক্রিকেটারের নাম বলুন, যাঁদের সঙ্গে বা বিপক্ষে খেলেছেন। ব্যাটিং–বোলিং মিলিয়ে ক্রিকেট দুনিয়ার দুর্ধর্ষ সব নাম উঠে আসে ডিভিলিয়ার্সের ঠোঁটে। পরে আদিল রশিদ মনে করিয়ে দেন বিরাটের অনুপস্থিতি। যে কারণে ক্ষমাও চাইলেন তিনি। কিন্তু বাছাই করতে বসে নিরপেক্ষতাকে অস্বীকার করলেন না দক্ষিণ আফ্রিকার কিংবদন্তি ব্যাটার। সোজাসুজি বললেন, ‘ক্যালিস, ফ্লিনটফ, আসিফ, ওয়ার্ন আর সচিন। ভিড়ের মধ্যে সচিন নামলে সবকিছু থেমে যেত। ওকে খেলতে দেখা ছিল একেবারে অন্য ধরনের অভিজ্ঞতা!’ তারপর কোহলিকে উদ্দেশ করে জড়ে দেন, ‘বিরাট, সরি! সচিনের নাম বলতেই হল। আসলে এমন প্রশ্নের উত্তর দেওয়া সত্যিই খুব কঠিন!’
ব্যাখ্যায় উঠে এল আরও কিছু মজার তথ্য। যেমন, ক্যালিস সম্পর্কে মন্তব্য, ‘সেরা অলরাউন্ডার। হয়তো সর্বকালের সেরা ক্রিকেটারও। আসিফ ছিল আমার দেখা সেরা সিমার। ওয়ার্নের বিরুদ্ধে খেলতে ভালো লাগত। কঠিন লাগেনি, কিন্তু ওর ব্যক্তিত্বই আলাদা—ফ্লপি হ্যাট, সোনালি চুল, জিঙ্ক ক্রিম—সব মিলিয়ে দারুণ! আর ফ্লিনটফ তো বড় ম্যাচে বরাবর ভয়ঙ্কর। এজবাস্টনে ক্যালিসকে যে ইয়র্কারটা দিয়েছিল, ওটাই আমার দেখা সেরা!’
উল্লেখ্য, সম্প্রতি লেজেন্ডস টুর্নামেন্ট ‘ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়নশিপ অফ লেজেন্ডেসে’ও আলোচনার কেন্দ্রে ছিলেন এবি। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ফাইনালে ৬০ বলে ১২০ রানের ইনিংস প্রোটিয়াদের ট্রফি জিততে সাহায্য করে। সেই টুর্নামেন্টে তিনটি শতরান, একটি অর্ধশতরান মিলিয়ে ছ’ইনিংসে ৪২৯ রান, গড় ১৪৩! সঙ্গত কারণেই ‘প্লেয়ার অফ দ্য টুর্নামেন্ট’ নির্বাচিত হন।
তবে আপাতত আলোচনায় তাঁর ব্যাট নয়, মুখের কথা। কিন্তু দিনের শেষে প্রশ্নটা থেকেই যাচ্ছে: শচীনের প্রতি অগাধ শ্রদ্ধাই তালিকার ভারসাম্য বদলে দিল? জায়গা পেলেন না বিরাট কোহলি?