গোটা ইস্যু নিয়ে বিসিসিআই এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি। তবে অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনায় এই বিতর্ক সহজে থামবে বলে মনে হয় না।

লক্ষ্মণ শিবরামকৃষ্ণন
শেষ আপডেট: 20 March 2026 18:14
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিসিসিআইয়ের ধারাভাষ্য প্যানেলে ২৩ বছর কাজ করলেন। কিন্তু টস পরিচালনা বা পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে কখনো ডাক পাননি। শেষমেশ মারাত্মক ও স্পর্শকাতর অভিযোগ তুলে ইস্তফা দিলেন প্রাক্তন ভারতীয় লেগস্পিনার লক্ষ্মণ শিবরামকৃষ্ণন (Laxman Sivaramakrishnan)। এক্স হ্যান্ডেলে পোস্টে লিখলেন— বিসিসিআই তাঁর সঙ্গে ‘গায়ের রঙের ভিত্তিতে বৈষম্য’ করেছে।
আসল অভিযোগ কী?
শিবরামকৃষ্ণন লিখেছেন, ‘বিসিসিআইয়ের ধারাভাষ্য থেকে অবসর নিচ্ছি!’ পরের পোস্টে প্রশ্ন উত্থাপন—২৩ বছরে লম্বা কেরিয়ারে কেন একবারও তাঁকে টস বা পুরস্কার বিতরণীর দায়িত্ব দেওয়া হয়নি? নতুনরা এসে পিচ রিপোর্ট, টস, প্রেজেন্টেশন সব করে গেলেন। তাঁর সঙ্গেই কেন এই বঞ্চনা?
I am retiring from commentary for BCCI
— Laxman Sivaramakrishnan (@LaxmanSivarama1) March 20, 2026
পাল্টা জবাব দিলেন এক ব্যবহারকারী। উত্তরে শিবরামকৃষ্ণন জানালেন—কারণটা ‘কালার ডিসক্রিমিনেশন’, অর্থাৎ, গায়ের চামড়ার রঙের ভিত্তিতে বৈষম্য। রবি শাস্ত্রী কোচ থাকার সময়ও পরিস্থিতি বদলায়নি বলে ইঙ্গিত দিলেন।

গোটা ইস্যুতে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রতিক্রিয়া দুই মেরুতে। কেউ বললেন, এটা গুরুত্বপূর্ণ অভিযোগ। কারও বক্তব্য, এভাবে প্রকাশ্যে না বলে ভেতরে সমাধান খোঁজা উচিত ছিল।
অশ্বিনের হতাশা
রবিচন্দ্রন অশ্বিন (Ravichandran Ashwin) শিবরামকৃষ্ণনের পোস্ট উদ্ধৃত করে লিখলেন—‘এই আইপিএলে কেন নয়?’ মানে, এখনই কেন ছাড়লেন—মরসুম শুরুর ঠিক আগে? অশ্বিনের এই প্রতিক্রিয়ায় স্পষ্ট, বিদায়ের সিদ্ধান্ত তাঁকে মর্মাহত করেছে।
If I have not been used for TOSSES and PRESENTATION for 23 years and new comers come in do pitch report Tosses Presentation even when Shastri was coaching, what do you think could be the reason
— Laxman Sivaramakrishnan (@LaxmanSivarama1) March 20, 2026
কে এই শিবরামকৃষ্ণন?
আটের দশকে ভারতের হয়ে ৯ টেস্ট ও ১৬ ওডিআই খেলেছেন। ১৯৮৪ সালে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ১২ উইকেট নিয়ে ম্যাচ জেতানো ছিল তাঁর কেরিয়ারের সেরা মুহূর্ত। ১৯৮৫ সালে অস্ট্রেলিয়ায় বেনসন অ্যান্ড হেজেস বিশ্বকাপে ভারতের সর্বোচ্চ উইকেটশিকারী—সুনীল গাভাসকরের (Sunil Gavaskar) নেতৃত্বে পাকিস্তানকে ৮ উইকেটে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ভারত। ফাইনালে পাকিস্তানকে ১৭৬/৯-এ আটকাতে বড় ভূমিকা রেখেছিলেন তিনি। অবসরের পর আইসিসি ক্রিকেট কমিটিতে খেলোয়াড় প্রতিনিধি ছিলেন। ২০০০ সালে ধারাভাষ্যকার হিসেবে যাত্রা শুরু, ২৩ বছর পর এই বিতর্কিত বিদায়।
উল্লেখ্য, গোটা ইস্যু নিয়ে বিসিসিআই এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি। তবে অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনায় এই বিতর্ক সহজে থামবে বলে মনে হয় না।