সৌভাগ্যবশত, তাঁর বেড়ে ওঠার অনেকটা পর্বজুড়ে ছিল লাল বলের লড়াই। কারণ আগে ঘরোয়া ক্রিকেট খেলে ওয়ান ডে টিমে সুযোগ পাওয়া যেত। সেখান থেকে টেস্টে। রোহিতও এই ফর্মুলা মেনেই উঠে এসছেন।

রোহিত শর্মা
শেষ আপডেট: 6 June 2025 16:42
দ্য ওয়াল ব্যুরো: তিনি টেস্ট থেকে অবসর নেওয়ার পর সরব তামাম ক্রিকেট দুনিয়া। কেউ সাধুবাদ জানিয়েছেন, কেউ সন্দেহের বীজ খুঁজেছেন।
কিন্তু কী বলেছে রোহিত শর্মার পরিবার? তাঁর বাবা, গুরুনাথ শর্মা, আবাল্য ক্রিকেটভক্ত যিনি, কী জানিয়েছেন?
চেতেশ্বর পূজারার স্ত্রী পূজা পূজারার আত্মজীবনী ‘দ্য ডায়েরি অফ আ ক্রিকেটার্স ওয়াইফে’র মোড়ক উন্মোচনের অনুষ্ঠানে সম্ভবত প্রথমবারের জন্য টেস্ট ক্রিকেটকে বিদায় নিয়ে প্রকাশ্যে মুখ খুললেন রোহিত শর্মা। বললেন, ‘আমার বাবা লাল বলের ক্রিকেটকে সম্মান করেন। এটা ঠিক যে, আমার টেস্ট ক্রিকেট থেকে সরে যাওয়ার সিদ্ধান্তে তিনি হতাশ। কিন্তু এর পাশাপাশি বাবা খুশিও হয়েছেন।‘
কীভাবে তাঁর পরিবার ছেলেবেলা থেকে পাশে দাঁড়িয়েছেন? প্রশ্নের জবাবে রোহিতের উত্তর, ‘জন্ম থেকে আজ পর্যন্ত বাবা-মায়ের সাহায্য অপরিসীম। জানি আমার ও ভাইয়ের জন্য জন্য তাঁরা কতটা আত্মত্যাগ করেছেন।‘ এরপর যোগ করেন, ‘এখন যখন বসে বাবা-মায়ের কথা ভাবি তাঁরা কোন পরিস্থিতির মোকাবিলা করেছেন, তখন তাঁদের সম্মান জানানো ছাড়া উপায় থাকে না। ওই বয়সে হয়তো বুঝিনি। কিন্তু এখন চিন্তা করলে সবকিছু বুঝতে পারি।‘
কীভাবে ক্রিকেটের প্রতি ভালবাসা দুই পুত্রের মধ্যে চারিয়ে দিয়েছেন গুরুনাথ? ছেলেবেলার কথা স্মরণ করে রোহিত বলেন, ‘বাবা কাজ করতেন পরিবহন দফতরে। তিনি আত্মত্যাগ করেছেন, যাতে আমরা নিজেদের জীবন উপভোগ করতে পারি। বাবা প্রথম দিন থেকে টেস্ট ক্রিকেটের অন্ধ ভক্ত। নয়া জমানার খেলা তাঁর ঠিক পছন্দ নয়।‘
আর সেই অপছন্দের নমুনা কেমন? জানাতে গিয়ে রোহিত বলেন, ‘এখনও মনে আছে, যেদিন আমি একদিনের ম্যাচে ২৬৪ রান করলাম, তাঁর বক্তব্য ছিল: ‘আচ্ছা, ঠিক আছে, ভাল খেলেছ।‘ বিশ্বরেকর্ড নিয়ে তেমন কোনও উৎসাহ বা উচ্ছ্বাস দেখিনি। কিন্তু যখন আমি টেস্টে ৩০ কি ৪০ কি ৫০ করতাম, তাই নিয়ে খুঁটিয়ে আলোচনা চালাতেন। টেস্ট ক্রিকেট নিয়ে বাবার এতটাই ভালবাসা ছিল!’
সৌভাগ্যবশত, তাঁর বেড়ে ওঠার অনেকটা পর্বজুড়ে ছিল লাল বলের লড়াই। কারণ আগে ঘরোয়া ক্রিকেট খেলে ওয়ান ডে টিমে সুযোগ পাওয়া যেত। সেখান থেকে টেস্টে। রোহিতও এই ফর্মুলা মেনেই উঠে এসছেন। ইদানীং এই চক্রটা বদলে গিয়েছে। তা ভাল না মন্দ—জানা নেই। কিন্তু এই পরিবর্তন যে কিছুটা হলেও তাঁকে বিষণ্ণ করেছে, মনের ভাব না লুকিয়েই জানিয়ে দিলেন রোহিত শর্মা।