ধোনির ব্যক্তিত্বের আরেকটা মজার দিক উঠে এল এই আলোচনায়, যার কেন্দ্রে—মোবাইল ফোন। নিজেই মুচকি হেসে জানালেন, ফোনে কথা বলতে বেশ অস্বস্তি বোধ করেন।

ধোনি
শেষ আপডেট: 4 February 2026 15:08
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নেওয়ার পর অনেক প্রাক্তন তারকারই অনিবার্য গন্তব্য কমেন্ট্রি বক্স। কিন্তু সেই পরিচিত পথে হাঁটতে নারাজ মহেন্দ্র সিং ধোনি (MS Dhoni)। অকপটে জানালেন, কমেন্ট্রি তাঁর জন্য নয়—কারণ এই কাজটা যতটা সহজ দেখায়, বাস্তবে তার চেয়ে অনেক বেশি সূক্ষ্ম আর কঠিন।
কেন কমেন্ট্রি বক্সে বসতে চান না?
এক ইউটিউব আলোচনায় সম্প্রচারক যতীন সাপ্রুর (Jatin Sapru) সঙ্গে কথোপকথনে ধোনি বেশ জোর দিয়েই বলেন, ‘কমেন্ট্রি খুবই কঠিন কাজ। খেলার বর্ণনা আর কাউকে সমালোচনা করে ফেলার মাঝখানে একটা খুব সূক্ষ্ম সীমারেখা আছে।’তাঁর মতে, অনেক সময় অনিচ্ছাকৃতভাবেই সেই সীমা লঙ্ঘন হয়ে যেতে পারে। টিম ইন্ডিয়ার প্রাক্তন অধিনায়কের যুক্তি সহজ। মাঠে যারা খেলছে, তারা সবাই নিজের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করে। সেই সময় ধারাভাষ্যের চেয়ারে বসে কোনও ক্রিকেটারকে কাঠগড়ায় তোলা তাঁর স্বভাবের সঙ্গে যায় না। ‘আপনি যদি মনে করেন কিছু ভুল হচ্ছে, সেটা বলতেই পারেন। কিন্তু এমনভাবে বলা দরকার, যাতে কেউ ব্যক্তিগতভাবে আঘাত না পায়। বিশেষ করে দল হারলে, তার পেছনে বহু কারণ থাকে। সেগুলো ব্যাখ্যা করাটাই আসল শিল্প!’ স্পষ্ট বক্তব্য মাহির।
তিনটি আইসিসি ট্রফিজয়ী অধিনায়ক (ICC titles) হিসেবে অভিজ্ঞতা বিপুল হলেও, কমেন্ট্রির আরেকটা দিক তাঁকে পিছিয়ে দেয়—পরিসংখ্যান! ধোনি নিজেই স্বীকার করলেন, সংখ্যার সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক খুব একটা গভীর নয়। রসিকতার ছলে সহাস্য মন্তব্য, ‘অনেকে আছেন, যাঁরা শুধু ভারতীয় দল নয়, গোটা ক্রিকেট ইতিহাসের পরিসংখ্যান মুখস্থ বলে দিতে পারেন। আমি সেরকম নই। আমার নিজের স্ট্যাটস জিজ্ঞেস করলেও আমি একটু ভাবতে বসি!’
‘আমি বেশি শুনি, কম বলি’—ধোনির দর্শন
ক্রিকেট হোক বা জীবন—নিজেকে বক্তার চেয়ে শ্রোতা হিসেবেই বেশি দেখেন ধোনি। তাঁর কথায়, ‘আমি খুব ভালো শ্রোতা। যে বিষয়ে জানি না, সে বিষয়ে আমি কথা বলি না। বরং শুনে শিখতে পছন্দ করি।’এই স্বভাব তাঁকে আলাদা করে তুলেছে বলে মনে করেন অনেকেই।
ধোনির মতে, সব সময় আলাদা করে উপদেশ চাইতে হয় না। কথোপকথনের মধ্যেই অনেক দরকারি কথা ভেসে আসে। সেগুলো থেকে নিজের জন্য যেটা কাজে লাগে, সেটা বেছে নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। যা তাঁকে মাঠে ঠান্ডা মাথার সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করেছে—সেটা হতে পারে ২০০৭ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ (T20 World Cup) কিংবা ২০১১ একদিনের বিশ্বকাপ (ODI World Cup) ফাইনাল।
ফোনে কথা বলা কেন এড়িয়ে চলেন?
ধোনির ব্যক্তিত্বের আরেকটা মজার দিক উঠে এল এই আলোচনায়, যার কেন্দ্রে—মোবাইল ফোন। নিজেই মুচকি হেসে জানালেন, ফোনে কথা বলতে বেশ অস্বস্তি বোধ করেন। ‘আমি সামনাসামনি বসে কথা বলতে ভালোবাসি। ফোনে কারও মুখ দেখতে পাই না। তাই খুব অদ্ভুত লাগে!’ মন্তব্য ধোনির। আগামীতে এই অভ্যাস বদলাতে চান? উত্তরে মাহির চেনা স্টাইল—‘উন্নতি করতে চাই বটে, কিন্তু ভালোই হয়েছে, যে এখনও করিনি।’