শেষ পর্যন্ত রবিবারের মঞ্চে চোখ থাকবে শুধু বাইশ গজে নয়, স্টেডিয়ামের আনাচে–কানাচেও। সূর্যদের ব্যাট-বলের পারফরম্যান্স জিতবে? নাকি রাজনৈতিক খচখচানি ছাপিয়ে যাবে ক্রিকেটকে?

হার্দিক ও তিলক
শেষ আপডেট: 28 September 2025 14:31
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দুবাই আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে আজ সাজো সাজো রব। ভারত–পাকিস্তান এশিয়া কাপ ফাইনাল (Asia Cup Final 2025)। প্রথমবারের মতো এই মঞ্চে মুখোমুখি দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী। টিকিট ‘সোল্ড আউট’! দর্শকের ঢল নামতে প্রস্তুত। অথচ এই উৎসবের আবহে উলটো ছবি ধরা পড়বে স্ট্যান্ডে। যেখানে বসে থাকতে দেখা যাবে না ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (BCCI) কোনও আধিকারিককে!
যদিও বিশেষজ্ঞদের মতে, এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই। এই সিদ্ধান্তও নতুন নয়। গ্রুপ পর্বের ম্যাচ থেকে শুরু করে সুপার ফোর পর্যন্ত একবারও বোর্ডের সেজো-মেজো কর্তার কোনও দলই দুবাই যাত্রা করেনি। ‘দৈনিক জাগরণে'র রিপোর্ট বলছে, গ্রুপ স্তরে প্রথম ভারত–পাক ম্যাচের আগেই বিসিসিআই দেশের আবহাওয়া বুঝে নিয়েছিল। সীমান্ত উত্তেজনা, পহেলগামের সন্ত্রাসবাদী হামলা, তারপর অপারেশন সিঁদুর—সব মিলিয়ে দেশে ঘনিয়ে ওঠে ‘বয়কটে'র ডাক। সেই সুরেই মাঠে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন শীর্ষকর্তারা।
কিন্তু তা বলে ফাইনালেও একই ছবি? আড়ালে নিছক প্রতীকী বয়কট, নাকি আরও গভীর কোনও অঙ্ক?
সূত্র বলছে, আজ মুম্বইয়ে ছিল বিসিসিআইয়ের বার্ষিক সাধারণ সভা AGM)। সেখানেই আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব তুলে নেন নতুন সভাপতি মিঠুন মনহাস (Mithun Manhas)। চেয়ার ছাড়েন রজার বিনি। সভায় উপস্থিত ছিলেন সচিব দেবজিত সাইকিয়া (Devajit Saikia), আইপিএল চেয়ারম্যান অরুণ ধুমল (Arun Dhumal)–সহ সমস্ত শীর্ষকর্তা। দুপুরে শুরু হওয়া বৈঠক তাড়াহুড়ো করে শেষ করা হয়, যাতে সন্ধ্যার ফ্লাইট ধরে দুবাই যাওয়া যায়। যাবতীয় পরিকল্পনা যখন শেষের পথে, জার্নি একরকম পাকা, তখনই নতুন প্রশাসনিক দল সিদ্ধান্ত নেয়—দুবাই যাত্রা ক্যানসেল! ফলে গ্রুপ লিগ, সুপার ফোরের মতো ফাইনালেও বিসিসিআইয়ের চেয়ার খালিই থাকতে চলেছে৷
তবে এতকিছুর মধ্যে শোরগোল বাড়াচ্ছে রাজনৈতিক ইঙ্গিত। একদিকে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড যখন মুখ ফিরিয়ে, তখনই এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের (ACC) প্রধান মহসিন নকভি (Mohsin Naqvi) কিন্তু দুবাই পৌঁছে গেছেন। তিনি ট্রফি তুলে দেবেন বিজয়ীদের হাতে। আবার মহসিনই পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং সেদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও বটে। ভারতের পক্ষ থেকে আগে থেকেই আপত্তি তোলা হয়েছে নকভির নানা উসকানিমূলক মন্তব্য, বিতর্কিত সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট নিয়ে। এখন প্রশ্ন—যদি ভারত ফাইনাল জেতে, সূর্যকুমার যাদব (Suryakumar Yadav) কি ট্রফি নিতে নকভির সঙ্গে একই মঞ্চে দাঁড়াবেন?
শুধু প্রশাসনিক বা রাজনৈতিক টানাপড়েন নয়, মাঠের ক্রিকেটও রীতিমতো নাটকীয়তায় ভরা। ভারতের পথচলা এতদিনে নিরঙ্কুশ। আট দলের লড়াইয়ে একটিও ম্যাচ হারেনি। পাকিস্তানকে কুপোকাত করেছে পরপর দু’বার—প্রথমে গ্রুপ লিগে ৭ উইকেটে, তারপর সুপার ফোরে। দু’বারই নায়ক অভিষেক শর্মা (Abhishek Sharma)। দ্বিতীয় দফায় ৭৪ আর ৭৫ রানের ঝোড় ইনিংস খেলেছেন।
তবু ফাইনাল আলাদা। পাকিস্তান কোনওভাবেই হাল ছাড়তে রাজি নয়। কোচ মাইক হেসন বারবার বলছেন, ‘ভারতকে চাপের মধ্যে রাখতে পারলেই সাফল্য।’ সেই লড়াইয়ের মধ্যেই বিসিসিআইয়ের অনুপস্থিতি আসলে অন্য বার্তা দিচ্ছে। একদিকে বোর্ডের নতুন প্রশাসনিক অধ্যায় শুরু, অন্যদিকে এশিয়ান কাউন্সিলের চেয়ারম্যান হিসেবে পাকিস্তানের মন্ত্রীর মঞ্চে উপস্থিতি। এমন পরিস্থিতিতে ভারতের শীর্ষকর্তারা মাঠে না গিয়ে নিঃশব্দে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করে দিলেন বলেই মনে করছে ক্রিকেট মহল।
শেষ পর্যন্ত রবিবারের মঞ্চে চোখ থাকবে শুধু বাইশ গজে নয়, স্টেডিয়ামের আনাচে–কানাচেও। সূর্যদের ব্যাট-বলের পারফরম্যান্স জিতবে? নাকি রাজনৈতিক খচখচানি ছাপিয়ে যাবে ক্রিকেটকে? বিসিসিআইয়ের শীর্ষকর্তাদের এই অনুপস্থিতি ইতিহাসে থেকে যাবে নিছক ‘বয়কটে'র প্রতীক হিসেবে? নাকি সত্যিই আড়ালে লুকিয়ে আছে বড়সড় কূটনৈতিক অঙ্ক? উত্তর মিলবে দিনের শেষে।