এই গ্যারি কার্স্টেনই ২০১১ সালে ভারতকে ওডিআই বিশ্বকাপ জিতিয়েছিলেন। তাঁর মতো অভিজ্ঞ কোচ যদি পাকিস্তানে ছ’মাসও টিকতে না পারেন, এই তথ্যটুকু বলে দেয় পিসিবির অন্দরমহলের পরিবেশ কতটা ভয়াবহ, বিষাক্ত।
.jpeg.webp)
গ্যারি কার্স্টেন
শেষ আপডেট: 22 March 2026 12:38
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিশ্বকাপজয়ী কোচ। গদিতে ছ’মাসও টিকলেন না।
গ্যারি কার্স্টেন (Gary Kirsten) সাদা বলের ক্রিকেটে পাকিস্তানের কোচের চেয়ার ছেড়েছিলেন ২০২৪ সালের অক্টোবরে—একটাও ওডিআই না খেলিয়ে! অদ্ভুত এই প্রস্থান নিয়ে এতদিন চুপ থাকলেও এবার মুখ খুললেন তিনি। শ্রীলঙ্কার হেডকোচ হিসেবে যোগ দেওয়ার পর একটি সাক্ষাৎকারে তুললেন পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (PCB) ও চেয়ারম্যান মহসিন নকভির (Mohsin Naqvi) বিরুদ্ধে একের পর এক মারাত্মক অভিযোগ।
‘এত হস্তক্ষেপ আগে কখনও দেখিনি!’
কার্স্টেনের কথায়, ‘যেটা সবচেয়ে বেশি অবাক করেছিল, সেটা হস্তক্ষেপের মাত্রা। এত নাক গলানো আগে কোনওদিন দেখিনি!’ বাইরের চাপ, প্রতিনিয়ত নেতিবাচক পরিবেশ—কোচিং ও ট্রেনিংকে প্রায় দুর্বিষহ করে তুলেছিল বলে জানালেন সৌরভ-সচিনদের প্রাক্তন হেডস্যার। জুড়ে দিলেন, ‘পারফরম্যান্স খারাপ হলে কোচের উপর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হত। কিন্তু তাঁকে আনা হয়েছে কেন? দলের উন্নতির জন্য। এবার সেই কোচকেই যদি প্রতিটি পরাজয় শেষে ‘বলির পাঁঠা’ বানানো হয়, সেটা কাজের কথা হতে পারে না!’
নির্বাচনের ক্ষমতাও কেড়ে নিল বোর্ড
কার্স্টেনের বক্তব্য, পাক ড্রেসিং রুমে থাকাটা ২০২৪ সালের টি-২০ বিশ্বকাপে ভারতের কাছে পরাজয়ের পর আরও কঠিন হয়ে পড়ে। তখন থেকে একের পর এক ক্ষমতা কেড়ে নেওয়া হয়। সবচেয়ে বড় ধাক্কা—নির্বাচন কমিটিতে হেডকোচের ভোটাধিকার বাতিলের ঘোষণা! যার জেরে, অস্ট্রেলিয়া সফরের দল বাছাই বা মহম্মদ রিজওয়ানকে অধিনায়ক হিসেবে নিয়োগ—কোনওটাতেই কার্স্টেনের মতামতের মূল্য ছিল না। যে কোচ টিমকে গড়তে এসেছেন, তাঁকেই দলগঠনের পরিকল্পনায় রাখা হচ্ছে না—এর চেয়ে অপমান আর কী হতে পারে? প্রশ্ন তুলেছেন গ্যারি।
গিলেস্পিও একই দুর্ভাগ্যের শিকার
শুধু কার্স্টেন নন—টেস্ট কোচ জেসন গিলেস্পির (Jason Gillespie) গল্পও প্রায় একইরকম। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ঘরের মাঠে ঐতিহাসিক টেস্ট সিরিজ জেতালেন। তবু ক্রমশ কোণঠাসা অবস্থা! শেষমেশ যে ঘটনায় তিনি সরে গেলেন—হাই-পারফরম্যান্স কোচ টিম নিলসেনকে তাঁর সঙ্গে কোনও কথা না বলে বরখাস্ত করা হল। একই বছর (২০২৪) ডিসেম্বর গিলেস্পির বিদায়। দুটো ঘটনার মধ্যে মিল একটাই—নকভির নেতৃত্বে পিসিবির প্রশাসনিক রাজনীতি ও পেশাদার কোচিং স্টাফের মধ্যে ভেঙে পড়া সম্পর্ক।
উল্লেখ্য, এই গ্যারি কার্স্টেনই ২০১১ সালে ভারতকে ওডিআই বিশ্বকাপ জিতিয়েছিলেন। তাঁর মতো অভিজ্ঞ কোচ যদি পাকিস্তানে ছ’মাসও টিকতে না পারেন, এই তথ্যটুকু বলে দেয় পিসিবির অন্দরমহলের পরিবেশ কতটা ভয়াবহ, বিষাক্ত।