সিরিজ হারের ক্ষত, এখন আকমলের মতো প্রাক্তন তারকাদের আক্রমণের জ্বালা সহ্য করেই মাঠে নামবেন পাকিস্তানের ক্রিকেটাররা।

নকভি ও আকমল
শেষ আপডেট: 18 March 2026 11:29
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সবাই একবাক্যে মেনে নিয়েছে, এই যদি প্রচ্ছন্ন আক্রমণ হয়, তাহলে প্রকট নিশানায় তো সব ছিন্নভিন্ন হয়ে যাবে!
আলোচনার কেন্দ্রে কামরান আকমল, পাকিস্তানের প্রাক্তন উইকেটরক্ষক। বাংলাদেশের কাছে ওডিআই সিরিজে লজ্জার পরাজয়! আর সেই হারের পর নিজেদের দেশের ক্রিকেটকে (Pakistan Cricket) ‘কমেডি সিরিজ’ বলে কটাক্ষ করলেন কামরান (Kamran Akmal)। ‘দ্য গেম প্ল্যান’ শো-তে একের পর এক চাঁচাছোলা মন্তব্য। যদিও আর সবকিছু ছাপিয়ে তাঁর একটিমাত্র কথাই আপাতত সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড় তুলেছে—‘দল জিততে পারছে না, তাহলে ট্রফি চুরি করে নেবে?’
বুঝতে অসুবিধে হচ্ছে না, নিশানায় পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের চেয়ারম্যান মহসিন নকভি। যিনি এশিয়া কাপের ট্রফি ভারতের হাতে না দিয়ে নিজের জিম্মায় রাখার জন্য ‘কুখ্যাত’। আকমল কি নাম না করে তাঁর দিকেই তির মেরেছেন? প্রশ্ন উঠছে ঠিকই। কিন্তু জবাবটাও পিঠোপিঠি কানে আসছে: হ্যাঁ, টার্গেট আসলে নকভি-ই! আকমলের সরাসরি কারও নাম না নিলেও কার্যত সর্বসম্মতিক্রমেই পিসিবি চেয়ারম্যানের (Mohsin Naqvi) দিকেই ইঙ্গিত হিসেবে ধরা হচ্ছে। গত সেপ্টেম্বরে দুবাইয়ে এশিয়া কাপের পর নকভি মঞ্চ থেকে ট্রফি নিয়ে চলে যান—ভারত সেটা তাঁর হাত থেকে নিতে অস্বীকার করায়। ঘটনার পর থেকে ‘ট্রফি চোর’ ভাইরাল তকমা নকভির নামের সঙ্গে জুড়ে গিয়েছে।
Kamran Akmal takes Dig at Mohsin Naqvi 😱😱
"Aap Jitenge nahi, Team se jeetenge nahi toh ICC event Trophy Chori karke le aani hai??"
Indirectly calls Moshin Naqvi - Trophy Chor 👀 pic.twitter.com/TAAFhoEN70— Rohit (@Iam_Rohit_G) March 17, 2026
কী বলেছেন আকমল?
আকমলের কথায়, ‘দ্বিপাক্ষিক সিরিজ না জিতলে আইসিসি ইভেন্টে কী করবে? ট্রফি চুরি করবে? খেলতে হবে, জিততে হবে, সঠিক দল বানাতে হবে—এটাই সত্যি!’ যদিও শুধু সিরিজ হারের সমালোচনা নয়। পাশাপাশি পাকিস্তানের নির্বাচন নীতি নিয়েও ক্ষোভ উগরে দেন আকমল। জানান, বাংলাদেশ সিরিজে খেলতে নামা শামিল হোসেন ও গাজি ঘোরির মতো নতুন মুখ লিস্ট এ ক্রিকেটে এক হাজার রানও করেননি। দু-তিনটে ঘরোয়া মরসুম না খেলেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সুযোগ পেয়েছেন। এটা কতটা যৌক্তিক?
আকমলের কথায়, ‘কী ভাবছেন আপনারা? এত মাথা ঘামাচ্ছেন কেন? হেসে উপভোগ করুন। আমি তাই করি—কারণ জানি, এটা আসলে কী। এটা এখন কমেডি সিরিজ!’
মীরপুরে তৃতীয় ওডিআইয়ে পাকিস্তানের জয়ের জন্য দরকার ছিল ২৯১ রান। শেষ ওভারে মাত্র ১৪—কিন্তু বিতর্কিত রিভিউ ও শেষ বলে ব্যর্থতায় ১১ রানে পরাজয়! এর আগে টি-২০ বিশ্বকাপেও পাকিস্তান নকআউটে উঠতে পারেনি। এরপর ২৬ মার্চ শুরু হচ্ছে পাকিস্তান সুপার লিগ (PSL)। সিরিজ হারের ক্ষত, এখন আকমলের মতো প্রাক্তন তারকাদের আক্রমণের জ্বালা সহ্য করেই মাঠে নামবেন পাকিস্তানের ক্রিকেটাররা।